ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ১২ : ০১ মিনিট

Mohammad-Farhadদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম নেতা কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৩৮ সালে ৫ জুলাই পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার জমাদারপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।  তাঁর বাবা আহমেদ সাফাকাত আল বারি ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। ইংরেজি, আরবি, ফার্সি ও উর্দু প্রভৃতি ভাষায় দখল ছিল তার । পূর্বপুরুষ পীরে কামেল কদম আলী শাহ্ জলপাইগুড়ি থেকে আসেন শাহ্ বংশীয়। কমরেড ফরহাদরা ৬ ভাই- বোন। ভাই বোনদের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম।

চল্লিশের দশকের শুরুতে  দিনাজপুর জিলা স্কুল সংলগ্ন একটি প্রাইমারী স্কুলে শিক্ষা জীবন শুরু হয়।  ১৯৫৩ সালে তিনি প্রবেশিখা পরীক্ষায় ভালভাবে উত্তীর্ণ হন এবং দিনাজপুরের তদানিন্তন কলেজ সুরেন্দ্রনাথ কলেজে আই এ ভর্তি হন। সেখান থেকে তিনি ১৯৫৭ সালে  আই.এ পাস করেন। ১৯৫৯ সালে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে তিনি ১৯৬১ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম.এ পাস করেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যকলাপে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ স্থান লাভ করেন। ১৯৬২ সালে আইন অধ্যয়নরত অবস্থায় আইয়ুব খান ফরহাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া বের করে।

১৯৫২ সালে  ভাষা আন্দোলনে দিনাজপুর জেলা স্কুলের ছাত্র হিসেবে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ভাষা আন্দোলনের পরপরই এদেশের ছাত্র সমাজের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ‘পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন’ ঢাকায় গঠিত হলে দিনাজপুর জেলায় ঐ সংগঠনের মূল উদ্যোক্তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। ১৯৫৩-৫৪ সালে বোদা-পঞ্চগড় প্রভৃতি এলাকায় তিনি প্রথম ছাত্র সংগঠন গড়ে তুলেন। ১৯৫৮ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য (কোষাধ্যক্ষ) নির্বাচিত হয়েছিলেন। কমরেড ফরহাদ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হওয়ার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পার্টির নির্দেশে কোষাধ্যক্ষের পদ গ্রহণ করেন। কেননা পার্টি মনে করেছিল একেবারে উপরের পদে গেলে পার্টির গোপন কাজ করতে অসুবিধা হবে। ১৯৬২ সালে আইয়ুব খানের সামরিক আইনের বিরুদ্ধে যে জঙ্গি ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠেছিল মোহাম্মদ ফরহাদ ছিলেন সেই আন্দোলনের মূল নেতা। তাঁকে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের ‘মস্তিষ্ক’ বলে অভিহিত করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি একজন প্রধান বিপ্লবী ছাত্রনেতা হিসেবে প্রগতিশীল ছাত্র সমাজের সমাদর লাভ করেন। এছাড়া ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ১৯৮৩ সালে স্বৈরাচারী এরশাদের সামরিক সরকার আবার তাকে গ্রেফতার করে এবং ক্যান্টনমেন্ট জেলে অন্ধকার কক্ষে ১৪ দিন আটক রাখে।

দীর্ঘ ৩৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহুবার জেল, জুলুম ও নির্যাতন ভোগ করেন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) এই সাবেক সাধারণ সম্পাদক ১৯৮৭ সালের আজ ৯ অক্টোবর  তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ও বর্তমানে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে মৃত্যুবরণ করেন।

Comments

comments