ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮ | ১২ : ২৯ মিনিট

আজ শনিবার। ১২ নভেম্বর ২০১৬, ২৮ কার্তিক ১৪২৩ বঙ্গাব্দ। আজকের দিনে পৃথিবীতে যা ঘটেছিল। সেই ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়

ajit-kumar-guha১৯৬৯ সালের আজকের দিনে ভাষা সংগ্রামী, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ অজিতকুমার গুহের মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৯১৪ সালের ১৫ এ্রপ্রিল, কুমিল্লার সুপারিবাগানে জন্ম গ্রহন করেন। পিতা নৃপেন্দ্রমোহন গুহ। অজিতকমার গুহ ১৯৩০ সালে ঈশ্বর পাঠশালা থেকে প্রবেশিকা, ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ১৯৩২ সালে আইএ এবং ১৯৩৪ সালে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩৯ সালে ইন্ডিয়ান ভারনাকুলারস (ভারতীয় ভাষাতত্ত্ব) বিষয়ে এমএ এবং পরবর্তী সময়ে বিটি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৪০-৪২ সাল পর্যন্ত শান্তিনিকেতনে অবস্থান করে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সংস্পর্শে আসার বিরল সুযোগ লাভ করেন।

কলকাতা থেকে ফিরে ১৯৪২ সালের শেষ দিকে ঢাকায় প্রিয়নাথ হাইস্কুলের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন অজিতকুমার। এখানে ছয় বছর শিক্ষকতা করার পর ১৯৪৮ সালের ১৬ আগস্ট জগন্নাথ কলেজে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করে একটানা প্রায় ২০ বছর (১৯৬৮ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত) কর্মরত ছিলেন। তাঁর জীবনের সুখ-দুঃখের অনেক স্মৃতির সঙ্গে জগন্নাথ কলেজের নাম জড়িয়ে আছে। ছাত্রছাত্রীদের অপরিসীম শ্রদ্ধা, সহকর্মীদের আন্তরিকতা তিনি পেয়েছিলেন। কলেজ প্রশাসনের উদার দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অজিতকুমার গুহ শিক্ষকতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক স্রোতধারার সঙ্গে যুক্ত থেকে প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক ধ্যান-ধারণা প্রতিষ্ঠায় নিজের শ্রম ও মেধাকে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছিলেন।

অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনার জন্য অজিতকুমার যেমন শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন; আবার এই একই কারণে সরকারের রোষানলে পড়ে তিনি ১৯৪৮ সালে প্রথম কারাবরণ করেন। ভাষা আন্দোলনের একজন বলিষ্ঠ সংগঠক হিসেবে তাঁকে ফের ১৯৫২ সালে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৫৪ সালে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার কয়েক মাস পর তিনি পুনরায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাবাস করার কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর কারাজীবনের সঙ্গী ছিলেন আবুল হাশিম, অলি আহাদ, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী প্রমুখ।

একজন কৃতী সাতিহ্য সমালোচক হিসেবে সর্বমহলে অজিতকুমার গুহ ছিলেন সমাদৃত। সম্পাদনায় তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্তের অধিকারী। মেঘদূত, কৃষ্ণকান্তের উইল, গীতবিতান, গীতাঞ্জলি, সঞ্চয়িতা— এই পাঁচটি গ্রন্থ তিনি সম্পাদনা করেন। তাঁর প্রকাশিত গল্প, প্রবন্ধ ও স্মৃতিকথার সংখ্যা অনেক। ‘কায়কোবাদ: কাব্য সৃষ্টির পটভূমিকা, ‘নজরুল কাব্যে পুরাণ’ ‘রবীন্দ্রকথা’, ‘রবীন্দ্র কাব্যে পরবর্তী পরিবর্তন’, ‘রবীন্দ্রনাথ ও পদ্মা’ শীর্ষক প্রবন্ধগুলো পাঠ করে বাংলা সাহিত্যে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীরা বিশেষ উপকৃত হচ্ছে। অধ্যাপক অজিতকুমার গুহ ও আনিসুজ্জামান রচিত ও সংকলিত নতুন বাংলা রচনা আজও ছাত্রছাত্রীদের কাছে অতি মূল্যবান গ্রন্থ।

