ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮ | ০৪ : ১৭ মিনিট

আর্ন্তজাতিক নারী দিবস উপলক্ষে  মুক্ত আসর এর যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক আয়শা জাহান নূপুর  লিখেছেন নারী দিবস নিয়ে..

নারীর জন্য কি কোনো নির্ভরযোগ্য পৃথিবী আছে?এ প্রশ্নের উত্তর জানা আগে জরুরি–মানুষের জন্য নিরাপদ পৃথিবী আছে কিনা?

সৃষ্টির রহস্য স্বয়ং ঈশ্বর উন্মোচন করেননি। নারী,পুরুষ যৌথভাবে টেনে যাচ্ছে তাদের উত্তরাধিকার পরবর্তী প্রজেন্মর জন্য। তারা একত্রে বেড়ে ওঠেন,শিক্ষা গ্রহণ করেন, চাকরি করেন, ভালোবাসেন,সন্তান জন্মদান করেন। পৃথিবীর নিয়মে পার্থিব জীবন অতিক্রম করেন। এ পর্যন্ত কোনো সমস্যা নেই বা আমরা উপলব্ধি করি না।

তাহলে সমস্যা কোথায়?

শিশু জন্মানো সময়ে স্রষ্টা তার লিঙ্গ নির্ধারণ করে দেন।বাকি কাজটা আমাদের সমাজ দায়িত্ব নিয়ে সম্পূর্ণ করেন। শৈশবে আমাদের কন্যা শিশুটিকে জানানো হয়,তুমি মেয়ে,তুমি এটা করতে পারবে না,ওর সাথে খেলবে না ঐ জায়গায় যাবে না,এভাবে ভাববে না, বড়দের মধ্যে কথা বলবে না ইত্যাদি। অনেকগুলো ‘না’ শব্দের মধ্যে দিয়ে সে বড় হতে থাকে।

আমরা কি আমাদের ছেলে শিশুটিকে এই পরিবেশে বড় করি? আমি নিজেই কেন কন্যা বা ছেলে শিশু বলছি!
কেননা এটা আমাদের মজ্জাগত সমস্যা।
আমরা অনেকেই এই সমস্যায় আক্রান্ত। সংক্রামিত হচ্ছে গোটা পৃথিবী। অনেকে নিজ দায়িত্বে বেড়িয়ে এসেছেন। নতুন করে ভাবছেন, বিভাজনের দেয়াল ভেঙে মানুষের মতো বলছেন।
সে সংখ্যা হয়তো যথেষ্ট নয়। ক্ষতি কি!
আমরা আসলেই কি চাচ্ছি?
অধিকার।
কিসের অধিকার!
নারীর অধিকার।
কই,আমি তো চাচ্ছি না। আমি মানুষের অধিকার দাবি করছি যেহেতু আমি নিজেকে মানুষ ভাবি।
কার কাছে চাচ্ছি?
পুরুষের কাছে।
সে কী অধিকার দিবে আমাদের!তার নিজের কি অধিকার আছে যার ফলে সে আমাকে আমার অধিকার দিতে পারে!
আমার অধিকারের জায়গা জুড়ে আছে-স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ,সু-শিক্ষা নিশ্চিত করা,স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া,নিজেকে মেয়ে বা নারী হিসেবে নয়,মানুষ হিসেবে ভাবনার জায়গাটা তৈরি করা,আমি যেন যোগ্যতা প্রমাণের পরিবেশ পাই এবং সেভাবেই মূল্যায়িত হই,সাবলীল পোষাক যাতে আমার ব্যক্তিত্বকে আঘাত না করে,আমরা সন্তান যেন মানুষ হয়ে ওঠে যাবতীয় বিভেদ ভুলে।তাকে আমি কিছুতেই নারী কিংবা পুরুষের প্যাকেটে ভরতে পারব না।

নারী কিংবা পুরুষ কেউই আমাদের প্রতিপক্ষ নয়। আমাদের প্রতিপক্ষ এ সমাজ ব্যবস্থা। যার অগ্রভাগে দাড়িয়ে আছে-আমার বাবা,ভাই,প্রেমিক,স্বামী কিংবা সন্তান।

আমি অবাক হই যখন দেখি আমার চেয়ে কম যোগ্যতার একজন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে নেয় কেবল পুরুষ বলে। অথচ একজন নারী প্রতিষ্ঠিত হলে তার চরিত্রগত ত্রুটি সামনে চলে আসে। হয়তো একদিন এ ঝড় থেমে যাবে। কিন্তু এ পথ বড় বন্ধুর।

একজন নারী যখন তার ভাবনার দুয়ার খুলতে চায়,অসংখ্য দুয়ার তাকে পেড়িয়ে আসতে হয়। তাকে নিয়ে যত্রতত্র আলোচনার ঝড় ওঠে। অবশেষে সমাজ এই সিদ্ধান্তে আসে-নারী নিজের জন্য দায়ী।

হোক না পুরুষের জন্যও আলাদা একটা দিন। দিন শেষে দিনে কী বা আসে যায়!প্রতিটি দিন আমাদের জন্য নিরাপদ হোক।

“আমাদের অধিকার আমাদের বুঝে নিতে হয়।
অধিকার কে কাকে দেয়।”

যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক, মুক্ত আসর, ঢাকা।

 

Comments

comments