ঢাকা, বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮ | ১০ : ৪৪ মিনিট

20170501_174813পহেলা মে। শ্রমিক দিবস। সারা বিশ্বে এই দিবসটিকে পালন করা হয় শ্রমজীবী মানুষের অধিকার দাবী আদায়ের দিবস হিসেবে । ইতিহাসের পাতা উল্টোলে আমরা দেখতে পাবো – ১৮৮৬ যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা তাদের উপযুক্ত মজুরি ও দৈনিক আট ঘন্টা কাজের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন । কলকারখানাগুলো তখন অমানবিক পরিশ্রম করিয়ে নিচ্ছিল ঐ সব শ্রমিকদের দিয়ে  অসহনীয় পরিবেশে প্রতিদিন ১৬ ঘন্টা কাজ করতে হতো । দিনের পর দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করতে করতে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য খুব খারাপ হয়ে যাচ্ছিল । শ্রমজীবী শিশুদের অবস্থা তো আরও শোচনীয় হয়ে পড়ছিল । এভাবেই চলতে চলতে তারা উপলব্ধি করে তাদের জীবন এভাবে চলতে পারে না ।

সেই বছরের ১ মে শ্রমিকরা ধর্মঘট আহ্বান করেন । প্রায় তিন লাখ শ্রমজীবী মানুষ অংশগ্রহণ করেন এই ধর্মঘটে ।আন্দোলনরত ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের রুখতে গিয়ে একসময় পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালান । যার ফলশ্রুতিতে ১১ জন শ্রমিক নিহত হন এবং আহত ও গ্রেফতার হন অগণিত শ্রমিক । পরবর্তীতে প্রহসন মূলক বিচারের মাধ্যমে গ্রেফতারকৃত শ্রমিকদের মধ্য থেকে ছয়জনকে আন্দোলনে অংশ নেয়ার অপরাধে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয় ।কারাগারে বন্দিদশা অবস্থায় এক শ্রমিক নেতা আত্মহননও করেন । এতে বিক্ষোভ আরো প্রকট আকার ধারণ করে সারাবিশ্বে । পরবর্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার শ্রমিকদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হন । ১৮৯০ সাল থেকে ১ মে বিশ্বব্যাপী পালন হয়ে আসছে মে দিবস বা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে । ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে বিপুল উদ্দীপনা নিয়ে মে দিবস পালিত হয় । ওই বছরই সদ্য স্বাধীন দেশে পহেলা মে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয় ।  ওই ছুটির দিনটা তারা নিজেদের মত করে কাটান।  তিনজন শ্রমিকের সঙ্গে যে সব কথা হলো  কিছু অংশ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি-

তাইজুল ইসলাম । বরিশাল জেলায় যার জন্ম । শৈশব , কৈশোর পুরোটাই কাটিয়েছেন তার নিজের জেলায় । বিয়ে করেছেন সাত বছর আগে। বর্তমানে তার দুই সন্তান । বাবা -মা, ভাই -বোন,  স্ত্রী- সন্তান নিয়ে তার সংসার । গ্রামে তার জায়গা -জমি নেই বলেই চলে। সন্তানরা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খরচ বাড়তে লাগল । জীবিকা অর্জনের জন্য চট্টগ্রামে চলে আসেন । স্থানীয় একটি চায়ের কারখানায় কাজ করেন তিনি এখানে তাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয় । মাস শেষ হলে টাকা পাঠাতে হয় গ্রামে। তার চোখ ভরা অনেক স্বপ্ন । একদিন তার সন্তানরা বড় হয়ে মানুষের মত মানুষ হবে । তার সকল দুঃখ কষ্ট দূর করবে ।

মোহাম্মদ রুবেল। পেশায় একজন রিকশা চালক। তার বাড়ি নোয়াখালী জেলায় ।জীবিকার টানে এসেছেন চট্টগ্রাম। এক ছেলে ও এক মেয়ে । পুরো পরিবারসহ থাকে ভাড়ার বাসায় । প্রতিদিন খুব ভোরে রিকশা নিয়ে বের হয়ে যান রুবেল। শহরের আনাচে কানাচে রিকশা চালিয়ে উপার্জন করেন । নিজে কষ্ট করেও সব সময় চেষ্টা করেন সন্তানদের ভালো রাখতে। তাদের  ভালোভাবে লেখাপড়া করাতে পারলে শান্তি ।এভাবেই সারাদিন খাটা খাটনির পর যখন ঘরে ফিরেন তখন প্রায় মধ্যরাত । বাচ্চারা তখন গভীর ঘুমে । ঘুমন্ত অবস্থায় বাচ্চাদের আদর করেন তিনি । বলতে গেলেই বাচ্চারা তাকে দেখেই না ।
তাই মে দিবসের এই দিনটা সময় কাটানোর দিন বাচ্চাদের সঙ্গে।

আহমেদ সুমন । জন্ম চট্টগ্রামের পটিয়া । স্থানীয় একটি পোষাক কারখানার শ্রমিক তিনি । সদ্য বিবাহিত এক সন্তানের পিতা।  প্রতিদিন সকাল সাতটা কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য বের হয়ে পড়েন  তিনি। সারাদিন পার করে বাসায় আসে অনেক সন্ধ্যায়।  পরে ।শত সুখ দুঃখের মাঝে প্রায় একই রকম করে কেটে যাচ্ছে তার জীবন । ছুটির দিনগুলোতে নিজের মত করে কাটাতে পছন্দ করে তিনি ।

Comments

comments