ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ০৩ : ০২ মিনিট

গজারিয়ার গণহত্যা নিয়ে স্বপ্ন ’৭১ এ ধারাবাহিকভাবে আলোকচিত্রী ও গবেষক সাহাদাত পারভেজ লিখছেন গজারিয়া গণহত্যা : প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান। আজ নবম  পর্ব। জানবো : আরফাত আলী সিকদার, পিতা : রহিম বক্স সিকদার, মাতা : জোহরজান বিবি, গ্রাম : গোসাইরচর, পেশা : অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী, বয়স : ৮০ বছর। Arfat Ali Sikderআমি তখন নারায়ণগঞ্জে ওয়াপদায় (পানি উন্নয়ন বোর্ড) সামান্য চাকরি করি। যুদ্ধ লেগে যাওয়ায় বাড়ি চলে আসি। আমার তখন ছোট ছোট পাঁচ ছেলেমেয়ে। আমাদের গ্রামের পশ্চিম দিকে গজারিয়া, নয়ানগর ও বালুচর গ্রাম। ৯ মে ভোরে ওই তিন গ্রাম থেকে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাচ্ছি। লোকজন দৌড়াদৌড়ি করে আমাদের বাড়ির ওপর দিয়ে পালাচ্ছে। আমি মাকে বাড়ির পাশের ঘাঘড়া ঝোপে লুকিয়ে রাখি। আর স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে তিলক্ষেতে লুকিয়ে থাকি। বুক সমান তিলগাছ। আর্মিরা তিলক্ষেতে গিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করলো। আমাকে দেখেই পিঠে গুলি করে দিলো। এরপর কী হলো আমার মনে নাই।
পরদিন হোগলাকান্দি গ্রাম থেকে আমার শ্বশুর এলেন। সেখানে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলো। এক মাস ধরে শ্রীনগরের কাদির ডাক্তার আমার চিকিৎসা করেছেন। সারা বছর শ্বশুরবাড়িতেই ছিলাম। দেশ স্বাধীনের পর গ্রামে আসি। জায়গাজমি যা ছিল, চিকিৎসার জন্য সব বিক্রি করে দিয়েছি। এখন আমার দুই চোখই নষ্ট। ১৫ বছর ধরে আমি কিছুই দেখতে পাই না। চলতে ফিরতে পারি না। সারাক্ষণ বসে থাকি। এখন আসলে যাওয়ার সময়। উপর থেকে কখন ডাক আসে, কে জানে!

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : ২৬ মার্চ ২০১৭

পড়ুন :
প্রথম পর্ব   :  মোরশেদ আহমেদ চৌধুরী

দ্বিতীয় পর্ব : আবদুর রউফ সিকদার

তৃতীয় পর্ব : আবুল হোসেন ভুইয়া

চতুর্থ পর্ব :   নূরুল আমীন প্রধান

পঞ্চম পর্ব : সালামত জেহাদ

ষষ্ঠ পর্ব : সানোয়ারা বেগম

সপ্তম পর্ব : মনোয়ারা বেগম নার্গিস
অষ্টম পর্ব : ইসহাক মোল্লাহ
নবম পর্ব : রবিদাশী বর্মণ

***স্বপ্ন ’৭১ প্রকাশিত লেখা, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Comments

comments