ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮ | ০৭ : ১৩ মিনিট

মুজিব স্বাধীনতা বাংলাদেশ
রেজওয়ানুল ইসলাম পাপ্পু

সেদিন নির্মুলেন্দুগুণের কবিতা পড়ছিলাম।
কিভাবে লিখলে তুমি? বিশেষ করে
আমাদের জন্য।
স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের কিভাবে হলো,
সেই রাত্রির কল্পকাহিনী এবং
আজ আমি রক্ত চাইতে আসিনি; কবিতা তিনখানি
আবৃত্তি করছিলাম
আমার প্রিয়ার ধূসর চোখের পাশে নিভৃত ওষ্ঠে।

আমার চারপাশের
অপ্রচলিত দেয়াল, প্রচলিত পর্দা ভেদ করে
শুনতে পায়নি কেউ।
আমার প্রিয়ার কর্ণকুহরে পৌঁছে দিচ্ছিলাম-
কবিতা আবৃত্তির শব্দ তরঙ্গ;
বাতাসের শব্দজট, জলের জটায়ু
রুদ্ধ হয়ে গেছে গাঢ় সবুজ গাংচিল।

তেঁতুলিয়া ঘড়া থেকে জল পড়ে
উর্বর পলিতে ভরা নারীর বুক;
পৌরুষের বিদ্রোহী পাপ অভিমানে।
নির্দোষ কান্নাগুলি-
বেড়িয়ে আসছে চোখ ঠিকরে,
বঙ্গবন্ধু ,স্বাধীনতা মিলে বাংলাদেশ।

পঁচাত্তর আগস্টের পনের তারিখ
লুকিয়ে নিচ্ছে শকুনি। ভয়াল আর্তনাদে
শাড়ির আঁচলে, আমার প্রিয়ার চোখ।
মুজিব, স্বাধীনতা ও বাংলাদেশ
সব মিলে এখনই কঠিন সময়।
বদলে যাচ্ছে চেতনা,
উৎসাহ হারিয়ে যাচ্ছে
উজান পানির তোড়ে।
যমুনার ভাঙ্গনের পথে পথে
উড়ে বেড়ায় শকুন, পদ্মার উর্বর বুক।

তোমারই পান্ডুলিপি মারবে থাবা
মুক্ত বিহঙ্গ বইয়ে রাখা পাতা, খেয়ে ফেলবে
সব কালো পংক্তিগুলি।

আমার প্রিয়ার উন্মুক্ত বসনা
হাতের আঙ্গুলে গুটাতে গুটাতে চেয়ে আছে।
আমার ঠোঁটের শব্দেরা
গাছের আড়ালে বনের কোটরে কোটরে।
মুজিব স্বাধীনতা বাংলাদেশ।

মেনে নিতে কষ্ট হয়
ফাতেমা ইসরাত রেখা

মেনে নিতে কষ্ট হয়, পিতা;
তোমার প্রতি এমন নৃশংস ও অবিবেকী আচরণ।
তোমার অকৃত্রিম প্রেম, অগাধ বিশ্বাস,
ঔদার্য্যের বিশালতা ও মানবিক রাজধর্মই দেখ কালসাপ হয়ে হেনেছে ছোবল,
ভালবাসার প্রতিদানে পেয়েছ কৃতঘ্নতা ।

