ঢাকা, বৃহষ্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ০৮ : ৫৯ মিনিট

December 16th, 2017

স্মৃতিসৌধ, সাভার, ঢাকা

স্মৃতিসৌধ, সাভার, ঢাকা

চারদিক থেকে উচ্চারিত হতে লাগে ‘জয় বাংলা’। মুক্তিযোদ্ধারা জীবন মরণ লড়াই করে আজকের দিনে ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতা। এই জয় বাঙালি অবিস্মরনীয় জয়। খুঁজে পায় বাঙালির অস্থিত। ২০০ বছর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের পর ভারতবর্ষ ভাগ হয়েছিল দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে। বাঙালিরা ভেবেছিল ব্রিটিশদের শাসন-শোষণের অবসান ঘটবে। কিন্তু তা ঘটেনি। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকের আমাদের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ওপর শুরু করে শোষণ,দমন। তারা প্রথমে আঘাত হানে মাতৃভাষার ওপর। তারপর চলে তাদের নানান নিপীড়ন।

আজ থেকে ৪৬ বছর আগে ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের দিনে পাকিস্তানি ঘাতক বাহিনী সম্মুখসমরে পরাজিত হয় বীর বাঙালির কাছে। উল্লাসে ফেটে পড়ে সারা বাংলা। বেদনা ভুলে মানুষ দুচোখ ভরা স্বপ্নের বাংলাদেশ পেয়ে আনন্দে নেচে ওঠে। নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং তিন লাখ মা-বোন সম্ভম বিনিময়ে অর্জিত হলো আমাদের স্বাধীনতা। এছাড়া অগণিত মানুষ নির্যাতিত হয়েছেন, সহ্য করছেন দুর্বিষহ যন্ত্রণা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী জ্বালিয়ে দিয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। সম্পদহানি হয়েছে বিপুল।

আজ কৃতজ্ঞ চিত্তে জাতি গভীর বেদনা ও বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে স্বাধীনতার জন্য যে বীর সন্তানেরা আত্মদান করেছেন, যাঁরা জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাঁদের।

মাতৃভাষা ওরা কেড়ে নিতে চেয়েছিল তা পারেনি। রাজপথে বাঙালি তরুণেরা রক্ত দিয়ে রুখে দাঁড়িযেছিল। তারই পথ ধরে উন্মেষ ঘটে স্বাধিকার আন্দোলনের। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্দোলনের একপর্যায়ে ঘোষণা করেন ঐতিহাসিক ছয় দফা। সারা বাংলা ফুঁসে ওঠে অসহযোগ আন্দোলনে। জাতিকে তিনি মুক্তিযুদ্ধের জন্য ঐক্যবদ্ধ ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করে তোলেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ তিনি শত্রুর মোকাবিলায় যার কাছে যা আছে তা-ই নিয়ে প্রস্তুত থাকতে বলেন। দীর্ঘ নয় মাসের সংগ্রাম শেষে এই দিনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় চিরকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। সেই রমনার রেসকোর্স ময়দানেই আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানি ঘাতক বাহিনী।

সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে আজ সকাল থেকেই মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে অগণিত মানুষ পুষ্পস্তবক নিবেদন করে শ্রদ্ধা জানাবেন। রাজধানীর পাশাপাশি সারা দেশেই সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবে বিজয় উৎসবে। আজ সরকারি ছুটির দিন। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোর প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হবে। রাতে গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় করা হবে আলোকসজ্জা। হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানাগুলোতে উন্নত খাবার পরিবেশন করা হবে।

বাণী: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা স্বাধীনতার জন্য আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাঁদের বিদেহী আত্মার চিরকল্যাণ কামনা করেছেন এবং দেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

Comments

comments