ঢাকা, বৃহষ্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৮ : ৫৮ মিনিট

shokot ali swapno71একুশে পদক প্রাপ্ত কথাশিল্পী শওকত আলী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

প্রদোষে প্রাকৃতজন-খ্যাত এই কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক ১৯৩৬ সালে ১২ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। দেশ ভাগের চার বছর পর তাঁর চিকিৎসক বাবা সপরিবারে পূর্ববঙ্গের দিনাজপুরে চলে আসেন। ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত পিঙ্গল আকাশ তাঁর প্রথম উপন্যাস। এরপর প্রকাশিত হয়েছে দুটি ছোটগল্প সংকলন।

১৯৫৫ সালে বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হতে শুরু করে। একই সময়ে দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার নিউজ ডেস্কে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৫৮ সালে দিনাজপুরের একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে এবং ১৯৫৯ সালে ঠাকুরগাঁও কলেজে বাংলার প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৬২ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন তৎকালীন জগন্নাথ কলেজে (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) এবং ১৯৮৮ সালে জেলা গেজেটিয়ারের ঢাকার হেড অফিসে সহকারি পরিচালক হিসেবে যোগদান করে পরিচালক পদে উন্নীত হন। ১৯৮৯ সালে সরকারি সঙ্গীত কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৯৩ সালে অবসরগ্রহণ করেন।

বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ১৯৬৮ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখকশিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে। ১৯৯০ সালে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদকে ভূষিত হন। নৃতত্ত্ব, সমাজবিজ্ঞান ও ইতিহাসে তাঁর আগ্রহ অত্যন্ত গভীর। বাংলার প্রায় লুপ্ত ও ঝাপসা হয়ে যাওয়া ইতিহাসে তাঁর সৃজনশীল অনুসন্ধান আমাদের সাহিত্যকে যথেষ্ট সমৃদ্ধ করেছে। ৩২টির উপরে উপন্যাস লিখেছেন। ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’, ‘যাত্রা’, ‘ওয়ারিশ’, ‘দলিল’, ‘দক্ষিণায়নের দিন’, ‘উত্তরের খেপ’ অন্যতম।

Comments

comments