ঢাকা, রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ | ০৯ : ১১ মিনিট

বীরনারী পদ্মারাণী সরকারের একাত্তরে ঘটনাগুলো নিয়ে ধারাবাহিক লেখা ‘পদ্মরানীর একাত্তরের কথা’। লিখেছেন মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম বাবলু। আজ ​থাকছে শরণার্থী অধ্যায়ের প্রথম ভাগ।
16427786_1448220045223063_4297644483090721800_nতাঁর জন্ম, বেড়ে উঠা মেঘনার কোলে ভৈরব বাজারে। একাত্তরের আমাদের প্রিয় স্লোগান ছিল–‘পদ্মা-মেঘনা-যমুনা/তোমার আমার ঠিকানা।’ সেই ঠিকানায় বাবা সুরেন সরকার ও মা সুভাষিণী সরকারের ঘরে জন্ম নেন পদ্মা রানী। লেখাপড়া করেছেন ভৈরবেই।

বাবার ছিল বেশ বড় মিষ্টির দোকান। দশ গ্রামে সুখ্যাত ছিল সে দোকানের। একদিন পদ্মা জানালেন, ‘এক মরণাপন্ন রোগী নাকি তার শেষ ইচ্ছা জানিয়েছিলেন সুরেন বাবুর দোকানের চা খাবেন।’ দোকানটি ছিল বিশাল আকারে। প্রায় ৩০ জন কর্মচারী নিয়ে। এদের এবং আত্মীয় পরিজনদের রান্না হতো বাসায় ।সকালে থেকে শুরু হতো রান্না চলত রাত অবধি। সুরেন বাবু আত্মীয় স্বজন বাড়িতে আসতে পছন্দ করতেন।

তাঁর দোকানেই সকাল বিকেল বস​ত ‘জয় বাংলা’র মানুষদের আড্ডা।প্রয়াত রাষ্টপতি জিল্লুর রহমানসহ খ্যতিমান অনেকের বসার জায়গা ছিল এই দোকান। তাই মহামান্য রাষ্টপতিকে পদ্মা ডাকতো জিল্লু মামা বলে।যাকে তিনি আগরতলায় বাধ্য করেছিলেন তাকে সামরিক হাসপাতালে নার্স হিসেবে নিয়োগ দিতে।

পদ্মার বাবা মায়ের আদি নিবাস কুমিল্লার মুরাদনগর।গ্রাম কামাল্লা।পদ্মার কথা অনুসারের তিনি ছাত্রী হিসেবে তেমন একটা ভালো ছিলেন না। আবার মন্দও ছিলেন না। ১৯৬৯ সালের ভৈরব মডেল স্কুলে প্রাইমারী এবং ভৈরব গার্লস স্কুল থেকে এস এস সি পাস করেন।এরপর ভর্তি হলেন হাজী আসমত আলী কলেজে।

কেটে গেল কয়েকটা মাস।
বাবা সুরেন সরকারের ছিল পত্রিকা পড়ার নেশা ।ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া নষ্ট হবে বিবেচনায় আর্থিক সামর্থ্য থাকার সত্বেও রেডিও রাখতেন না বাড়িতে ।পত্রিকা রাখতেন বাসায়।পদ্মাকে ডেকে বিশেষ খবর পড়ে শুনাতেন।তিনি জানতেন না এভাবে তার মেয়েকে গড়ে তুলছিলেন তিনি। যে এক মহাদুর্যোগে হাল ধরবে তার সংসারের।যাবে যুদ্ধে।নিয়তি নির্দিষ্ট যার যুদ্ধে। সে কেন থাকবে চুপ করে হাজী আসমত আলী কলেজে বসে!

বাবার আনা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ নার্সিং ইন্সটিটিউটে নার্স ভর্তির বিজ্ঞতি। অনুমতি চাইলেন ঢাকায় গিয়ে পড়বার।বাবা কিছুতে রাজি না। কিভাবে রাজি করা যাবে সেই চিন্তায় অস্থির। সেকালে ভৈরব বাজারের একটি মেয়ে যাবে ঢাকা শহরে,থাকবে হোষ্টেলে।ভাবা যায়! কিন্তু কি করবেন সুরেন বাবু।
সর্বকালেই যেমন বাবা জিম্মি হয়ে যান মেয়েদের জেদের কাছে তেমনি তিনিও বাধ্য হলেন মেয়ের মতে মত মেলাতে। তারপর ঢাকায় লোকাল অভিভাবক ঠিক করে ফুল মার্কা টিনের তোরংগ (আজকের মত সুটকেস ছিল না তখন)নিয়ে পদ্মা রাণী সরকার ঢাকা আসেন। তখন ঢাকায় শেখ মুজিব এবং জয় বাংলা ধ্বনিতে ছড়িয়ে গেছে। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ায় এই ধ্বনিতে মুহুমুহু।
(চলবে )

ছবি : রঘু রায়ের ১৯৭১ এর যুদ্ধের এ্যাবাম price of freedom 

Comments

comments