ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ০৩ : ০২ মিনিট

Amar choke nuzrul.docx1 দ্রোহ ও প্রেমের কবি,  জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘‘ আমার চোখে নজরুল’’ শীর্ষক বিষয়ক রচনা প্রতিযোগীতার আহ্বান করা হয়েছিল। সেই রচনা প্রতিযোগিতায় অনেকই অংশ গ্রহণ করেন। তাঁদের লেখাগুলো আমরা বিচার বিশ্লেষণ করে ক’জনকে বিজয়ী ঘোষণা করেছি। নিন্মে সেই তালিকা প্রকাশ করা হলো। বিজয়ীদের লেখাগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া বইমেলায় ‘আমার চোখে নজরুল’ শিরোনামে একটি বই প্রকাশিত হবে। প্রত্যেক বিজয়ীকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে বই।

লেখাগুলোতে নজরুলের নানা দিক ফুটে ওঠেছে। নজরুলের গান নিয়ে খুব অসাধারণ লিখেছেন ভারতের বিশিষ্টি শিল্পী, কবি ও লেখক ইন্দিরা দাশ। তিনি নজরুলের গানগুলো কোথায কি পক্ষাপটে রচিত হয়েছিল তা সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রবন্ধে আমরা পাই- ‘১৯২৬ সালের ২ এপ্রিলে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার পেছনে প্রচ্ছন্নভাবে যে ইংরেজদের হাত ছিল তা অজানা নয়। ১৯২৬ সালে হঠাৎ ইংল্যান্ডে শুরু হোল সাধারণ ধর্মঘট। সে নিয়ে তখন ইংরেজরা কিছুদিন বিপর্যস্ত। এ ধর্মঘট কবির মনে হিন্দু-মুসলিম মিলনের আশার সঞ্চার করেছিল। তিনি আন্তরিকভাবে চাইছিলেন এই অবকাশে হিন্দু ও মুসলিম বিভেদ ভুলে গিয়ে মিলনের পটভূমিতে একসাথে ইংরেজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াক, নিজেদের মাতৃভূমির দখল নিজেরা সামলে নিক।‘যা শত্রু পরে পরে’ এবং ‘ঘর সামলে নে এই বেলা’ গান দুটি এই সময়েই লেখা। ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গানটি কিন্তু তিনি জেলে বসে লেখেন নি। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের পত্রিকা ‘বাংলা কথা’র জন্য হঠাৎ একদিন একটি লেখার অনুরোধ আসে। ১৯২১ সালে দেশ জুড়ে তখন অসহযোগ আন্দোলন চলছে। বন্দীশালা ভর্তি। অসহযোগ আন্দোলন তখন নামেই নিরুপদ্রব। দেশের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। কাজীসাহেবের এই গান মানুষকে ভরিয়ে তুলেছিল সাহসী উদ্দীপনায়।“ভাঙ্গার গান” নামক গ্রন্থে এই গানটি সংকলিত ’

লেখক অরুণ কুমার বিশ্বাসের লেখায় নজরুলের অভিমানগুলো ফুটে তুলেছেন।  তিনি লিখেছেন- ‘অভিমানী কবি বুকের কষ্ট চেপে বলেন, বাকি সময়টুকু তিনি নিশ্চল থাকবেন। একেবারে মৌন হয়ে যাবেন। তার কষ্টগুলো বুকের মাঝে গুমরে গুমরে কাঁদবে, তিনি ধূপের মতো একান্ত নিভৃতে আপনমনে পুড়বেন, তাও কাউকে আর কখনও বিব্রত করবেন না। এই যে অভিমানের পাহাড় জমেছিল কবির বুকে, তার থেকে তিনি কি কখনও মুক্তি পেয়েছিলেন! কাউকে শোনাতে পেরেছিলেন তার সেই না-বলা কথা! কী জানি- হয়তো বলেছেন, বা বলেননি। আমি মনে করি কাজী নজরুলের অন্য অনেক কবিতার চেয়ে ‘বাতায়ন পাশে গুবাক তরুর সারি’-তে তার কবিসত্তা কোনো অংশে কম মহিমান্বিত নয়। আমি ভালবাসি এই অভিমানী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে। প্রণতি জানাই কবিবর- আপনাকে।’

শিশুৃ সাহিত্যিক রণজিৎ সরকার তিনি নজরুলে জীবনে সঙ্গে নিজের দুঃখের জীবন খুঁজে পান। তার লেখায় আমরা দেখতে পাই ছোটবেলায় তার দাদুর সঙ্গে নজরুলের জীবন নিয়ে সংলাপ। তিনি দাদাকে নানা প্রশ্ন করে। আর দাদুও সেই প্রশ্নের উত্তর দেয়। তার প্রবন্ধে যা তুলে ধরেছেন- ‘দাদু বলতে লাগলে-অভাবের সংসারে কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম। গ্রামের মক্তবে নজরুলের পড়াশোনা শুরু হয়।  মাত্র ৯ বছর বয়সে তার বাবা মারা যান। ফলে পরিবারের দুঃখদুর্দশা আরও বাড়ে। তার এক চাচা ছিলেন লেটো দলের ওস্তাদ। লেটো দল মানে হচ্ছে নাচগানের দল। বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে গান গেয়ে, নাটক দেখিয়ে টাকা রোজগার করে। চাচার প্রভাবে তিনি ভিড়ে পড়লেন সেই লেটোর দলে। এখানে তার বেশ সুনাম হল। সংসারের অভাব অনটনের জন্য অর্থ রোজগার করতে হলেও তার পড়ার আগ্রহ কমেনি। তার লেখা ও সুর করা গানগুলো শ্রোতা দর্শকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেল। শত দুঃখ কষ্টের মাঝে বড় হতে হয়েছে সে জন্য তাকে দুখুমিয়া বলে ডাকা হয়। তারপর দুখুমিয়া বড় হয়ে হয়েছেন জনগণের কবি, দেশের সবার প্রিয় মানুষ আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।’

এছাড়া আমরা মুসাররাত আবির জাহিন, আমানুর রহমান, হিমেল সরকার ও মিশাল সমাপ্ত লেখাতে দেখতে পাই নজরুলের সাহিত্য জীবন, সংগ্রামী জীবন, অসাম্প্রদায়িক জীবন নিযে নানা তথ্য।
বিজয়ী তালিকা :
১. ইন্দিরা দাশ,
ভারত
২. তৈমুর খান,
ভারত
৩. অরুণ কুমার বিশ্বাস,
ঢাকা,বাংলাদেশ
৪. রণজিৎ সরকার,
ঢাকা,বাংলাদেশ
৫. মুসাররাত আবির জাহিন,
ঢাকা, বাংলাদেশ
৬. আমানুর রহমান,
মুন্সীগঞ্জ, বাংলাদেশ
৭.  হিমেল সরকার,
চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
৮. মিশাল সমাপ্ত,
ঢাকা, বাংলাদেশ

Comments

comments