ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮ | ১২ : ৪৩ মিনিট

4  প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলা ভূমি চট্টগ্রামের কাপ্তাই লেক। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলার একটি কৃত্রিম হ্রদ এটি। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুত কেন্দ্রটিও এখানেই স্থাপিত।
১৯৫৬ সালের দিকে পাকিস্তান সরকার আমেরিকার অর্থায়নে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ শুরু করে। দীর্ঘ ছয় বছর পর ১৯৬২ সালের দিকে এর নির্মাণ শেষ হয় ।
এ বাঁধের পাশেই ১৬টি জলকপাট সংযুক্ত একটি পানি নির্গমন পথ রাখা হয়েছে। আঞ্চলিক ভাষায় যাকে বলে কাপ্তাইর বান।
যাই হোক ,এমন অপূর্ব সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে হারিয়ে যেতে যাত্রা শুরু করলাম আমরা কয়েকজন চট্টগ্রামের মুক্ত আসরের বন্ধুরা।
5উদ্দেশ্য একটাই- অপরূপ এই সৌন্দর্য উপভোগ করা। সারাদিন হৈ চৈ করে আনন্দ আর লেকের বুকে নৌকায় চড়ে বেড়ানো। লেকের নীলাভ জলরাশি মনকে পুলকিত করে তোলে। ছোট ছোট নৌকাগুলোতে পর্যটকরা ছুটে চলেছে লেকের বুকে।
আর দূরে যাত্রী বোঝাই করা দোতলা কাঠের লঞ্চও চোখ এড়াই না।
হরিনা, জুরিছডি, মাইনী, লংগদু, বাঘাইছডি, বিলাইছডির পথে ছুটতে দেখা যায় কিছু পর্যটকদের। ঘাটে দেখা যায় মাছ ধরা জেলে, মাঝিদের ব্যস্ততা। আদিবাসীদের বসবাসও এই অঞ্চলেই। যতই ভিতরে এগুনো যায় ততই আদিবাসীদের জীবন যাপন চোখে পড়ে। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে দাড়িয়ে থাকা জুমঘরগুলো তো অসাধারণ। পাহাড়ি বড়ই /কুল গাছ থেকে নিজ হাতে কুল পেড়ে খাওয়া অনেক রোমাঞ্চকর। সেই সাথে আরও মজার ছিল লেকের পানিতে বাধন আর ইকবালের গোসল করা।
6একটা দিনের জন্য নিজেকে যেন হারিয়ে ফেলেছিলাম প্রকৃতির মাঝে। নৈসর্গিক সৌন্দর্য বোধ হয় একেই বলে। উঁচু -নিচু পাহাড়-পর্বত, পাহাড়ি ঝর্ণা ধারা, আঁকা-বাঁকা পাহাড়ি রাস্তা, স্বচ্ছ পানি আর সবুজের সমারোহ , গাঢ সবুজ বন, গাছ -গাছালি, ফুল-ফল আর উপজাতিদের জীবন ধারা এসব নিয়ে অসাধারণ একটা দিন উপভোগ করলাম।
এতো কিছুর মাঝে একটা কথাই বারবার মনে হচ্ছিল
‌’জন্ম আমার ধন্য হলো মা’গো,
এমন করে আকুল হয়ে আমায় তুমি ডাক।।’

Comments

comments