ঢাকা, বৃহষ্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ০৬ : ২৫ মিনিট

Akhteruzzaman-Elias_swapno71বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের জন্মবার্ষিকী আজ। পুরো নাম আখতারুজ্জামান মোহাম্মদ ইলিয়াস। তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম মঞ্জু। তাঁর পৈতৃক বাড়ি বগুড়া জেলায়। তাঁর বাবা বদিউজ্জামান মোহাম্মদ ইলিয়াস পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (১৯৪৭-১৯৫৩) এবং মুসলিম লীগে পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি ছিলেন। তাঁর মায়ের নাম বেগম মরিয়ম ইলিয়াস।

আখতারুজ্জামান বগুড়া জিলা স্কুল থেকে ১৯৫৮ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা এবং ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৬০ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেন (১৯৬৪)। পরপরই তিনি ঢাকার জগন্নাথ কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত সেখানে অধ্যাপনা করেন। তারপর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক, সংগীত মহাবিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ, মফিজউদ্দীন শিক্ষা কমিশনের বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা কলেজে অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিচিত মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দেন, গোপনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তাঁর লেখা প্রতিশোধ, অন্য ঘরে অন্য স্বর, খোঁয়ারি, মিলির হাতে স্টেনগান, অপঘাত, জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল, রেইনকোট প্রভৃতি গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধপরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতা।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ দেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল। তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষত, তাঁর রচনাশৈলীর ক্ষেত্রে যে স্বকীয় বর্ণনারীতি ও সংলাপে কথ্যভাষার ব্যবহার লক্ষণীয়, তা সমগ্র বাংলা কথাশিল্পে অনন্য সাধারণ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো: অন্যঘরে অন্যস্বর (১৯৭৬), খোঁয়ারি (১৯৮২), দুধভাতে উৎপাত (১৯৮৫), চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭), দোজখের ওম (১৯৮৯), খোয়াবনামা ১৯৯৬), সংস্কৃতির ভাঙা সেতু ইত্যাদি।

তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যের জন্য বাংলা  হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার, ১৯৮৭ আলাওল সাহিত্য পুরস্কার,১৯৯৬ আনন্দ পুরস্কার, সাদাত আলী আখন্দ পুরস্কার, কাজী মাহবুবুল্লাহ স্বর্ণপদক ও ১৯৯৯ সালে একুশে পদক পান।

তাঁর লেখা বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং চিলেকাঠার সেপাই উপন্যাসটি অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। তার কান্না গল্পটি অবলম্বনেও একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা কম্যুনিটি হাসপাতালে ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

Comments

comments