ঢাকা, সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ | ১১ : ০৬ মিনিট

গত ৫ অক্টোবর ছিল বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এই দিবসে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাঁদের অবদানকে স্মরণ করার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিক্ষক দিবস পালিত হয়। ২০ শতকের গোড়ায় এই দিনটি পালন করার রীতি শুরু হয়। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির একসময়ের শিক্ষার্থী, এখন সেখানেই কর্মরত নাফিজা রহমান মৌ। তিনি লিখছেন তাঁর প্রিয় শিক্ষক মাহবুব পারভেজের সর্ম্পকে।

লেখকের সঙ্গে প্রিয় শিক্ষক ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

লেখকের সঙ্গে প্রিয় শিক্ষক ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

প্রিয় শিক্ষক নিয়ে যখন আমাকে একটা লেখার জন্য বলা হল তখনেই চোখ বন্ধ করলাম, আম্মার পর ভেসে আসে একটা হাসি মুখ। যেখানে জড়িয়ে আছে আদর, মায়া-ভালবাসা আর শ্রদ্ধা। তিনি আমার শিক্ষক, প্রিয় শিক্ষক মাহবুব পারভেজ। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির ট্যুরজিম এন্ড হস্পিটালিটি ম্যানজেমন্টের বিভাগীয় প্রধান। আমার আনন্দের অন্যতম কারণ তিনি।

তিনি আমার স্কুল, কলজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালেয়র সরাসরি কোনো শিক্ষক নন। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক মাত্র। চার বছরের অর্নাস আর এক বছরের মার্স্টার্সে কোনো দিন তার ক্লাস করতে হয়নি। তবুও তিনি আমার শিক্ষক। তাহলে প্রিয় শিক্ষক কেন বলছি? তাঁর কাছ থেকে  জীবনের অর্থ  বুঝতে শিখেছি,  উপলব্ধি করতে শিখেছি।

স্যার যেমন ভীষণ চিন্তাশীল তেমনি বন্ধুসুলভ। তাঁর আবৃত্তি দারুণ ভাবেে আকৃষণ করে আমাকে।। একজন চরম ভক্ত বলা যেতে পারে। কীভাবে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতিকে ভালোবাসাতে হয়, ভাবতে হয় তা স্যার না হলেও হয়তো অজানাই থেকে যেতো। একবার সুযোগ ঘটে তাঁর আবৃত্তিতে আমার একটা নৃত্যনাট্য পরিবেশ করার। তখন স্যার হুমায়ন আজাদের কবিতা শেকলে বাঁধা কবিতাটি আবৃত্তি করেছিলেন।

আমাদের স্যার সঙ্গে এতোটাই ভালো সর্ম্পক যে, আমাদের বান্ধবীরা কোনো অনুষ্ঠান হবে, স্যার যে রঙের পাঞ্জাবি পড়বেন ঠিক সেই রঙের শাড়ি আমরাও পড়ব। এজন্য আমরা স্যারের পাঞ্জাবীর রঙের প্রতীক্ষায় থাকতাম। আমাদের ভালোবাসার স্যারের সর্ম্পকে অনেক কথা বলতে ইচ্ছে হয়। ক্যাম্পাসে রুমের গেলে, পাশে রাখা কাঁচের ডিব্বায় ভরা চকলেটগুলো আমাদের দিয়ে কথা শুরু করেন। তারপর বলেন, বলো কিসের জন্য এসেছ।

আমাদের কথা শুনেন। বুঝেন। আমাদের ভাবনাকে, কল্পনাকে, স্বপ্নকে তিনি নতুন একটা রুপ দেন যা আমাদের সামনের দিকে চলার শক্তি, সাহস, প্রেরণা জোগায়। আমার নিজের কথা যদি বলি, চাকরি জীবনটা শুরু তার হাত ধরেই। যেদিন চাকরিতে কর্ম দিবস শুরু করব। তার একদিন আগে স্যার আমাকে তিন ঘন্টারও বেশি সময় পরামর্শ দিয়ে বলেন,  জীবনের শ্রেষ্ঠত্বের কথা, কীভাবে পরিবার, সমাজ কিংবা জাতির জন্য অবদান রাখতে হয়। নিজেকে একজন সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলোর জন্য যা যা করণীয় তিনি তা আমাদের সেইদিন বুঝিয়ে বলেন।

আমার প্রিয় স্যার। মাহবুব পারভেজ স্যার, কেন জানি আমার এক আনন্দের উৎস, প্রেরণার শক্তি। তাঁর প্রতি আমার সারাজীবন শ্রদ্ধা,সম্মান আর ভালোবাসা বিদ্যামান থাকবে। ভালো থাকুন স্যার..

নাফিজা রহমান মৌ : ইভেন্ট, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি

Comments

comments