ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারী ২০১৯ | ০৪ : ১০ মিনিট

নাচোল কৃষক বিদ্রোহ নিয়ে লিখেছন মুক্তবন্ধু জীবন রায়

Nachel farmarনাচোল চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি উপজেলা। এই উপজেলায় শুরু হয় সাঁওতাল কৃষকদের অধিকার আদায়ের বিদ্রোহ। যার নামানুসারে এটি নাচোল কৃষক বিদ্রোহ নামে পরিচিত। এই বিদ্রোহে নেতৃত্ব প্রদান করেছিলেন রমেন মিত্রের সহধর্মিণী ইলা মিত্র। তেভাগা আন্দোলনের পর এটি ছিল কৃষকদের অধিকার আদায়ের অন্যতম বৃহত্তম আন্দোলন। আধিয়ারদের তাদের উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক জোতদারদের দিতে হতো। অর্ধেক ফসলের অংশ নিয়ে কৃষকদের জীবিকা নির্বাহ করে কঠিন হয়ে পরে।  জমিদারদের এই শোষণ ও নিপীড়নের প্রতিবাদ করেন কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা। তাদের প্রধান দাবি ছিল আধিয়ারের দুই-তৃতীয়াংশ পাবে চাষীরা। যা তৎকালীন জমিদাররা মানতে নারাজ ছিলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।  শুরু হয় আন্দোলন।

চন্ডিপুর ছিল কৃষক সমিতির কেন্দ্র। সেখানে প্রায় ৪০০–৫০০  কৃষক পালাক্রমে পাহারা দিত। সরকার সেখানকার খবর পেয়ে একজন দারোগা ও পাঁচজন সশস্ত্র পুলিশকে পাঠিয়ে দেন। এই সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীকে আক্রমণের জন্য এগিয়ে আসতে দেখে সাঁওতাল কৃষকরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। কৃষকরা প্রথমে তাদের কেন্দ্রে আসার সুযোগ করে দেন এবং তারাও ভিতরে প্রবেশ করেন, তাদের ধারণা ছিল না এতজন কৃষক এখানে থাকতে পারে। কৃষকরা তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। সৈন্যরা মরিয়ে হয়ে গুলি ছুঁড়ে, কিন্তু করন লাভ হয় না।  উভয় পক্ষের তুমুল সংঘর্ষের ফলে সশস্ত্র বাহিনির সকল সদস্য মারা পরে। এ খবর দ্রুত ছড়িয়ে পরে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরবর্তীতে বহু সশস্ত্র সৈন্য নাচোলে প্রেরণ করে। তারা সেখানে যাকে পাই তাকেই মেরে ফেলতে শুরু করে।
সাঁওতাল কৃষকরা তীর ধনুক বল্লম দিয়ে বহু চেষ্টা করেও তাদের দমাতে পারল না। সকলে পালিয়ে যেতে শুরু করে। বহুজন মারা যায়। এই পরিস্থিতিতে রমেন মিত্র ও ইলা মিত্র আলাদা আলাদা করে চার পাঁচশ করে সদস্য নিয়ে পালানো শুরু করে। রমেন মিত্র পালিয়ে বাঁচলেও ধরা পরে ইলা মিত্র। আগে থেকেই ইলা মিত্রের নামে হুলিয়া জারি করা থাকায় তাঁর নামে নেমে আসে করুন পরিণতি। তাঁরপর চালে নিদারুণ অত্যাচার। সেই অত্যাচারের ভয়াবহতা আজও মানুষকে শিহরিত করে। কৃষক আন্দোলনের কারণে জমিদারি শাসন বিলুপ্ত হয়েছে।

Comments

comments