জগন্নাথ কলেজের সহকর্মীদের সাথে অজিত গুহ। ছবি : সংগৃহিত

জগন্নাথ কলেজের সহকর্মীদের সাথে অজিত গুহ। ছবি : সংগৃহিত

তিনি প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও চিন্তা-চেতনায় অরাজনৈতিক ছিলেন না বলেই ১৯৬৮ সালে জগন্নাথ কলেজ প্রাদেশিকীকরণ করা হলে পদত্যাগ করে কয়েক মাস বেকার জীবন যাপন করেন। এমতাবস্থায় অনেকটা অনন্যোপায় হয়ে প্রথমে টিঅ্যান্ডটি কলেজের উপাধ্যক্ষ, জুবিলী স্কুলে অবস্থিত নৈশ কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে স্বল্পকালীন দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬৯ সালের ১ বৈশাখ রমনা বটমূলে বাংলা ভাষা সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পর্কে দেওয়া বক্তব্যকে শাসকগোষ্ঠী সামরিক আইনের ১৯ ধারা লঙ্ঘন বলে অভিযুক্ত করে ২৭ এপ্রিল উপ-আঞ্চলিক সামরিক আইন প্রশাসকের পক্ষে মেজর মমতাজ মালিক অজিতকুমার গুহকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনাও তিনি সাহসের সঙ্গেই মোকাবিলা করেন।
অতঃপর কয়েকজন উদারমনা শিক্ষকের প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে একটি বিশেষ পদে যোগদানের বিষয়টি মোটামুটি চূড়ান্ত হলে তিনি অনিচ্ছা সত্ত্বেও ঢাকা ছাড়তে সম্মত হন। চট্টগ্রামে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ১৯৬৯ সালের ১২ নভেম্বর সকালে কুমিল্লায় এসে রাতে নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন।

এছাড়া আজকের দিনে উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যুদিন সর্ম্পকে জেনে নিন

ঘটনা
১৯১৩ : রবীন্দ্রনাথকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করার সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয়।
১৯৩০ : ভারতে ব্রিটিশবিরোধী আইন অমান্য আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লন্ডনে প্রথম গোলটেবিল বৈঠক হয়।
১৯৭০ : বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ও জলোচ্ছ্বাসে ১০ থেকে ১৫ লাখ লোক প্রাণ হারান।
১৯৯০ : পৃথিবীর প্রাচীনতম ও ২ হাজার ৬০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বংশপরম্পরাগত রাজতন্ত্রের সিংহাসনে জাপানের সম্রাট আকিহিতো অভিষিক্ত হন।

জন্মদিন
১৬৪৮ – মেক্সিকান কবি হুয়ানা ইনেস দে লা ক্রসের জন্ম।
১৮৪০ – প্রখ্যাত ফরাসি ভাস্কর ফ্রাঁসোয়া অগুস্ত রোঁদ্যার জন্ম। এখনকার বিশ্বে ভাস্কর্য শিল্প নিয়ে কথা বললেই উঠে আসে অগুস্ত রোঁদ্যার নাম। ঊনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাস্কর মনে করা হয় এই ফরাসিকে। বিশ্বের খ্যাতনামা প্রায় প্রত্যেক জাদুঘরেই রোঁদ্যার অন্তত একটি হলেও ভাস্কর্য রয়েছে। ফ্রান্সের একাধিক জাদুঘরে রোঁদ্যার ভাস্কর্য আছে, আছে দেশের বাহিরেও। কিন্তু তার শিল্পকলার মূল সংগ্রহ সন্নিবেশিত প্যারিসের রোঁদ্যা জাদুঘরেই আছে।

মৃুত্যূ
১৯৮৯ – বিশ্বনন্দিত কমিউনিস্ট নেত্রী, স্পেনের কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও স্পেনের গৃহযুদ্ধের নায়িকা ডলোরেস ইরারুর বিরের মৃত্যু।

তথ্যসূত্র : অনলাইন ও প্রথম আলো
গ্রন্থণা : স্বপ্ন ‘ ৭১ অনলাইন ডেস্ক

Comments

comments