ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮ | ০৮ : ৫৮ মিনিট

‘মুক্ত আসর-সেরা লেখক পুরস্কার ২০১৮’-এ প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন অঞ্জন আচার্য। দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছেন যথাক্রমে কাজী ঐশী ও খায়রুল বাবুই। ছবি : মোহাম্মাদ আলী

‘মুক্ত আসর-সেরা লেখক পুরস্কার ২০১৮’-এ প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন অঞ্জন আচার্য। দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছেন যথাক্রমে কাজী ঐশী ও খায়রুল বাবুই। ছবি : মোহাম্মাদ আলী

প্রথমবারের মতো মুক্ত আসর-স্বপ্ন ‘৭১ আয়োজন করে ‘১০০ শব্দে গল্প লেখা প্রতিযোগিতা।’ এতে দুই বাংলা লেখক-কবি-সাহিত্যিকেরা অংশ নেন। নির্বাচিত  ১০০জনের ১০০টি গল্প নিযে প্রকাশিত হয় বাংলা ভাষার প্রথম ১০০ শব্দের গল্পসংকলন ‘শত কথার শত গল্প’। ১০ মে, বৃহস্পতিবার, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে শত শব্দের গল্প লেখকদের নিয়ে আড্ডা ও  মুক্ত আসর সেরা লেখক পুরস্কার ২০১৮  প্রদান অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দুই বাংলার লেখকদের মধ্যে সেরা তিনজনকে মুক্ত আসর সেরা লেখক পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়া ৪জন লেখক পান বিশেষ পুরস্কার। পুরস্কার প্রাপ্ত  সেরা তিন লেখক নিয়ে থাকছে আমাদের বিশেষ আয়োজন। পুরস্কার পাওয়ার পর কেমন সেই অনুভূতি।

অঞ্জন আচার্য 
পুরস্কার মাত্রই মানুষকে আনন্দ দেয়। এটি কাজের একধরনের স্বীকৃতি। এতে ভালোবাসাও জড়িয়ে থাকে। আমিও সেই স্বীকৃতি ও ভালোবাসা পেয়ে আনন্দিত, আপ্লুত। গত বছরের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে একদিন অনুজপ্রতিম আবু সাঈদ আমার কাছে একটি অণুগল্প আহ্বান করে। জানালো, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ মিলিয়ে শত লেখকের শত শব্দের একটি সংকলন প্রকাশ করার ইচ্ছে আছে তার। লেখার আহ্বান প্রায়ই আমার কাছে আসে বিভিন্ন জায়গা থেকে। সময়-সুযোগ থাকলে সাধারণত আমি কাউকে নিরাশ করি না, লেখা দেওয়ার চেষ্টা করি। সাঈদকে লেখা দিলাম।

লেখার শিরোনাম : ‘মুখোশটি খসে পড়ার পর’। লেখা পেয়ে সাঈদ জানালো, কিছু শব্দ কম পড়েছে। আরো কিছু শব্দ যোগ করতে হবে। আমি বললাম, গল্পটিতে আর একটি শব্দও যুক্ত হলে গল্পের তারটি ছিঁড়ে যাবে। কারণ গল্পটিতে এর বেশি আর কিছুই বলার নেই। সম্পাদক মেনে নিলো। অমর একুশে গ্রন্থমেলার মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত হলো ‘শত কথার শত গল্প’শিরোনামের সংখ্যাটি। প্রকাশের দিন আগ্রহভরে লেখক কপি তুলে দিলো বইয়ের সম্পাদক।

প্রথম পুরস্কার গ্রহণ করছেন লেখক অঞ্জন আচার্য। ছবি : আতিকুর রহমান

প্রথম পুরস্কার গ্রহণ করছেন লেখক অঞ্জন আচার্য। ছবি : আতিকুর রহমান

নান্দনিক প্রকাশনা। দেখে মনটা ভরে গেল। তাঁদের সাধুবাদ জানালাম। যতদূর জানি, এ ধরনের উদ্যোগ এটাই বাংলা ভাষায় প্রথম। বাংলাদেশের অনেক জনপ্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত লেখক তো আছেনই, সেই সাথে পশ্চিমবঙ্গের প্রথিতযশা লেখক স্বপ্নময় চক্রবর্তী (অণুগল্পে যিনি আমার আদর্শ ব্যক্তিত্ব), কবি ও গল্পকার ঈশিতা ভাদুড়ী, কবি ও গল্পকার তৈমুর খান (যিনি আয়োজনে পুরস্কৃত হয়েছেন)সহ আরও অনেক লেখকের লেখায় সমৃদ্ধ হয়েছে সংকলনটি।

তারপর বেশ কয়েক দিন পার হলো। এর মধ্যে একদিন হঠাৎ  জানানো হলো, সংকলনের লেখকদের থেকে সেরা লেখক নির্বাচন করা হয়েছে। তিনজনকে সেরা পুরস্কার, আর চার জনকে দেওয়া হবে বিশেষ পুরস্কার। আমি সেই তালিকায় থাকছি। ব্যস, এইটুকুই কথা। চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হবে অনুষ্ঠানের দিন। সত্যি বলতে কী, এই কথার আগে আমি জানতামও না যে, সংকলনটি নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন করা হচ্ছে।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠানের। বিশিষ্ট শব্দসৈনিক ও শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেনের অধীনে সম্পাদনা পর্ষদ সেরা লেখক নির্বাচন করেন। ভাষাসংগ্রামী, বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক আহমদ রফিক, কথাসাহিত্যিক ও শব্দঘর সম্পাদক মোহিত কামাল মঞ্চে উপস্থিত। এক এক করে লেখকের নাম ঘোষিত হলো। মঞ্চে উঠে একে একে গ্রহণ করলেন পুরস্কার। সবশেষে আমার নাম। মানে প্রথম পুরস্কার।

