ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১১ : ১৬ মিনিট

naturalist Dwijen Sharma প্রকৃতিবিদ ও বিজ্ঞান লেখক অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা আর নেই।আজ শুক্রবার ভোররাত পৌনে ৪টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এই ‘নিসর্গসখা’। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর ৷

দ্বিজেন শর্মার ১৯২৯ সালের ২৯ মে তৎকালীন সিলেট বিভাগের বড়লেখা থানার শিমুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতা সিটি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন দ্বিজেন শর্মা। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করেন।

তিনি উদ্ভিদবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে চাকরি করেছেন করিমগঞ্জ কলেজ, বিএম কলেজ ও নটর ডেম কলেজে। পরে মস্কোর প্রগতি প্রকাশনে চাকরি করেছেন প্রায় বিশ বছর। এরপর দেশে ফিরে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিতে।

দ্বিজেন শর্মা ছিলেন প্রকৃতিপ্রেমিক। প্রকৃতিই ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। প্রকৃতি নিয়ে প্রচুর লেখালেখি করেছেন তিনি। বিজ্ঞান, শিশুসাহিত্যসহ অন্য বিষয়েও সমানে লিখেছেন তিনি।তাঁর অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে- ‘সপুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণীবিন্যাস’, ‘ফুলগুলি যেন কথা’, ‘গাছের কথা ফুলের কথা’, ‘এমি নামের দুরন্ত মেয়েটি’, ‘নিসর্গ নির্মাণ ও নান্দনিক ভাবনা’, ‘সমাজতন্ত্রে বসবাস’, ‘জীবনের শেষ নেই’, ‘বিজ্ঞান ও শিক্ষা: দায়বদ্ধতার নিরিখ’, ‘ডারউইন ও প্রজাতির উৎপত্তি’, ‘বিগল যাত্রীর ভ্রমণ কথা’, ‘গহন কোন বনের ধারে’, ‘হিমালয়ের উদ্ভিদরাজ্যে ডালটন হুকার’, ‘বাংলার বৃক্ষ’।

দ্বিজেন শর্মা—নামটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বৃক্ষের সতেজতা, সরলতা। সবুজের হাতছানি দিয়ে তিনি মানুষকে ডেকে গেছেন।

‘মানুষ, বৃক্ষের মতো আনত হও, হও সবুজ…’—এই আহ্বান আমৃত্যু জানিয়ে গেছেন দ্বিজেন শর্মা। সবুজ দেশ আর সবুজ মানুষ গড়তে কাজ করে গেছেন তিনি।

পরোক্ষভাবে বামপন্থী রাজনীতি করার কারণে কিছুকাল আত্মগোপন, এমনকি কারাবাসও করতে হয়েছে দ্বিজেন শর্মাকে। ১৯৭০ এর জলোচ্ছ্বাসে দুর্গত মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসের অধিকাংশ সময়ই তিনি বাংলাদেশে ছিলেন।
১৯৬০ সালে দেবী চক্রবর্তীর সঙ্গে দ্বিজেন শর্মার বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে সুমিত্র শর্মা আর এক মেয়ে শ্রেয়সী শর্মা। দ্বিজেন শর্মা রাজধানীর অসংখ্য জায়গায় গাছ লাগিয়েছেন নিজ হাতে। তৈরি করেছেন উদ্যান ও বাগান।
প্রকৃতি ও গাছগাছালির প্রতি ভালোবাসা ও লেখালেখির কারণে দ্বিজেন শর্মাকে ‘নিসর্গসখা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তিনি ভূষিত হয়েছেন ২০১৫ সালে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদক, ১৯৮৭ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ বিভিন্ন জাতীয় সম্মাননায়।

Comments

comments