বাংলাদেশের ৬৪ জেলার গণহত্যা, গণকবর ও বধ্যভূমি এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম
Original price was: 1,200.00৳ .1,000.00৳ Current price is: 1,000.00৳ . & Free Shipping
| Title | বাংলাদেশের ৬৪ জেলার গণহত্যা, গণকবর ও বধ্যভূমি এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম |
| Author | আবু সাঈদ |
| Publisher | Swapno71 Prakashan |
| ISBN | 978-984-518-019-1 |
| Edition | 1st Published, 2025 |
| Number of Pages520 | 520 |
| Country | Bangladesh |
| Language | English |
Description
বাংলার ইতিহাস হাজার বছরের শৌর্য বীর্য ইতিহাস। খ্রিস্টপূর্ব যুগ থেকে মোগল সাম্রাজ্য। ব্রিটিশ ঔপনিবেশ শাসন থেকে পাকিস্তান। দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানের বর্বরোচিত গণহত্যার বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও দুই কিংবা চার লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব ও অহংকারের। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন। আমাদের অস্তিত্ব। অথচ ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর আমরা দেখলাম একদল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করতে। সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার করে ছড়িয়ে দেওয়া হলো মুক্তিযুদ্ধকে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নানা ধরনের ন্যারেটিভ তৈরি করে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হলো। কিছু মিথ তৈরি করে বুঝানো হলো মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটা ভুল। ভারতের ষড়যন্ত্র। এই নিয়ে তুমুল বির্তক সৃষ্টি হলো। নানাজনের নানা অপব্যাখা চলতে লাগে। কেউ কেউ আবার মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা ‘গণ্ডগোল’ ও ‘রাতারাতি’ বলা শুরু করে এবং অনেকেই সচেতনভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে টেলিভিশনের টকশোতে এমন এমন তথ্য-উপাত্ত হাজির করতে লাগল, যা শুনে মর্মাহত। একটি রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে যে দেশ পাওয়া, সেই দেশের ইতিহাস, সেই দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিয়ে হাস্যকর পরিস্থিতি তৈরি করা জাতি মনে হয় আমরাই একমাত্র।
নিরেট একটা সত্য তথ্য আজকাল প্রকাশ করতেও ভয় পায়। ৩০ লাখ শহীদের কথা বলতে সন্দেহ জাগে। এমন কী আমাদের পাঠ্যপুস্তকে ৩০ লাখের পরিবর্তনে ‘লাখ লাখ’ শব্দ যুক্ত করে। ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বলে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করা হয়—এসব দেখে, ভাবলাম, দীর্ঘ দিন ধরে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা, মুক্তিযোদ্ধাদের একবারে কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের কথা শোনা, মুক্তিযুদ্ধের নিয়ে শত শত তথ্য সংগ্রহ এবং তা নিয়ে লেখালেখি ও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশ করা—এসব কী তবে বৃথাই যাবে!
