ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ০৮ : ৩৫ মিনিট

1

‘স্বপ্ন ছিল জাতিসংঘের অধিবেশনে কুটনীতিবিদ হিসেবে বসব। দেশ ও বিশ্বের মঙ্গল সাধনে অগ্রগামী পদক্ষেপ নিব। আজ আমার স্বপ্নপূরণ হল। দেশ ও জাতির কল্যাণে ভুমিকা রেখেছি। গড়েছি ভ্রাতৃত্ববোধ।’

এভাবেই স্বপ্নপূরণের কথা বলছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয়বারের মত অনুৃষ্ঠিত ইউনিস্যাব মডেল ই্উনাইটেড নেশন্স ২০১৬  ইকোফিন কমিটিতে থাকা নেপাল প্রতিনিধি সানাউল্লাহ ফাহিম।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর  ‘বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত লক্ষ্যসমূহের সামঞ্জস্য বিধান করণ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ছায়া জাতিসংঘের অগ্রদূত ইউনিস্যাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় বারের মত  অনুষ্ঠিত হয় ইউনিস্যাব মান ২০১৬।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএনআইসির বাংলাদেশ অফিসার ইন চার্জ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘একদিন এই শিক্ষাথীরাই ছায়া জাতিসংঘের মাধ্যমে আর্ন্তজাতিকভাবে দেশের নেতৃত্ব দিবে এবং জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদান করবে । ইউনিস্যাব মান অত্যন্ত চমকপ্রদ একটি সম্মেলন এবং প্রচলিত শিক্ষার্জনের বাইরে বিভিন্ন জ্ঞান অর্জন করার একটি মাধ্যম।’

2

এই সম্মেলনে ছয়টি কমিটির অধীনে দেশের ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। কমিটিগুলো হচ্ছে ইউনাইটেড নেশন্স ইনভাইরনমেন্টাল প্রোগ্রাম, ইউএন হিউম্যান রাইটস্ কাউন্সিল, ইকোনোমিক এন্ড ফাইনানসিয়াল কমিটি (ইকোফিন), স্পেশাল কমিটি ফর বাংলাদেশ অ্যাফেয়ার্স, ইউএন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম এবং সিকিউরিটি কাউন্সিল ।

সম্মেলনটি শুরু হয় একটি সাধারণ অধিবেশনের মাধ্যমে। যেখানে দেশের ও বিদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের নিজ নিজ কমিটিতে থাকার এজন্ডাগুলো নিয়ে আলোচনা করে । এখানে যুক্তরাষ্ট্র পায় রাশিয়ার মত শক্ত প্রতিপক্ষকে। এখানে ছিল ইসরাইল যে তার নিজস্ব চিন্তাভাবনায় এবং স্বার্থরক্ষায় অবিচল। বিভিন্ন জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এই ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় । আরও আলোচনা হয় আইসিটি ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অধিকারের, বিশ্বব্যাপী মানুষের টেকসই ও নিরাপদ বসবাসস্থল নিশ্চিত করা । টেকসই উন্নয়নের জন্য ই-গভারনেন্স এবং এসডিজি অর্জনে নাগরিক অংশগ্রহণ । সর্বোপরি বিশ্বের সমগ্র গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত লক্ষ্যসমূহের সুষম ব্টন এবং সামঞ্জস্য বিধান করাইে এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য।

3সম্মেলনের শেষ দিন ২ অক্টোবর কমিটি সেশন শেষে সাধারণ পরিষদে রেজুলেশন পাশ করে একটি প্লেনারি সেশনের মাধ্যমে আর্ন্তজাতিক ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন ইউনিস্যাব মান ২০১৬ পূর্নতা অর্জন করে ।  সম্মেলনে ভালো যোগাযোগ দক্ষতা, নেগোশিয়েশনের ক্ষমতা, গঠনমূলক বক্তব্য, তথ্যবহুল পজিশন পেপার তৈরি ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে ৬টি কামিটিতে মোট ২৪টি অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয় ।

এসময়ে স্পেশাল কমিটি ফর বাংলাদেশ অ্যাফেয়াস থেকে অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি বলেন, আমরা আমাদের কমিটিতে মানুষের টেকসই ও নিরাপদ বসবাসস্থল নিশ্চিত করণের জন্য একটি গঠনমূলক পরামর্শ/সমাধানে পৌছাতে পেরেছি । আমি এমন একটি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে পেরে এবং পরিশেষে “বেস্ট ডেলিগেট” অ্যাওয়ার্ড পেয়ে ধন্য মনে করছি এবং ভবিষ্যতে জাতিসংঘের অধিবেশনে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জনে নিজেকে প্রস্তুত করছি”
২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি প্রফেসর মো. ছাদেকুল আরেফিন প্রমুখ ।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, এধরনের সম্মেলনগুলো জাতিসংঘে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার মত হাজারও কুটনীতিবিদ তৈরী করতে অবদান রাখছে । এর মাধ্যমে তরুণরা জাতিসংঘে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে শিখবে এবং এ স্বপ্নপূরণে ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন তাদের পথ প্রদর্শক ।

মো. সিফাত হাসান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Comments

comments