ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮ | ০৪ : ১৭ মিনিট

Ramaনতুন সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় রমনার বটমূলে সুরের মুর্ছনা। জাগিয়ে তুলে নতুন দিনের নতুন উদ্যমে পথচলার আনন্দ-উচ্ছ্বাস। পুরনো বছরের যত ব্যর্থতা, গ্লানি ঝেড়ে ফেলে নতুন সূর্য ধরা দেয় বাঙালির হৃদয়ে।

১৯৬৭ সাল থেকে রমনায় বটমূলে ছায়ানটের শিল্পীরা প্রভাতি সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে।সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ থেকে বের হয় নববর্ষের বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। এবারের শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য ছিল লালন সাঁইয়ের গান ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’। চারুকলা অনুষদের এই দৃষ্টিনন্দন মঙ্গল শোভাযাত্রা ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় আমাদের বৈশাখী উৎসব হয়েছে আরও গৌরবান্বিত।

নতুন বছর নতুন নতুন আশা আকাঙ্খার বার্তা নিয়ে আসুক সারা বাংলায়। এলে বাঙালির ঘরে ঘরে উৎসবে মূখরিত হয়ে ওঠে। সব অশুভ ও অসুন্দরকে পেছনে ফেলে দিক।

MogolShavaপয়লা বৈশাখের উৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর সর্বজনীনতা, এটি সব বাঙালির প্রাণের উৎসব। পৃথিবীতে প্রচলিত অধিকাংশ বর্ষপঞ্জির উৎপত্তি কোনো না কোনো ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত, কিন্তু বাংলা নববর্ষ একান্তই সাংস্কৃতিক ও বৈষয়িক। এর সঙ্গে ধর্মীয় অনুষঙ্গ নেই। এ উৎসবের প্রচলন ঘটে কৃষিকাজ ও খাজনা সংগ্রহের ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে। পরে ব্যবসা-বাণিজ্যের দেনা-পাওনার হিসাব মেটানোর বিষয়টি এর সঙ্গে যুক্ত হয়, হালখাতা খোলা হয় পয়লা বৈশাখেই। আদিতে এটি ছিল গ্রামীণ উৎসব, তখন গ্রামে গ্রামে মেলা বসত, নানা রকমের খেলাধুলার আয়োজন হতো। পয়লা বৈশাখের দিন শুরু হওয়া কোনো কোনো মেলা পরবর্তী সপ্তাহ দুয়েক ধরে চলত। এখনো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব মেলা বসে।

কিন্তু পয়লা বৈশাখের উৎসব শুধু গ্রামাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, শহরাঞ্চলেও বিস্তৃত হয়েছে। এখন শহুরে মধ্যবিত্তের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসব পয়লা বৈশাখ। গ্রাম-শহর মিলিয়ে পয়লা বৈশাখ এখন সব বাঙালির সর্বজনীন সাংস্কৃতিক আনন্দ-উৎসব। ধর্ম-সম্প্রদায়নির্বিশেষে বাংলা ভূখণ্ডের সব মানুষের প্রাণের উৎসব। এর মধ্য দিয়ে পরিস্ফুট হয় বাঙালির স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয়। পরাধীনতার কালে এই সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য আমাদের রাজনৈতিক চেতনাকে শাণিত করেছিল। তাই তো পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এ উৎসব আয়োজনে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করত।

বৈশাখের এই নতুন দিনে সবাইকে আমরা জানাই নববর্ষের আন্তরিকভাবে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ।

Comments

comments