তাই নতুন করে পুরোদমে শুরু করলাম বাংলাদেশের ৬৪ জেলার গণহত্যা, গণকবর, বধ্যভূমি এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিয়ে বইটি লেখার। জানিয়ে রাখি, ২০১৮ সালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ত্রৈমাসিক স্বপ্ন ’৭১ এর ‘গণহত্যা সংখ্যা’য় সারাদেশের ৫০০টি গণহত্যা, গণকবর ও বধ্যভূমি নিয়ে একটা দীর্ঘ লেখা লিখেছিলাম। এরপর ২০১৯ সালে প্রথম আলোর সেই সময়ের সহকর্মী রাশেদুল আলম রাসেল ভাই বলেন, ‘আমাদের অনলাইনে তো ধারাবাহিকভাবে এগুলো লিখতে পারিস।’ রাজি হয়ে গেলাম। মনে করলাম, অনলাইনে লিখলে অনেকেরই কাজ লাগবে। গবেষকরা সহজে পেয়ে যাবেন। সত্যি-ই সেটাই হলো। অনেকেই আমাকে ইমেইল করে, ফোন করে ধন্যবাদ জানালেন। টানা ৩২ দিন ৩২টি পর্বে ৬৪ জেলার গণহত্যা, গণকবর ও বধ্যভূমি লেখাগুলো প্রকাশিত হলো।
‘বাংলাদেশের গণহত্যা’ নিয়ে ইতিমধে্য অসংখ্য বই প্রকাশিত হয়ছে। তারপরও আমার এই বই কেন? আমি প্রায় ১০ বছর ধরে বিভিন্ন বইপত্র, নানা জায়গায় ঘুরে, নানা তথ্য সংগ্রহ করে ৬৪ জেলার গণকবর ও বধ্যভূমিগুলোকে এক জায়গায় নিয়ে আসার চেষ্টা করেছি, যা নতুনভাবে পুরোনো ইতিহাসকে তুলে ধরা। এই বইয়ের প্রতিটি তথ্য-উপাত্ত সঠিকভাবে যাচাই বাছাই করে লেখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। এক্ষেত্রে আমার নিজস্ব কোনো মতামত নেই।
বাংলাদেশের গণহত্যা এখনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলেনি। এটা আমাদের জন্য বড় বেদনাদায়ক। অথচ, বাংলাদেশের গণহত্যা বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ, বৃহৎ গণহত্যা। এর স্বীকৃতির জন্য আমরা বেশ কয়েক বছর ধরে নানা উদ্যোগ নিচ্ছি। আন্তর্জাতিক সেমিনার, বই প্রকাশনা করা, আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরার নানা প্রচেষ্টা। সেই প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ এই বইটি।
বইয়ে ১০টি অধ্যায় রয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে বাংলাদেশের জন্ম হুট করে যে হয়নি, বহু সংগ্রাম, ত্যাগ তিতিক্ষা, আত্মত্যাগের মাধ্যমে পাওয়া, তা তুলে ধরবার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। দেশভাগের পর কাশ্মীর যুদ্ধ, কলকাতা ও নোয়াখালী দাঙ্গা, ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রুন্ট সরকার, ৬৪-এর দাঙ্গা, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন ও মার্চের উত্তাল দিনগুলো সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেছি।
দ্বিতীয় অধ্যায় আলোচনা করেছি—গণহত্যার সংজ্ঞা, গণহত্যার সনদ, সনদের গুরুত্ব, জাতিসংঘের গণহত্যা প্রতিরোধবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা রাষ্ট্রগুলো, বাংলাদেশের গণহত্যার সময়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শারীরিক নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের ধরণ এবং সেই সঙ্গে আলোচনা করেছি বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের গণহত্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লেমকিন ইনস্টিটিউটের বক্তব্য।
তৃতীয় অধ্যায়, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের সেনা অভিযানের সাংকেতিক নাম বা কোডনেম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট।’ এই অপারেশন সার্চলাইট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। এই আলোচনা ফুটে তুলে চেষ্টা করেছি, বাংলাদেশের গণহত্যা ছিল একটি সুপরিকল্পিত। এই পরিকল্পনার অনেকের মনে করেন ১৯৭১ সালের ১৮ মার্চের এক সপ্তাহে আগে। মেজর জেনারেল খাদিম হুসাইন রাজা আ স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ঔন কান্ট্রি ইস্ট পাকিস্তান, ১৯৬৯-১৯৭১ বইয়ে লিখেছেন তাঁর বাসায় রাও ফরমান আলীর সঙ্গে নিয়ে অপারেশন সার্চলাইটের খসড়া তৈরি করেন।
