ঢাকা, বৃহষ্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৮ : ৪২ মিনিট

সত্যেন্দ্রনাথ বসু

সত্যেন্দ্রনাথ বসু

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার পথিকৃৎ,বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী ও কোয়ান্টাম স্ট্যাটিসটিকসের উদ্ভাবক সত্যেন্দ্রনাথ বসুর মুত্যৃবার্ষিকী আজ। ‍তিনি ১৮৯৪ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। পড়াশোনা শুরু করেন কলকাতা হিন্দু স্কুল থেকে। সেখানে তিনি ১৯০৯ সালে পঞ্চম স্থানসহ এন্ট্রান্স এবং কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯১১ সালে প্রথম স্থান অধিকার করে এফএ পরীক্ষায় পাস করেন। একই কলেজ থেকে ১৯১৩ সালে তিনি গণিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থানসহ স্নাতক ডিগ্রি এবং ১৯১৫ সালে মিশ্র গণিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থানসহ এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের রিডার হিসেবে যোগদান করেন এবং পরবর্তী সময়ে বিভাগীয় প্রধানের পদ অলংকৃত করেন। দীর্ঘকাল ধরে বিভাগটি গড়ে তুলতে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যান। সত্যেন্দ্রনাথ এখানে ২৪ বছর একনিষ্ঠভাবে গবেষণাকর্ম সম্পাদন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে সত্যেন্দ্রনাথ বসু তাঁর তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞান ও এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফির ওপর গবেষণাকর্মের সূচনা করেন, যা পরবর্তী সময়ে তাঁকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দেয়। ১৯২৪ সালে তাঁর ‘প্ল্যাংকস ল অ্যান্ড দ্য লাইট কোয়ান্টাম হাইপথিসিস’ শীর্ষক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। আইনস্টাইন সত্যেন্দ্রনাথের এই প্রবন্ধ জার্মান ভাষায় অনুবাদ, ব্যাখ্যাসহ বিজ্ঞান পত্রিকায় প্রকাশ করেন। প্রকাশিত প্রবন্ধটি বিজ্ঞানজগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং বোস-আইনস্টাইনতত্ত্ব নামে সারা বিশ্বে সমাদৃত হয়। তাঁর নামানুসারে পরমাণুর এক ধরনের কণিকার নাম রাখা হয়েছে বোসন কণা।

বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু ১৯৫৮ সালে লন্ডনের রয়াল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৫২ সাল থেকে কিছুকাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যসভার মনোনীত সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার ব্যাপারে অধ্যাপক বসু অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই বিজ্ঞানীকে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেশিকোত্তম এবং ভারত সরকার পদ্মভূষণ উপাধিতে ভূষিত করে।

সত্যেন্দ্রনাথ বসু ১৯৭৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

সূত্র : বাংলাপিডিয়া

Comments

comments