ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ০৩ : ২৭ মিনিট

facebook logo‘ফেসবুক ‘ একটি সামাজিক মাধ্যমের নাম। এই সময়ে ফেসবুকের নাম শুনেনি বা ফেসবুক ব্যবহার করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।  হ্যাঁ কিছু মানুষ হয়তো এখনো ফেসবুকের নাগালের বাইরে । তবে বিশ্বের সব দেশেই সমান তালে এগিয়ে চলেছে এই ফেসবুক। কথা হচ্ছিল ফেসবুক আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ এই বিষয়ে। বিষয়টি খুবই শ্পর্শকাতর কারণ সত্যিই ফেসবুক কিছু কিছু মানুষের জীবনে এসেছে আশীর্বাদ হয়ে আবার কিছু মানুষের জীবনে অভিশাপ হয়ে।

এখন ধরা যাক কাদের জীবনে অভিশাপ হয়ে এসেছে? এক্ষেত্রে আমার অভিমত এক্কেবারে স্বচ্ছ। কিছু কিছু মানুষ ফেসবুকের উপকারিতা সম্পর্কে জ্ঞাত নয়। কিছু সুন্দর ছবি পোস্ট করা, লাইক দেওয়া  বা কোনো স্ট্যাটাস পোস্ট করা-এটাই কি ফেসবুকের ব্যবহার ?

ফেসবুকের মাধ্যমে অনেক ভালো কাজ করা যায়। কিছু মানুষ এটাকে অপব্যবহার করে থাকে । সেক্ষেত্রে বলব ফেসবুক তাদের জন্য অভিশাপ। ফেসবুকের মাধ্যমে কিছু মানুষ সম্পর্ককে এতো নোংরা পর্যায়ে নিয়ে যায় যা তাদের কাছে অভিশাপ রূপে ধৃত হয় ।

কি বলতে চাইছি নিশ্চিই বুঝতে পেরেছেন ? অনেকের মুখে এমনও শুনেছি, ফেসবুক খুব খারাপ জিনিস। এটা ব্যবহারে শুধু সময়ের অপচয়। আসলে সত্যটা তা নয়। যদি খারাপ ভাবে ব্যবহার করা হয় তবেই এটা খারাপ।ফেসবুক আশীর্বাদ, কথাটা আমি আমার জীবন দিয়ে বুঝতে ও উপলব্ধি করতে পেরেছি । তার সবচেয়ে জলজ্যান্ত প্রমাণ সংগঠন মুক্ত আসর ।মুক্ত আসরের মত এতো মহৎ এবং বড় সংগঠনে নিজেকে কিছুতেই যুক্ত করাতে পারতাম না যদি ফেসবুক না থাকতো।

তাই এই ক্ষেত্রে আমি দৃঢ চিত্তে বলতেই পারি, ফেসবুক একটি আশীর্বাদ মাধ্যম। এর মাধ্যমে পরিচয় হয়েছিল মুক্ত আসরের সঙ্গে । তাঁদের কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত হয়ে যুক্ত হলাম মুক্ত আসরে। ফেসবুক না থাকলে হয়তো এটা সম্ভব হতো না। এক্ষেত্রে আমরা ফেসবুকের অপব্যবহার করে আমাদের সম্পর্ককে খারাপ করি নি বরঞ্চ ফেসবুককে ব্যবহার করে একটি মহৎ কর্মকান্ডের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

ফেসবুকের মাধ্যমে এখন অনেক জিনিস হাতের নাগালে চলে এসেছে । কারো হয়তো একজন গায়ক ,নায়ক , টিভি ব্যক্তিত্ব বা কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে ভালো লাগতে পারে। খুব ইচ্ছে হতে পারে প্রিয় মানুষটির কর্মকাণ্ড জানতে, সে ক্ষেত্রে ফেসবুক হচ্ছে সবচেয়ে বড় মাধ্যম যা সেই ব্যক্তির মনো বাসনা পূর্ণ করতে পারে। খুব সহজেই পছন্দের মানুষের কার্যক্রম সম্পর্কে ভালো লাগা , মন্দ লাগা অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে।

ফেসবুকের আরেকটি বড় আশীর্বাদ হচ্ছে পুরোনো বন্ধুদের ফিরে পাওয়া। ধরুন আপনি স্কুলে পডাকালীন কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুললেন ।স্কুল জীবন পাড় করে কলেজ জীবনে আসার পর কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে ।এমনকি আপনি জানেনও না সেই বন্ধুটি এখন কেমন আছে, কোথায় আছে? ফেসবুকেই দুইজনকে পুনরায় মিলন ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরেকটা আশীর্বাদ হচ্ছে, মনে করুন কোনো একটা দর্শনীয় স্থানের নাম আপনি অনেক শুনেছেন এবং সেখানে যাওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেন ।কিন্তু সময় আর সুযোগের কারণে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। দেখা গেল আপনার কোন এক বন্ধু সেই স্থানে গেল এবং তার সুবাদে জায়গাটি দেখতে পারেন । ফেসবুক ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করা । আপনার মনের কথা গুলো সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে ফেসবুকের তুলনা হয় না । তাছাড়া দেশের অভ্যন্তরে অঞ্চলভিত্তিক রীতিনীতি ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়ার বড় মাধ্যম কিন্তু এই ফেসবুক কারণ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সাথে বন্ধুত্বভাবাপন্ন সম্পর্ক বজায় থাকার কারণে বা প্রত্যক্ষ ভাবে তাদের সঙ্গে মেশার কারণে জানা যায় তাদের কৃষ্টি , আচার আচরণ, সংস্কৃতি।

তাই এই  গুরুত্বপূর্ণ একটা মাধ্যমকে অপব্যবহার না করে সঠিক ব্যবহার করে দেশ ও সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়

 

Comments

comments