ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮ | ০৪ : ১৫ মিনিট

November 2nd, 2016

iqbal_ansari_khanভাষাসংগ্রামী ও মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল আনসারী খান হেনরীর ৩০ অক্টোবর ছিল ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁর বাবা আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সহসভাপতি আলী আমজাদ খান এবং ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগ্রামী আনোয়ারা বেগম । তাদের বাসাতে বসত রাজনীতি বৈঠক। সেখানে বঙ্গবন্ধুৃ শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই অবস্থান করতেন। তিনি খুব কাছ থেকে দেখতেন এবং রাজনীতি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যেতেন।

ইকবাল আনসারী খান হেনরী জগন্নাথ ও ঢাকা কলেজ ছাত্রসংসদের সহসভাপতি (ভিপি) ছিলেন। ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত হয়ে তিনি দুবার কারাবরণ করেন। তিনি ১৯৫৮ সালে আইন পেশা গ্রহণ করেন এবং রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নানাভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছেন। পাকিস্তানি বাহিনী তাঁকে বেশ কিছুদিন আটকে রাখে। ১৯৮৭-৮৮ সালে রোটারি ডিস্ট্রিক্ট ৩২৮০-এর ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর ছিলেন।

ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে তিনি যে যুক্ত ছিলেন এমন তথ্য পাওয়া যায় ভাষা সংগ্রামী, কবি ও লেখক আহমেদ রফিকের ‘খাজা নাজিমুদ্দিন বেফাঁস কথা বলে ফাঁদে পড়লেন’ শিরোনামে লেখায়। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘জিন্নাহ সাহেবের বক্তৃতা সত্ত্বেও ছাত্রদের একাংশ হাত-পা গুটিয়ে চুপচাপ বসে থাকেনি। যে-যার মত কাজ করে গেছে। যেমন—১৯৪৯ সালে ১১ মার্চের আন্দোলন দিবস পালনে কেউ এগিয়ে না এলেও ছাত্র ফেডারেশনের কিছু সংখ্যক নেতা-কর্মী ঢাকার রাজপথে নামেন। অবশ্য রমনা ছাত্র এলাকায়। ছোট্ট মিছিল নিয়ে শ্লোগান—’রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’। নাদেরা বেগম, নাসির আহমেদ প্রমুখের নেতৃত্বে মিছিলে অংশ নেন মূলত ছাত্র ফেডারেশনের কর্মী ও জনাকয় সমর্থক। পুলিশ বেধড়ক লাঠি চালিয়ে মিছিল ভেঙ্গে দেয় এবং কয়েকজন ছাত্রকে গ্রেফতার করে। যেমন—সৈয়দ আফজল হোসেন, মৃণাল বাড়ড়ি, বাহাউদ্দিন চৌধুরী, ইকবাল আনসারী খান (হেনরী), আবদুস সালাম প্রমুখ। ছাত্রবন্ধু সালামসহ অন্যদের অবশ্য জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। এ ছোট ঘটনাটি উল্লেখ করা হয়েছে তমদ্দুন মজলিসসহ অনেকেরই রাষ্ট্রভাষার দাবিতে পিছিয়ে পড়ার বিষয়টা তুলে ধরতে। এর কারণ সম্ভবত জিন্না সাহেবের বক্তৃতা ও সরকারি দমননীতি।’

ইকবাল আনসারী খান (হেনরী) রাজনীতি নানান অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন ‘ The third eye- glimpses of the politics’ বইটি।

Comments

comments