ঢাকা, বৃহষ্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ০৬ : ৩৪ মিনিট

July 4th, 2018

ড. হালিমা থাতুন

ড. হালিমা থাতুন

ভাষাসংগ্রামী  ও শিশু সাহিত্যিক হালিমা খাতুন। তিনি ১৯৩৩ সালের ২৫ আগস্ট বাগেরহাটের বাদেকাড়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মৌলভি আবদুর রহিম শেখ এবং মা দৌলতুন নেসা
পড়াশোনা

শিক্ষাজীবন শুরু করেন বাদেকাড়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করে তিনি মনমোহিনী গার্লস স্কুল ভতির হন। মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করেন তিনি বাগেরহাট প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজে থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এমএ এবং পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাস করেন।

১৯৬৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্দান কলোরাডো থেকে প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ে পিএইচডি করেন তিনি।

ভাষা আন্দোলন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে হালিমা খাতুন জড়িয়ে পড়েছিলেন ছাত্র রাজনীতিতে। পরে বাংলা ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামেও তিনি জড়িয়ে পড়েন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ চত্বরের আমতলায় সমাবেশে তিনি ছাত্রীদের জড়ো করায় ভূমিকা পালন করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ চত্বরের আমতলায় মুসলিম গার্লস স্কুল ও বাংলা বাজার গার্লস স্কুলের ছাত্রীদের আমতলায় নিয়ে এসেছিলেন তিনি। প্রথম যে চার জনের দল ৪৪ ধারা ভেঙে বের হয় তিনি ছিলেন তাদেরই একজন। জুলেখা, নূরী, সেতারার সঙ্গে সেদিন তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মিছিলে। মিছিলে গুলি চালানো হলে বহু ছাত্র হতাহত হয়। সেই মিছিলে হতাহতদের ছবি তুলে রেখেছিলেন ছাত্ররা। সেই ছবিটি তারা লুকিয়ে রেখেছিলেন হলে। পরে সে ছবিটা বিভিন্ন পত্রিকা অফিসে নিয়ে গিয়েছিলেন হালিমা খাতুনরা।

ভাষা সংগ্রামে আহত ছাত্রদের জন্য হালিমা খাতুন তার দল সংগঠিত করে চাঁদা তুলেছিলেন। লিফলেট বিলি, পোস্টার লেখা এবং মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করা ছিল হালিমা খাতুনের নিত্যদিনের রুটিন কাজ।

পরে বাংলা ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে নারীদের সংগঠিত করার দায়িত্বও কাঁধে তুলে নেন তিনি।

কর্মজীবন

১৯৫৩ সালে খুলনা করোনেশন স্কুল এবং আরকে গার্লস কলেজে শিক্ষকতার মধ্যদিয়ে তার কর্মজীবনের সূচনা। কিছুদিন রাজশাহী গার্লস কলেজে শিক্ষকতার পর ১৯৬১ সালে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটে। এখান থেকে অধ্যাপক হিসেবে ১৯৯৭ সালে অবসর নেন তিনি। তাঁর রচিত বইয়ের সংখ্যা প্রায় অর্ধশত।
সম্মাননা
ভাষা আন্দোলনে অনন্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি হালিমা খাতুনকে ভাষা সৈনিক সম্মাননা প্রদান করেছে।

মৃত্যু

২০১৮ সালের ৩ জুলাই ভাষাসংগ্রামী হালিমা খাতুন বেলা দুইটায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

 

Comments

comments