স্কুলজীবনে ক্লাসে প্রথম হয়েছি বেশ কয়েকবার।সাহিত্যজীবনে প্রবেশের পর লেখালেখি করে প্রথম হওয়া এই প্রথম। মুক্ত আসর ও স্বপ্ন-৭১ এর আয়োজন সত্যিই চমকপ্রদ। ভালোবাসায় সিক্ত হলাম। আগেই বলেছি, যেহেতু এই ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশে এই প্রথম, আর সেই প্রথম উদ্যোগে প্রথম স্থান অধিকার করেছি, তার আনন্দ অন্য সব কিছুর থেকে আলাদা। যদি কোনোদিন এ ধরনের প্রয়াস নিয়ে আলোচনা হয়, ইতিহাস লিখিত হয়, তবে আমার নামটি উচ্চারিত হবে জেনে আগাম ভালো লাগা কাজ করছে মনে। যে ভালোবাসা পেলাম, সেই ঋণ শোধ করার নয়।

‘মুক্ত আসর-সেরা লেখক পুরস্কার ২০১৮’-এ দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন কাজী ঐশী । ছবি : আতিকুর রহমান

‘মুক্ত আসর-সেরা লেখক পুরস্কার ২০১৮’-এ দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন কাজী ঐশী । ছবি : আতিকুর রহমান

কাজী ঐশী
১০০ শব্দে গল্প লেখাটা বেশ কঠিন। গল্প আগ্রহ-জাগানিয়া হতে হয়, ভাষা বাহূল্য বর্জিত হতে হয়, ঠিক ঠিক শব্দগুলি ব্যবহার করে সর্বোচ্চ প্রক্রিয়া বের করে আনতে হয়। কঠিন কাজটা কিছুটা হলেও ঠিকঠাক করতে পেরেছি নিশ্চয়ই-পুরস্কার পাওয়াটা তাই বলে। এ জন্য দারুণ ভাল লাগছে।

‘মুক্ত আসর-সেরা লেখক পুরস্কার ২০১৮’-এ তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন খায়রুল বাবুই। ছবি : আতিকুর রহমান

‘মুক্ত আসর-সেরা লেখক পুরস্কার ২০১৮’-এ তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন খায়রুল বাবুই। ছবি : আতিকুর রহমান

ছোট গল্প, বড় পুরস্কার!
খায়রুল বাবুই

মাত্র ১০০টি শব্দ। একটি গল্প। অল্পকথায় অনেক কথা। এক মলাটে শত গল্পকার। ভাষা—বাংলা। লেখক—দুই বাংলার। প্রথমবারের মতো এই উদ্যোগ-আয়োজনে, শত লেখকের একজন—তাতেই সন্তুষ্ট ছিলাম। কিন্তু ১০০ শব্দে লেখা ‘৬০ টাকার গল্প‘ আমাকে আরও দূর পথে নিয়ে গেছে। হয়েছি সেরা তিন লেখকের একজন। হয়েছি সন্মানিত। এই প্রাপ্তি অতুলনীয়—আমার কাছে। আহমদ রফিক, আখতার হুসেন, মোহিত কামাল—তিনজনই বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-অঙ্গণে অনন্য উচ্চতায় আসীন। তাঁদের বিচারে, উপস্থিতিতে ‘লেখক’ হিসেবে সেরার স্বীকৃতি—আমাকে সাহসী করেছে। করেছে অনুপ্রাণিত, আন্দোলিত। সফল এই আয়োজনের পেছনে ছিল ‘মুক্ত আসর’ ও ‘স্বপ্ন ৭১‘। কান্ডারি আবু সাঈদসহ সংশ্লিষ্ট সবার জন্য ভালোবাসা; সত্যি। আমি মুগ্ধ। এই মুগ্ধতা-বৃক্ষে ডালপালা ছড়াবে, জানি। ফুটবে শত গল্পের ফুল। হয়তো শত শব্দে, নয়তো আরও কম-বেশিতে। গল্পময় হোক জীবন। স্বপ্নময় হোক লেখালেখি। গল্পের টানে হাসুক পৃথিবী; ভাসুক মন—লেখকের, পাঠকেরও।

এক নজরে
শত কথার শত গল্প

ধরণ : ১০০ শব্দের প্রথম গল্পসংকলন
লেখক :  দুই বাংলার ১০০ লেখকের ১০০টি গল্প
সম্পাদক : আবু সাঈদ
প্রকাশক : স্বপ্ন ‘৭১ প্রকাশনী
মূল্য : ১৫০টাকা
পৃষ্ঠা : ১১২
উদ্যোগ : মুক্ত আসর-স্বপ্ন ‘৭১
পুরস্কার : মুক্ত আসর সেরা  লেখক পুরস্কার
যাঁরা পুরস্কার পেয়েছে : প্রথম পুরস্কার অঞ্জন আচার্য। দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছেন যথাক্রমে কাজী ঐশী ও খায়রুল বাবুই। এ ছাড়া চারজনকে দেওয়া হয় বিশেষ পুরস্কার। তাঁরা হলেন—ভারতের তৈমুর খান, বাংলাদেশের শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া, নিগার সুলতানা ও তাসনুভা অরিন।

Comments

comments