ঢাকা, সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮ | ১১ : ৩৭ মিনিট

December 1st, 2016

তাহের আহমেদ। ছবি : মুক্ত আসর

তাহের আহমেদ। ছবি : মুক্ত আসর

আজ ১ ডিসেম্বর। বিজয় মাসের প্রথম দিন। এই দিনে মুক্ত আসরের প্রথম প্রধান উপদেষ্টা মেজর (অব.) তাহের আহমেদ জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার নিজ ভাওরে গ্রামে জন্ম নেন। তাঁর বাবার নাম সাইদুর রহমান, মা তহুরুন নাহার এবং স্ত্রী আনজুমা আখতার।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ দেখে তাহের আহমেদ মনে মনে ভাবলেন, দেশের দুর্দিনে চুপ করে বসে থাকবেন না। প্রতিজ্ঞা করলেন, তাঁকে কিছু একটা করতেই হবে। তারপর মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকলেন। ২৫ মার্চের আগ থেকে অসুস্থ বাবা হাসপাতালে। ঢাকার বাসাবোর বাড়িতে মাসহ তাঁরা সাত ভাইবোন। বড় ভাই তাঁর উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে বকাবকি করলেন। দমে গেলেন না তিনি। মা বুঝতে পেরে একদিন ১০০ টাকার দুটি নোট বের করে তাঁর হাতে দিয়ে বললেন, ‘যাও, আমরা বুঝি শেষ হয়ে গেলাম।’ মায়ের কথা শুনে তাহের আহমেদ মনে শক্তি পেলেন। মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওনা হলেন ভারতের উদ্দেশে।
তাহের আহমেদ ১৯৭১ সালে ঢাকা কলেজের বিএসসির ছাত্র ছিলেন। ভারতে যাওয়ার পর প্রথম বাংলাদেশ ওয়ার কোর্সে যোগ দেন। মূর্তিতে প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধ করেন ১১ নম্বর সেক্টরের ঢালু সাব-সেক্টরে। তিনি ঢালু সাব-সেক্টরের একটি কোম্পানির অধিনায়ক ছিলেন। বুরেরচর, নকলা, তেলিখালীসহ আরও কয়েকটি যুদ্ধে অংশ নেন।
বুরেরচর যুদ্ধে যথেষ্ট রণকৌশল প্রদর্শন করেন। শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের কাছে বুরেরচর। জামালপুরের বেগুনবাড়ি সেতু ধ্বংসের জন্য তাঁর নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা অবস্থান নিয়েছিলেন সেখানে। চরের পাশে ছিল রেলস্টেশন।

তাহের আহমেদরা বুরেরচরে অবস্থানকালে ট্রেনে সেখানে একদল পাকিস্তানি সেনা আসে। তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন তাদের আক্রমণের। পরিকল্পনামতো বেলা ১১টায় তাঁরা একযোগে পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণ চালান। পাকিস্তানি সেনারা ছিল বেড়িবাঁধের পূর্ব পাশে। আর তাঁরা ছিলেন পশ্চিম পাশে। মুক্তিযোদ্ধারা তাঁর নেতৃত্বে অত্যন্ত সাহস ও ক্ষিপ্রতার সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাদের ওপর আক্রমণ করেন। দুপুর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত যুদ্ধ চলে। মুক্তিযোদ্ধাদের অব্যাহত আক্রমণে পাকিস্তানি সেনারা দিশেহারা হয়ে পড়ে।
এরপর পাকিস্তানি সেনারা পালিয়ে নদীর পাড়ে সমবেত হয়। গ্রামবাসীর সহযোগিতা ছাড়া তাদের পক্ষে নদী অতিক্রম করা সম্ভব ছিল না। এ সময় তাহের আহমেদ একটি কৌশল প্রয়োগ করেন। তিনি কয়েকজন গ্রামবাসীকে বলেন নৌকায় করে পাকিস্তানি সেনাদের পার করে দেওয়ার ভান করতে। নৌকা যখন মাঝনদীতে যাবে, তখন তাঁরা আক্রমণ চালাবেন। এর আগে তিনি গ্রামবাসীকে সংকেত দেবেন। সে সময় তাঁরা পানিতে ডুব দেবেন।

তাহের আহমেদের এই কৌশল সফল হয়। নৌকা মাঝনদীতে যাওয়ামাত্র গ্রামবাসী পানিতে ডুব দেন। তখন মুক্তিযোদ্ধারা একযোগে পাকিস্তানি সেনাদের ওপর আক্রমণ চালান। তাঁদের আক্রমণে সব সেনা নিহত হয়।

আজ তাঁর জন্মদিনে স্বপ্ন’৭১রকে বলেন, ‘ মুক্তিযুদ্ধের কারণে আর মৃত্যুর চিন্তা করি না। তবে জীবনের শেষ দিন পযর্ন্ত মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নে কাজ করে যাবো। ’ তিনি তাঁর নিজ গ্রামের একটা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিগুলোর আলোকে একটা পার্ক নির্মাণ করার কথা বলেন।

 

Comments

comments