চতুর্থ অধ্যায়, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং তাদের সহযোগী সংগঠন আল-বদর, রাজাকার ও আল-শামস এক ভয়াবহ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত ছিল। তারা দেশের ৬৪ জেলাকে একটা বর্বর আর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ভূমিতে পরিণত করেছিল। দেশের ৬৪ জেলায় এই বধ্যভূমিগুলো এখনো অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। গণহত্যা জাদুঘরের জরিপে এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার গণহত্যা, গণকবর, বধ্যভূমি ও নির্যাতন কেন্দ্রের তথ্য পাওয়া গেছে। আমি এই বইয়ে চেষ্টা করেছি, বিভিন্ন বই, পত্রপত্রিকা ও প্রত্যক্ষ পরিদর্শনের থেকে পাওয়া ৬৪ জেলার গণকবর ও বধ্যভূমিগুলো তথ্য তুলে ধরতে। এখনো যা আছে, তাই চূড়ান্ত নয়, আরও অনাবিষ্কৃত রয়েছে।
পঞ্চম অধ্যায়, বাংলাদেশের গণহত্যা অন্যতম নির্মম হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন নারীরা। তাঁদের ওপরে চরম অসভ্যতা, নিষ্ঠুরতা, পাশবিকতা ও বর্বরতা নিয়ে এই অধ্যায় আলোচনা করেছি। সেই সঙ্গে বাংলার সূর্য সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকাণ্ডের বিষয়।
ষষ্ঠ অধ্যায়, বাংলাদেশর স্বাধীনতা যুদ্ধে জনমত গঠনের জন্য অন্যতম ভূমিকা রাখে গণমাধ্যম। বাংলাদেশের ভয়াবহ, বিভীষিকাময় গণহত্যার ঘটনাকে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি গুরুত্বর্পূণ প্রতিবেদন তুলে ধরেছি।
সপ্তম অধ্যায়, ১৯৭১ সালে গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত এমন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীদের কথা তুলে ধরেছি। তাঁদের বক্তব্য ফুটে উঠেছে, বাংলাদেশের গণহত্যার ভয়াবহ চিত্র।
অষ্টম অধ্যায়, বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য গণহত্যাগুলো সঙ্গে তুলনা ও বিশ্লেষণ করা।
নবম অধ্যায়, গণহত্যার ফলে এদেশের মানুষের ওপর যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। সেই মনস্তাত্ত্বিক ভাবনা তুলে ধরা।
দশম অধ্যায় আলোচনা করা হয়েছে, ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও বিচার কার্যকর নিয়ে। এখানে চেষ্টা করেছি, আন্তর্জাতিকভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও বিচার কীভাবে সম্পূর্ণ হয়েছিল এবং বাংলাদেশে যুদ্ধপরাধীদের বিচার ও কার্যকর।
বাংলাদেশের ৬৪ জেলার গণহত্যা, গণকবর ও বধ্যভূমি এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বইটি প্রকাশের আগে অত্যন্ত সুন্দরভাবে পর্যালোচনা করা, নানা বিষয় তথ্য ও পরামর্শ দেওয়া, ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা ইতিহাসবিদ ও গবেষক শ্রদ্ধেয় ড. একেএম শাহনাওয়াজ স্যারকে। বইটি প্রকাশের জন্য নানাভাবে সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন লেখক ও গবেষক প্রিয়জিৎ দেবসরকার, শিশুসাহিতি্যক সাইদুজ্জামান রওশন, গবেষক ও আলোকচিত্রী সাহাদাত পারভেজ, সাংবাদিক রাশেদুল আলম রাসেল ও কবিবন্ধু নর্মদা মিথুন—তাঁদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা। পাঠকরা এই বইটি পড়ে সমৃদ্ধ হলে, আমার শ্রম সার্থক হবে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা সক্রিয় অংশ নিয়েছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন, আত্মাহুতি দিয়েছেন সেইসব দেশপ্রেমিকদের আত্মার প্রতি জানাই বিন্রম শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
আবু সাঈদ
আদাবর, ঢাকা
abusayedone@gmail.com
Only logged in customers who have purchased this product may leave a review.






Reviews
There are no reviews yet.