ঢাকা, রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮ | ১১ : ২৯ মিনিট

সুধীন দাশ। ছবি: সংগৃহীত

সুধীন দাশ। ছবি: সংগৃহীত

চলে  গেলেন  উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ ও সংগীত গবেষক সুধীন দাশ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

সুধীন দাশ সারা জীবন গান পাগলি মানুষ ছিলেন। গানের পেছনে তিনি ব্যয় করেছে জীবনভর। গান গাওয়ার পাশাপাশি তিনি সুর করেছেন, সংগীত পরিচালনা করেছেন—সংগীত নিয়ে নিরলসভাবে গবেষণার কাজটিও করে গেছেন । বাংলা গানের ধ্রুবতারা কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকে শ্রোতার কাছে শুদ্ধরূপে পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্বরলিপি তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটি তিনিই করেছেন।

সুধীন দাশের জন্ম ১৯৩০ সালে কুমিল্লা শহরের তালপুকুরের বাগিচাগাঁওয়ে। তাঁর বাবা নিশিকান্ত দাশ ও মা হেমপ্রভা দাশের তিন মেয়ে, সাত ছেলের মধ্যে সুধীন দাশ ছিলেন সবার ছোট।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে বিএ পরীক্ষার সময় তিনি পুরোপুরি ঝুঁকে পড়েন সংগীতে। পরে ১৯৪৮ সালে বেতারে নিয়মিতভাবে নজরুল সংগীত গাইতে শুরু করেন সুধীন দাশ। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুর পর তিনি মনোনিবেশ করলেন নজরুল সংগীতের শুদ্ধ স্বরলিপি প্রণয়ণে। আদি গ্রামোফোন রেকর্ড থেকে সেই স্বরলিপি উদ্ধারের কাজে তাকে সহায়তা করেন স্ত্রী নীলিমা দাশ।

১৯৮২ সালের জানুয়ারি মাসে ২৫টি স্বরলিপি নিয়ে নজরুল সুরলিপির প্রথম খণ্ডটি প্রকাশ করে নজরুল একাডেমি। পরে নজরুল ইনস্টিটিউট থেকে বের হয় আরও ৩৩টি খণ্ড।

তার একমাত্র ছেলে গিটারিস্ট নিলয় দাশ ২০০৬ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

সুধীন দাশ ১৯৮৮ সালে একুশে পদক পাওয়ার পাশাপাশি পেয়েছেন বহু পুরস্কার ও সম্মাননা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা’ ও ‘সিটিসেল-চ্যানেল আই আজীবন সম্মাননা’।

আজ সকাল ১১টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সুধীন দাশের মরদেহ নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পর পোস্তগোলা শ্মশানঘাটে সুধীন দাশের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।

Comments

comments