ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারী ২০১৯ | ০৪ : ১১ মিনিট

Benjamin Franklinউত্তর আমেরিকার দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States of America)।গ্রেট ব্রিটেন রাজ্য থেকে স্বাধীনতা লাভ করে ৩ সেপ্টেম্বর,১৭৮৩। এই দেশটি জনক মধ্যে একজন বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন (৬ই জানুয়ারি ১৭০৬ – ১৭ই এপ্রিল, ১৭৯০)।তিনি শুধু রাজনীতিবিদই ছিলেন না,একাধারে ছিলেন একজন সফল লেখক,চিত্রশিল্পী, বিজ্ঞানী, সঙ্গীতজ্ঞ, উদ্ভাবক, কৌতুকবিদ,গণআন্দোলনকারী ও কূটনীতিক।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে জনবহুল শহর বস্টনে জন্ম এই মহান গুণীর। দাদা জেমসের সঙ্গে লন্ডনে New England Quralt পত্রিকা চালাতেন।১৭৩০ সালে Pensilvaniya Gazzette পত্রিকা প্রকাশ করতেন। বিয়ে করেন ডবেরা নামে এক বিদুষী নারীকে।

তিনি ১৭৩১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ফিলাদেলফিয়া পাব্লিক লাইব্রেরি ।১৭৩২ সালে পুওর রিচারড আলামানক চালু করেন।পদার্থবিজ্ঞানে তাঁর অবদান বেশ উল্লেখযোগ্য। তিনি তড়িৎ সংক্রান্ত, বজ্রনিরোধক দণ্ড, বাইফোকাল লেন্স,ফ্রাঙ্কলিনের চুলা, অডোমিটার, ফ্রাঙ্কলিন হারমোনিকা ইত্যাদী উদ্ভাবন করেন।

১৭৪৭ সালে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক বিদ্যুৎ মতবাদ প্রচার করেন তিনি। যা উচ্চপ্রশংসিত হয়। আকাশের চমকানো বিদ্যুৎ আর আমাদের ঘরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ যে একই জিনিস তা জানতেন না তখনকার বিজ্ঞানীরা। বেঞ্জামিন প্রমাণ তা করে দেখান।

১৭৫২ সালের ১৫ জুন তিনি প্রচণ্ড এক ঝড়ো বাতাসে বিপজ্জনক এক পরীক্ষা করে বসেছিলেন।সে রাতে ছিল প্রবল বাতাসের আর বৃষ্টি। তখন তিনি উড়িয়ে দেন রেশমি কাপড়ের তৈরি এক ঘুড়ি। ঘুড়িতে ব্যবহার করলেন রেশমি সুতা। সুতার শেষ মাথায় মানে হাতের কাছে বেঁধে দিলেন ধাতুর তৈরি এক চাবি। আর চাবিটা ছিল একদম তাঁর হাতের কাছে। রেশমি সুতা নেওয়ার কারণ হলো-রেশমি কাপড় ইলেকট্রন পরিবহন করতে পারে ভালো। রেশমি কাপড়ে কাচের কাঠি ঘষে নিলে তা ছোট ছোট কাগজ টুকরো বা কাঠের টুকরোকে আকর্ষণ করে তা প্রচলিত ছিল অনেক আগেই। তার ওপর ছিল বৃষ্টির জলে ভিজে পরিবহন ক্ষমতা গেল বেড়ে। ফ্রাঙ্কলিন জানতেন না কত বড় বিপদের কাজ করছেন তিনি। আকাশে বিদ্যুৎ চমকানোর সঙ্গে সঙ্গে সে বিদ্যুৎ ভেজা সুতো বেয়ে নেমে এল চাবির মাঝে। চাবির মধ্যে বয়ে গেল প্রবল বিদ্যুতের ঝলক। বেঞ্জামিনের ভাগ্য যে কী পরিমাণ ভালো ছিল ভাবতেই অবাক লাগে! কারণ এ কাজে দু’জন মারা গিয়েছিল। আকাশে যে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ থাকে! প্রায় আড়াইশো বছর আগে পরীক্ষাটি করেছিলেন বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন।

ফ্রাঙ্কলিনের লাইটনিং রড ছিল প্রথম কোনো ডিভাইস,যেখানে মানুষ তাদের বৈদ্যুতিক জ্ঞানকে ব্যবহার করেছে বাস্তব জীবনের কোনো সমস্যা সমাধানের কাজে। এর মাধ্যমে দূর হয় বজ্রপাত নিয়ে মানুষের কুসংস্কারও। এছাড়া এটি ঘর-বাড়ির জন্য, বিশেষ করে সেসময়ের গির্জাগুলোর জন্য একপ্রকার আশীর্বাদস্বরূপ ছিল।

গ্রন্থণায় : অমিত কুমার বসুনীয়া স্নাতকোত্তর ছাত্র, বাংলদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। amithstu13@gmail.com

Comments

comments