ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৮ | ০২ : ৩৩ মিনিট

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ১৯৪৪ সালে ১ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের মিটামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন রাজনীতিবিদ। বর্তমানে বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি। তিনি নবম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসাবে ২৫ জানুয়ারি ২০০৯ সাল থেকে ২৪ এপ্রিল, ২০১৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁর মৃত্যুর ৬ দিন পূর্বেই ১৪ মার্চ, ২০১৩ তারিখে তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে আসীন ছিলেন। ২০১৩ সালে ২৪ এপ্রিল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ভারপ্রাপ্ত স্পিকার শওকত আলী’র কাছ থেকে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় তাঁকে ২০১৩ সালে স্বাধীনতা দিবস পদকে ভূষিত করা হয়।
৪ মার্চ ২০১৭, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ হাজারো শিক্ষার্থীর মিলনমেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে এক প্রাণবন্ত বক্তৃতা দেন।সেই বক্তৃতার অংশবিশেষ-

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ছবি : সংগৃহীত

আমার নিজের কাছেই অবাক লাগে, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর। ৬১ সালে আমি ম্যাট্রিক পাস করেছি এবং থার্ড ডিভিশন। আর আইএ পাস করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আসলাম কিন্তু ভর্তি তো দূরের কথা, ভর্তির ফরমটাও আমাকে দেওয়া হলো না। বন্ধুবান্ধব অনেকে ভর্তি হলো, আর আমি ছাত্ররাজনীতি সঙ্গে ওসময়ে তো আমি যুক্ত। যখন এখানে ভর্তি হতে পারলাম না। বাধ্য হয়ে আবার নিজ জেলায় গুরুদয়াল কৃপায় গুরুদয়াল কলেজে সুযোগ পেয়ে গেলাম।

তবে ৬১ সাল আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম করতাম। ওই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমরা অনুসরণ করতাম। যার জন্য প্রায়  ঢাকায় আসতে হতো, আসলাম। বিভিন্ন হলে রাত্রিও যাপন করতাম। এমন কোনো হল নাই তখনকার যা ছিল সময়ে ঢুকি নাই বা থাকি নাই। অবশ্য রোকেয়া হলে থাকি নাই, ঢুকিও নাই। সেই সুযোগ ছিল না। তবে রোকেয়া হলের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছি কম না।

আমাদের কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। তবে সমাবর্তনে আমাদের ডাকা হতো না। যারা অনার্স-মাস্টার্সে ছিল, তাদের ডাকা হতো। কনভোকেশনে ক্যাপ-গাউন পরার খায়েস ছিল। কিন্তু আল্লাহর কী লীলা খেলা, বুঝলাম না, যেই ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হইতে পারলাম না, সেইখানে আমি চ্যান্সেলর হইয়া আসছি।শুধু এই ইউনিভার্সিটিই না। বাংলাদেশে যতগুলি পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আছে, সবগুলির আমি চ্যান্সেলর।

আমি ছাত্ররাজনীতি করেছি। এবং একটা মহকুমারে ছাত্রসংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে কাজ করেছি। গুরুদয়াল কলেজের আমি ভিপি-জিএস ছিলাম। নির্বাচিত। তখন ছাত্রদের সাথে আমরা এমভাবে চলছি, এত ভালো ব্যবহার করেছি, চলেছি যেন তারা আমারে ভোট দেয়। আর ভালো ভালো ছাত্র যারা মেট্রিক ফাসডিভিশন পেয়েছে বা ইন্টারমেট্রিকে ভালো রেজাল্ট করেছে তাদেরকে রিকেস্ট করতাম। যাতে আমাদের দলে যুক্ত করা হয়। একটু রাজনীতি দূলে থাকতে চায়। কেউ অসুস্থ হলে তাদের দুর্বল করার জন্য ডাব-কলা-আনারস নিয়ে দেখতাম গেছি।অর্থ্যা তাদের দূর্বল করার জন্য যাতে করে আমাদের দলে সম্পৃক্ত হয়। এভাবে সাধারণ ছেলেরা যখন কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য আসতো তখন তাদের ফরমও ফিলাপ পর্যন্ত করে দিয়েছি। এই ভাবে সাধারণ ছেলেদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছি।

এখন কী হইছে বুঝি না…।

নিজের কথা কী বলব, ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়েই বিয়ে করে ফেলেছি। কিন্তু এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রসংগঠনের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারির বয়স ৪৫-৫০ বছর। আমি একটু আর্লি করসি। তবে ২৫-২৬ বছর যদি বিয়ের বয়স ধরা হয়, তবে তো তার ৫০ বছর বয়সে এক সন্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কথা। বাপ-বেটা মিলে ইউনিভার্সিটিতে থাকার কথা। বাপ নেতা আর ছেলে ছাত্র। এটা হতে পারে না।’

৫০ বছর বয়সে যদি নেতৃত্ব দেন, তাহলে যাঁদের বয়স ২০-২২-২৫ বছর, তাঁদের সঙ্গে অ্যাডজাস্টমেন্ট কীভাবে হবে? সুতরাং ডাকসু নির্বাচন ইজ আ মাস্ট। নির্বাচন না হলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে শূন্যতার সৃষ্টি হবে।

সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করতে হবে। কেউ অবশ্য বলতে পারেন, কিছুদিন আগে রেলমন্ত্রী বিয়ে করেছেন। এটা রেয়ার কেস। অসময়ের কিছু সব সময় ভালো হয় না। আমাদের দেশে বারোমাসি কাঁঠাল পাওয়া যায়। তবে বৈশাখ মাসে যে কাঁঠাল পাওয়া যায়, কার্তিক মাসে এত মজা লাগে না।

৬৫ সালে বিএ পাস করার কথা ছিল। কিন্তু পাস করসি ৬৯ সালে। এর মধ্যে পরীক্ষার সময় দুইবার জেলে ছিলাম। এলাকার লোকজন কথা বলে। কেন পাস করতে পারি না। পরে এক জনসভায় ঘোষণা দিলাম, আইয়ুব খান-মোনায়েম খানকে উৎখাত না করা পর্যন্ত বিএ পাস করতে চাই না। এরপর থেকে বিএ পাস নিয়া কেউ কথা বলে নাই।

মনের কথা সব কিছু লেখা বড়ই কঠিন। আগে তো আমরা প্রেমপত্র লিখতাম। বিভিন্ন বই থেকে দেখে কোটেশন দিতাম। এখন প্রেমপত্রও লেখা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন মেসেজ। প্রেমপত্র লেখাও একটা সাহিত্য ছিল। একটা আর্ট ছিল।

Comments

comments