ঢাকা, রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ | ০৩ : ২০ মিনিট

shamoy-boruaশ্যামল বড়ুয়া। এবারে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এই সময়ে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া তেমন কঠিন বিষয় মনে না হলে্ও শ্যামল বড়ুয়া কাছে এই ফলাফল বেশ কঠিন্। তিনি সারাদিন মুদি দোকানে কাজ করে নিজের ও ​বোনের পড়াশোনা খরচ জোগাড় করে এই ফলাফল পেয়েছেন। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ঘুনিয়া গ্রামে শ্যামল বড়ুয়া বাড়ি। সেখানকার লোকজনের মুখে মুখে এখন শ্যামলা বড়ুয়ার স্বপ্ন জয়ে গল্প।

২০১২ সাল থেকে বাবা অসুস্থ। তাঁরা তিন বোন এক ভাই। দুই বোনের আগেই বিয়ে হয়েছিল। বাবার অসুস্থতার কারণে বন্ধ হয়ে যায় শ্যামল ও তাঁর ছোটবোন তৃষ্ণার পড়ালেখা। লেখাপড়া বন্ধ হওয়ায় সে বছরই বাড়ি ছাড়েন শ্যামল। পাশের জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলার লামামুখ বাজারে গিয়ে চাকরি নেন একটি মুদির দোকানে। দোকানের মালিক পরিমল কান্তি দাশের অনুপ্রেরণায় ভর্তি হন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের লামা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় শাখায়। সারা দিন দোকানে চাকরির পর রাত জেগে পড়ালেখা চালিয়ে যান তিনি। পাশাপাশি ছোট বোনকেও পড়ালেখার খরচ জোগান। ২০১৪ সালে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসিতে জিপিএ ৪ দশমিক ৬৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। তাঁর খরচেই এখন ছোট বোন তৃষ্ণা বড়ুয়া দিগরপানখালী উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ছে।

মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পাসের পর চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে চকরিয়া কমার্স কলেজের ব্যবসায় বিভাগে ভর্তি হন। বাড়ি থেকে কলেজের দূরত্ব দুই কিলোমিটার। পুরো পথটাই হেঁটে যেতেন। সন্ধ্যায় পড়তে বসতে হতো কুপির আলোয়। এরপর শিক্ষকদের সহযোগিতায় এগোতে থাকে পড়ালেখা। মুদি দোকানের কাজ ছেড়ে টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করে। কয়েকজন শিক্ষক তাকে বিনা পয়সায় প্রাইভেট পড়ান।

তাঁর মা সব সময় পড়ালেখায় অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ জোগাতেন। যখন পড়ালেখার খরচ জোগাড় করতে পারতাম না, তখন মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে আমাকে খরচ দিতেন।

{তথ্যসূত্র : প্রথম আলো}

Comments

comments