ঢাকা, সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮ | ০৬ : ২৫ মিনিট

আজ বৃহস্পতিবার। ২৯ মার্চ ২০১৮, ১৫ চৈত্র ১৪২৪, ১০ রজব ১৪৩৯ । আজকের দিনে পৃথিবীতে যা ঘটেছিল। সেই ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

upal-dutto (2)ঘটনা
১৯২০ : ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়।
১৯৮৪ : আতাউর রহমান খান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত।

১৯৯১ : বিশ্বের প্রাচীনতম কমিউনিস্ট পার্টি ব্রিটেন কমিউনিস্ট পার্টির নাম বদলে ‘ডেমোক্র্যাটিক লেফট’ রাখা হয়।

জন্মদিন

১৯২৯ : বাঙালি অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক ও লেখক উৎপল দত্ত।তিনি ১৯২৯ সালে ২৯ মার্চ অবিভক্ত বাংলার বরিশালে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা গিরিজারঞ্জন দত্ত ও মা শৈলবালা দত্ত। বাবা ছিলেন ইংরেজি সাহিত্যির প্রখ্যাত অধ্যাপক।
পড়াশোনা করেছেন শিলঙের এডমন্ডস স্কুলে, পরে কলকাতার সেন্ট লরেন্স, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে। ১৯৪৮ সালে ইংরেজি অনার্স নিয়ে স্নাতক করেন তিনি। কলেজের ছাত্রদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন উৎপল। বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে ইংরেজি অনার্সে তাঁর স্থান হয় পঞ্চম।

তিনি ১৯৪৭ সালে ‘ দ্য শেক্সপিয়ার থিয়েটার’ নামে নাট্যদল গঠন করেন। এই দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন।

ভারতীয় গণনাট্য সংঘ প্রতিষ্ঠা হলে তিনি সেখানে সদস্য হয়ে নাট্যদলে কাজ শুরু করেন।‘লিটল থিয়েটারে’ নাটক করার পর নিজের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ‘পিপলস থিয়েটারে’ নিয়মিত অভিনয় করেন।

তাঁকে গ্রূপ থিয়েটার অঙ্গনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের অন্যতম হিসাবে গণ্য করা হয়। কৌতুক অভিনেতা হিসাবেও তাঁর খ্যাতি রয়েছে। তিনি হিন্দি কৌতুক চলচ্চিত্র গুড্ডি, গোলমাল ও শৌখিনে অভিনয় করেছেন। সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় হীরক রাজার দেশে, জয় বাবা ফেলুনাথ এবং আগন্তুক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। মননশীল ছবি ছাড়াও অজস্র বাণিজ্যিক বাংলা ছবিতে খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন উৎপল দত্ত। রাজনৈতিক দর্শনের দিক থেকে তিনি ছিলেন বামপন্থী ও মার্ক্সবাদী।

উৎপল দত্তের বিখ্যাত নাটকের মধ্যে রয়েছে টিনের তলোয়ার, মানুষের অধিকার ইত্যাদি।

পরিচালিত করেছেন- মেঘ, ঘুম ভাঙার গান, ঝড়, বৈশাখী মেঘ, মা প্রভৃতি। তিনি নাট্যবিষয়ক বহু প্রবন্ধ ও একাধিক গ্রন্থের রচয়িতাও। বাংলায় অনুবাদ করেছেন বেশ কিছু বিদেশি ভাষার নাটক। ‘শেকসপিয়রের সমাজচেতনা’ তাঁর লেখা গুরুত্বপূর্ণ এক গ্রন্থ। তিনি দীর্ঘকাল ধরে এপিক থিয়েটার নামে একটি সাময়িকী সম্পাদনা করেছেন এবং দেশ-বিদেশের নাট্যবিষয়ক বহু সভা-সেমিনারেও অংশগ্রহণ করেছেন। নাট্যচর্চায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি লাভ করেন দীনবন্ধু পুরস্কার, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার। তবে পদ্মভূষণ উপাধি ও সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।
রাজনৈতিক দর্শনের দিক থেকে তিনি ছিলেন বামপন্থী ও মার্ক্সবাদীয়। তাঁর মানুষ-সংক্রান্ত চেতনা শ্রেণিসমাজের বাস্তব চেতনাকেই ধারণ করে। সমাজতন্ত্র ও পুঁজিবাদী মানুষ সম্পর্কে তাঁর গভীরতম ধারণা তাঁর নাটকগুলোকে সফল করেছে। উৎপল দত্ত ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সমর্থক। তিনি উন্মুক্ত মঞ্চ ও পথনাটক আন্দোলনের সক্রিয় উদ্যোক্তা ছিলেন। ব্রিটিশ আমলে ভারতীয় নৌবাহিনীর বিদ্রোহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি ‘কল্লোল’ নামে নাটক লেখেন। নাটকটির মাধ্যমে গণবিদ্রোহকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, এই অভিযোগে কংগ্রেস সরকারের কোপানলে পড়ে তাঁকে জেলে যেতে হয় ১৯৬৫ সালে। বেশ কয়েক মাসের কারাবাস হয় তাঁর। কারাবন্দী অবস্থাতেও নাটক লেখা চালিয়ে যান তিনি।

১৯৯৩ সালের ১৯ আগস্ট কলকাতায় প্রয়াত হন এ মহান শিল্পী।

মৃত্যু
১৯৭৮ : সাহিত্যিক প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁর মৃত্যু।

Comments

comments