ঢাকা, রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ | ০৩ : ১৩ মিনিট

122
লস এঞ্জেলেসে একটি সংগঠনের নাম ‘বাফলা’ ফেডারেশন। এই সংগঠনটির নিজস্ব সঙ্গীত আছে । যার সুর সাবিনা ইয়াসমিন আর রুণা লায়লার দ্বৈত কণ্ঠে গাওয়া গানের নকল সুর । এ গানটি যে কোনো অনুষ্ঠানে গাওয়ার সময় সবাইকে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয় । এবারও তারা ২৬ মার্চে স্বাধীনতা দিবস পালনের প্রস্তুতি নিতেছে। সেখানে তারা উল্লেখ্য করছে ৪৬তম স্বাধীনতা দিবস হিসেবে। যা হওয়ার কথা ৪৭তম

এরা বাংলাদেশের ২১ ফেব্রুয়ারি, ৭ মার্চ, ১৫ আগস্ট, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস ইত্যাদির কোনোটি পালন করে না । আবহমান বাংলার বর্ষবরণও এরা উদযাপন করে না । ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের বদলে এরা ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড’ পালন করে ।

‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড’ অনুষ্ঠান মঞ্চে স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ্যত্ব বা  বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনো আলোচনা করা হয় না । এমন কী কোনো সভা সেমিনারেও । 
প্যারেডে কুচকাওয়াজ হয় না । হয় পদযাত্রা। সবাই হেসে-খেলে আনন্দ-উল্লাস করে, কিন্তু কারও কণ্ঠে থাকে না ‘জয় বাংলা’ স্লোগান । বাংলাদেশের বিশাল পতাকা ধরাধরি করে নিয়ে যায়, কিন্তু তার সামনে-পিছনে কোথাও বঙ্গবন্ধুর ছবি থাকে না ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ৩০ লক্ষ শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয় না। 
কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মানিত করা হয় না ।ঢাকা থেকে শিল্পী এনে গান-বাজনা করানো হয়, কিন্তু ‘৭১-এ স্বাধীনতায় উজ্জিবীতকরণ গানগুলো কখনো পরিবেশন করা হয় না। ্‌মুক্তিযুদ্ধের নাটক বা গীতিনাট্য মঞ্চস্থ করে না ।
 
‘স্বাধীনতা ডে প্যারেড’ নামে অনুষ্ঠানের আয়োজনে সহযোগী কারা ? নি:সন্দেহে লস এঞ্জেলেসে ধর্ণাঢ্য ব্যক্তিরা। যাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা একটি কাগুজে সংগঠন আছে । তারা সেই সংগঠনের মুখ্যব্যক্তি। তাদের অঢেল ডলার উদ্বৃত্ত আছে । ট্যাক্স সহজিকরণের জন্য তারা এই সংগঠনের অধিকারী।

বাফলা’র সঙ্গে যুক্ত আছে ‘মুনা’র প্রতিষ্ঠাতা আমেরিকা প্রবাসী যুদ্ধাপরাধী আশরাফুজ্জামান খান । আমেরিকার পশ্চিম অংশে ‘মুনা’র সভাপতি একসময়ের শিবির নেতা আনিসুর রহমান । এছাড়া যুক্ত আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা।  
উল্লেখ্য,  ২০১৩ সালে ‘মুনা’ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়ের বিরুদ্ধে কনসাল জেনারেল অফিসে বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙাচুর, রাস্তায় মানববন্ধন করেছিল । ঢাকার গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে ফটোশপ করে তারা মিথ্যাচার করেছিল । তথাকথিত হাজার হাজার হেফাজতীদের হত্যার বিরুদ্ধে জাতিসংঘে ধর্না দিয়েছিল । বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এরাই এখান থেকে অর্থ সাহায্য জুগিয়ে থাকে ।
যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মুজাহিদী, কামরুজ্জামান, আবুল কালাম আজাদ (বাচ্চু রাজাকার) এবং ব্যরিস্টার রাজ্জাকদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে লস এঞ্জেলেসে গোপন মিটিং করেছিল ।
জানা যায়, ‘বাফলা’ মূল নিয়ন্ত্রক, তথাকথিত পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর মোনায়েম খানের সন্ত্রাসী ছাত্র সংগঠন এনএসএফ-এর সাবেক নেতা মাহবুব খান । যারা না বুঝে ‘বাফলা’এর সংস্পর্শে গিয়েছিল তাদের অনেকে এদের আসল চরিত্র এবং উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে ইতোমধ্যে সরে গেছে ।
বাংলাদেশকে বিশ্বে বিকৃতভাবে উপস্থাপনার অপরাধে এদেরকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে বিচারের আওতায় আনা উচিৎ । অথবা চিরজীবনের জন্য বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত ।
 
জয় বাংলা

মজিবর রহমান খোকা: মুক্তিযোদ্ধা ও  প্রকাশক, লস এঞ্জেলেস থেকে

Comments

comments