ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ০৩ : ০১ মিনিট

যেভাবে ধরিত্রীর সাথে প্রথম পরিচয়ে
আশ্রয় খোঁজে, কেঁদে ওঠে শিশু
খিদের তাড়নায়
যেভাবে সন্ধ্যা হলে
প্রিয় ভাষাটির কোলে
মাথা রেখে সমস্ত মানুষ বিশ্রাম চায়
ডাক উঠে আসে পাঁজরের ফাঁক থেকে
আর্তনাদে, আনন্দে অথবা দুঃখে যে ভাষায়
সে ভাষা’তে মুখর হয়েছিল ব্রহ্মপুত্র-তীর
সেদিনের কাছার, করিমগঞ্জ, বরাকের সংগ্রাম
এসো হে বাঙালি
ভাই, বোন, মিত্র আছ যত
এসো হে স্মরণ করি
রক্তস্নাত সে দিনের “উনিশে মে” ছিল নাম।

এগারোটি শব
বুকে পিঠে বিঁধে থাকা বুলেটের অনুভব
দৃপ্ত অধিকারে মাটি ছুঁয়েছিল সেইদিন
সে মহান ঋণ
আজকের এ তারিখ বয়ে চলে প্রতিটি বছর
স্মরণ করুক প্রতি বাঙালির মনন, জিহ্বা, কণ্ঠস্বর
চর্যাপদ, মনসামঙ্গলে
বৈষ্ণব পদাবলী, আউল বাউল গান,
হৃদয়ে গীতাঞ্জলি, প্রাণেতে বিদ্রোহী কবি’র বাণী যত
হে বাঙালি যদি করে থাকে আকুল সহস্র পরাণ
এসো আজ আরও একবার অন্তরে এঁকে রাখি সেই বলিদান
শ্রদ্ধানত বিনম্র সত্ত্বা মাঝে, রুধিরের আলপনায়,
হে উনিশের এগারো সন্তান, হে মাতৃভাষা
শত কোটি প্রণাম তোমায়।

ইন্দিরা দাশ : কবি ও গল্পকার। কলকাতা, ভারত

আরও পড়ুন : আসামে বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলন

Comments

comments