ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮ | ১২ : ৪২ মিনিট

Kazi-Nazrul-Islam_-old-Dhak

‘কে বিদেশী মন উদাসী
বাঁশের বাঁশি বাজাও বনে।’
এই গানটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। এছাড়া তিনি অনেক গান, গজল রচনা করেন। সেই স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি শুধুই স্মৃতি হয়ে আছে কোনো সংরক্ষণ ব্যবস্থা নাই। তবে প্রথম আলো প্রতিবেদনে থেকে জানা যায়, নজরুল ইনস্টিটিউট এই বাড়ি সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিবেন।

কবি  ১৯২৫ থেকে ১৯৩০-এর মধ্যে কোনো এক সময়ে বেচারাম দেউড়ির আবুল খায়রাতের বাড়ি এসেছিলেন। আবুল খায়রাতের ভায়রা ছিলেন সৈয়দ ইউসুফ। তিনি কাশ্মীরের মানুষ। ঢাকায় বিয়ে করে এখানেই থেকে যান এবং পীর ইউসুফ নামে পরিচিতি পান। তাঁর দুই ছেলে ছিলেন সৈয়দ হোসাইনুর রহমান ও সৈয়দ আতাউর রহমান। এই দুই ভাইয়ের সঙ্গেই ছিল কবির বন্ধুত্ব। সেই সূত্রেই কবি এখানে আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। ছোট ছেলে আতাউর রহমানের সঙ্গে সখ্য ছিল ঘনিষ্ঠ। এখানে বেশ কিছুদিন ছিলেন।

চলচ্চিত্র গবেষক অনুপম হায়াত তাঁর দোলন-চাঁপার হিন্দোল  গ্রন্থে নজরুলের বেচারাম দেউড়ির সর্ম্পকে জানা যায়, ‘বেচারাম দেউড়িতে নজরুলের ভক্ত ছিলেন পীর সৈয়দ মোহাম্মদ ইউসুফ। তাঁর জীবদ্দশায় আনুমানিক ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দের দিকে কবি ঢাকার বেচারাম দেউড়ির বাড়িটিতে ছিলেন।’

প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল গবেষক ও কবি আবদুল কাদির থেকে জানা যায়, ভারতীয় ব্যবস্থাপক সভার সদস্যপ্রার্থী হয়ে  ১৯২৬ সালের অক্টোবর মাসে নির্বাচনী প্রচারণার উদ্দেশ্যে নজরুল দ্বিতীয়বার ঢাকায় এসেছিলেন। তবে এবার ৫২নং বেচারাম দেউড়িতে থাকাকালে কবি নির্বাচনী প্রচারণার চেয়ে গান ও আবৃত্তি নিয়েই মশগুল ছিলেন।

কবি নজরুল যখন এই বাড়িতে দ্বিতীয় বারের মতো আসেন তখন কবির এক পুত্রসন্তান মারা যায়। সে সন্তান হারানো শোক কবি বেচারাম দেউড়ি বাড়ির বাগান বাড়িতে বসে লিখেছিলেন-
‘বাগিচায় বুলবুলি তুই ফুলশাখাতে
দিসেন আজো দোল্।
আজো তার ফুলকলিদের ঘুম টুটেনি
তন্দ্রাতে বিলোল্।’

ঢাকায় কবির অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে।  কবিবন্ধু মোতাহার হোসেনের কাছে লিখিত পত্রে মাধ্যমে জানতে পারি নজরুলের হৃদয় বেদনার কথা যার প্রেম-বঞ্চনায় নজরুল নিজেকে ইংরেজ কবি কীটসের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আরও জানা যায়, ‘স্মৃতিপটে নজরুল’ থেকে আমরা জানতে পারি নজরুল তার প্রিয় ছাত্রীদ্বয়কে ‘যাও যাও তুমি ফিরে (এই) মুছিনু আঁখি’, ‘ছাড়িতে পরান নাহি চায়’, ‘আঁধার রাতে কে গো একেলা’, ‘আমি কি দুখে লো গৃহে রব’, ‘না মিটিতে মোর নিশি পোহায়’, ‘নাইয়া করো পার’ প্রভৃতি গানের তালিম দিয়েছিলেন। প্রতিভা বসু ওরফে রানু সোমের সঙ্গে নজরুলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিকৃতি করে সজনীকান্ত দাস তার শনিবারের চিঠিতে ‘কে বিদেশি মন উদাসী’ গানের প্যারোডি রচনা করেন ‘কে উদাসী বনগাবাসী বাঁশের বাঁশি বাজাও বনে,/ বাঁশি-সোহাগে ভিরমি লাগে, বর ভুলে যায় বিয়ের কনে।’ এ যাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্কশাস্ত্রের ছাত্রী ফজিলাতুন্নেসার সঙ্গে প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলামের পরিচয় ঘটেছিল।

 

Comments

comments