ঢাকা, রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ | ০৯ : ২০ মিনিট

ভাষাসংগ্রামী মির্জা আনোয়ারুল ইসলাম

ভাষাসংগ্রামী মির্জা আনোয়ারুল ইসলাম

ভাষাসংগ্রামী ও মুক্তিযোদ্ধা মির্জা আনোয়ারুল ইসলাম (৮৩) গতকাল বুধবার দুপুরে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, আত্মীয়স্বজন ও অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

মুক্তিযোদ্ধা, ভাষা সংগ্রামী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও দিনাজপুর নাট্য সমিতির সভাপতি সিপিবি দিনাজপুর জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি মির্জা আনোয়ারুল ইসলাম তানু পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে ১৯৩৫ সালের ১০ মে তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৪ সালে দিনাজপুর জিলা স্কুল থেকে মেট্রিক পাশ করেন। স্কুলে অধ্যয়নকালে তাঁর বন্ধু সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদসহ ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।

মির্জা আনোয়ারুল ইসলাম তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের নেতা হিসেবে ১৯৬২ সালের ছাত্র আন্দোলন ও ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ -কমিউিনিস্ট- ছাত্র ইউনিয়ন যৌথ গেরিলা বাহিনীর সংগঠক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৫ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট দিনাজপুরের আহ্বায়ক ও সভাপতি এবং দিনাজপুর উদীচীর সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধ শেষে দেশ পূণর্গঠনে দিনাজপুরে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি এবং দলটির কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য ছিলেন।

স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে দিনাজপুরে সর্বদলীয় নেতা হিসেবে নেতৃত্ব দেন। ১৯৮৫ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট দিনাজপুরের আহবায়ক এবং পরবর্তীতে সভাপতি এবং দিনাজপুর উদীচীর সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি ১৯৯৪ সাল হতে  সাপ্তাহিক দেশবার্তা ও ২০০১ সাল হতে প্রকাশিত দৈনিক আজকের দেশবার্তার প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ” সংবাদ পাঠক ফোরাম” দিনাজপুরের সভাপতি ছিলেন।

১৯৬৩ সালে নাট্য সমিতির সদস্য এবং ১৯৯৪ সালে নাট্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৪ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি নাট্য সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

Comments

comments