ঢাকা, সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮ | ০৬ : ৩৬ মিনিট

IMG_20180327_135353 copyবেড়াল
পণ ও যুবতী একসঙ্গে পেয়েই খুশি হয় বেড়াল
খাঁচার ভেতর রাখে কবুতর
তারপর অল্প অল্প খায়

কী সুন্দর বেড়ালের দাঁত
তীক্ষ্ণ ও সাদা মরমি করাত
বন ও আকাশে কোথাও ওড়াওড়ি নেই
খাঁচার ভেতর শুধু ক্লান্ত দীর্ঘশ্বাস

হাফ্প্যান্ট পরা সমাজ দূরে দাঁড়িয়ে দ্যাখে
কী মহান বেড়াল, গোঁফে তার পৌরুষ চমকায়
চর্বিতে ঝরে চিকন ভদ্রতা
মঞ্চ সফল বক্তৃতায়
হাততালির পর্যাপ্ত স্বাগতম

আজ কোনও রামধনু  নেই
বেড়ালের হাতে সব ইন্দ্রধনু
আমাদের ব্যর্থ রামায়ণ

উপদেশ নয়

সব তর্কে জল ঢেলে দিয়ো
ছিটকে আগুন যেন পোড়ায় না দেহ

সভাতে সভাতে শোভা খেলে
শোভা যেন ভাগ হয় না অন্যকোনও দলে

মুচকুন্দ ফুল ফুটছে বলে সকাল বিকেলে
কেউ যেন না দাঁড়ায় বুকের আঁচল খুলে

জলে জলে এ শতক বন্যা বিলি করে
বন্যাকে আমরা যেন না ডাকি ঘরে

বিবেক বিক্রি হলে কী-বা থাকে আর
তবু যেন দূরে রাখি আগুন ও খড়

দেহতত্ত্ব স্নেহতত্ত্ব পার্থিবের হাসি
আমরা যেন না বাজাই ইহবিমুখ বাঁশি

আবার ফিরুক দিন
মৃত্যুর সংবাদগুলি অনাকাঙ্ক্ষিত শীতকাল
চারিদিক কুয়াশায় ঢাকা
দৃষ্টিপথ আবিল, রক্তাক্ত শোকমাখা

চায়ের কাপ কেঁপে ওঠে
আয়ু কাঁপে জ্বরে
ডাকার ভাষাও ভুলে যাই
ঝাঁক ঝাঁক দুঃখ নামে ঘরে

অস্থির প্রলাপ শুধু
রাস্তাগুলি লাশের প্রবাহ
জনদূত আসে যায়
বিবর্ণ স্বপ্নের প্রদাহ

অসহায় লিখে লিখে দাঁড়াই নিকটে
হাত দাও হাতে
আবার ফিরুক দিন অক্লান্ত শফতে
বিশ্বাসের স্বরলিপি বাজুক রক্তঝরা ঠোঁটে…

একটি ক্লান্ত জীবন
অনেক স্মৃতির গাছে বাগান ভরেছে
হরেক কিসিম ফুল এখন ফোটে গাছে গাছে

আমি ছায়ায় ছায়ায় বসে থাকি
আমার অন্ধকার বেড়াল পোষে
কল্পনার পাখিরা উড়ে যায়
পাখিদের ঠোঁটে গান ঝরে

পাতায় পাতায় মেঘ নামে
মেঘেদের করুণ ভাষা জ্বলে ওঠে

                                     তারায় তারায়
উন্মুখ চেয়ে থাকি নিসর্গলোকে

একটি ক্লান্ত জীবন
সব পাঠশালা পার হয়ে এসে
স্মৃতির বাগানে আজ শুধু বিশ্রাম
কোন্ পথে চলে গেছে ঈশ্বরী তার  !

ত্রিভুজ
মধ্যরাতে কেঁপে ওঠে বাড়ি
দু একটা মৃত্যু আর জাগরণের ভার
কমাতে পারি না
কিছু কিছু ইতিহাস হয়ে যায়

বিপুল ক্ষুধার স্রোতে
শূন্য থালা হাতে আসে ফুলকুমারী
চেঁচাতে পারি না
গার্হস্থ্য বিকেল ঘোলা হয়ে যায়

লাইন টেনে টেনে নির্মিত ত্রিভুজ
কেউ বিশ্বাসই করে না
আমি আমারই শ্রমে গড়েছি
এইসব বায়বীয় পিরামিড

বাঁশ
কারও অহংকার চূর্ণ করার জন্য
কোনও বাঁশ বেড়ে ওঠে না
কারও সুর বাজবার জন্যও নয়

তবু বাঁশের আদিখ্যেতায় কেউ কেউ
কাকতাড়ুয়া বানায়
কেউ কেউ টং বা মাচা
বাঁশকে তোলান দিতে দিতে
বাঁশ পতনের শব্দ হয়

তখন কিংবদন্তিকে ডেকে এনে
সিঁড়িতে বসাই
আর বাঁশমহিমাকে কিংবদন্তির ব্যাখ্যার কাছে
রেখে দিই

পোষ্য

রাস্তায় দাঁড়াচ্ছি না
সব অভিধান শুধু বোকারাই দেখায়
মনে মনে ধোঁয়া টেনে চলে যাচ্ছি
জ্যোৎস্নায় পাথরেরা আজ অপার্থিব বিস্ময়

কে পুণ্যবান হবে তার খোঁজ কেউ করেনি
শুধু পুঁথি ও কেতাব ঘেঁটে একটা প্রাচীন সাপ
দুধভাতের দিকে ছুটে গেছে

Comments

comments