হায়েনার জিঘাংসু দৃষ্টি যেন ওঁত পেতে বসেছিল রক্তপিপাসু হয়ে,
শুধু তোমার রক্তেই মিটেনি ওদের পিপাসা।
তাইতো –
রাজ রক্তের শেষ বিন্দুটুকুও শুষে নিতে মেলে ছিল থাবা,
শিশু রাসেলও পায়নি নিস্তার সকলের সাথে।
তোমার দুর্লভ প্রেম, অগাধ বিশ্বাসকে গলাটিপে হত্যা করল ওরা নিমেষেই।
দেশ ও জাতির কলঙ্ক ওরা,
লালায়িত কুকুর, কৃতান্তকুল।
আমার দু’চোখে তাই ঘুম নেই আর
চোখ বন্ধ করলেই তন্দ্রার মাঝে শুনি –
ধর্ষিতা বোনের করুণ চিৎকার,
বধ্যভূমিতে মুণ্ডুহীন পিতা ও ভাইদের লাশ নিয়ে শিয়াল ও কুকুরের কাড়াকাড়ির শব্দ ,
স্বজন হারানো মা-বোনদের গুমরে গুমরে কান্নার আর্তনাদ ।
এ সবই যেন নতুন করে নতুনরূপে ফিরে ফিরে আসে তোমার প্রস্থানের মাঝে ,
ভেসে ওঠে সব রাজাকার -আল বদর, আল সামসদের বিভৎসতা ।
পিতা-
তোমার কষ্টের রাজ্যে ওরা যে নষ্ট বীজের ফসল।
ক্ষমা নেই এই বাংলায় ওদের
ক্ষমিবে না তোমার সন্তানেরা ।
জেনে রেখ পিতা –
তুমি প্রতিটি মুক্তিকামী বাঙালি হৃদয়ে চির অমর
নও কভু নিহত জনক ,
যতদিন রবে নদীর কলতান,
সবুজ বনানী, মুক্ত আকাশ
ফুলের মেলায় বিহঙ্গের গান
বাঙালি জাতি ততদিন বুকে লালন করবে
তব শোক ।।

এখনও ভোর হয়নি
জামাল খান

কে যেন প্রশ্ন করে-কবি রাত পোহাল কি?
চমকে উঠি আমি, থমকে দাঁড়ায় পৃথিবী,
কেঁপে ওঠে মাতৃভূমির মানচিত্রটা.
যেখানে সাধু সেজে সন্ন্যাসী, পর স্ত্রী কাতর,
কাম বাসনার তৃষায় জীভের জল চাটে।
যেখানে প্রায়ই ডাস্টবিনে পড়ে থাক,
পাপী পিতা মাতার অবৈধ নিষ্পাপ ফসল।
যেখানে আজো রক্তাক্ত চোখে চেয়ে আছে
আত্মলোভী শকুন আর হায়েনারা..
লুন্ঠিত হয় মানবতার মুক্তির জয়গান।
যেখানে কবিদের কবিতা কোমল পদ্ম না হয়ে
অগ্নি বুলেট রূপে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায় রক্তশিরায়।
যেখানে কবি মাইদুলকে বলতে শুনি
আমি নষ্ট ছেলে, নষ্ট যুবক বলে..

ভেজাল যতো খাবার আছে গোগ্রাসে খাই গিলে …..
যেখানে গণতন্ত্র যেনো বন্দী কোনো বন্দীশালায়,
সত্য হামাগুড়ি খায় মিথ্যার দুয়ারে,
সময় মতো সঠিক বিচার নিষ্পেষিত,
যেনো চাচা আপন প্রাণ বাঁচা!
যেখানে কেবল হুহু করে বাড়ে
ফরমালিন মাখা দ্রব্যমূল্য,
কেউ কোনো কথা বলেনা,
পেটে আর বুকে ক্ষুধার ঠাকুর,
তবু মুখে ছল করা তৃপ্তির ঢেকুর।
যেখানে একুশে ফেব্রুয়ারী এলেই
ভাই হারানোর গান গেয়ে,
কোটি কোটি টাকার ফুল নষ্ট হয়,
অথচ, ভাষা শহীদ পরিবারের খোঁজ নেয়না কেউ।
যেখানে তেষট্টিটি বছর পেরিয়ে যাবার পরেও
গর্জে ওঠে সাংবাদিক শাহ কামাল সবুজের কলম,
ভাষা শহীদ ও আমাদের দ্বায় নিয়ে…..
যেখানে বীর শ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের সন্তানকে
জীবিকার তাগিদে হতে হয় ফেরীওয়ালা!
যেখানে দেশমাতার রক্ষী সন্তানেরা
নিরাপত্তার পতাকা ওড়ায় রোজ,
সেখানেই নিরাপদে পড়ে থাকে খুবড়ে খাওয়া
রক্তাক্ত নীরব নিথর তনুর লাশ …..
মশা, মাছি, পোকামাকড়েরা করে ভোজ।
যেখানে নবজাতক ভূমিষ্ট হওয়ার আগেই
বুলেটের আঘাত সয়,
সেখানে সূর্য্য জাগলেই কি ভোর হয়!
যেখানে বারবার মানবতার পরাজয়
সেখানে সূর্য্য উঠলেই কি ভোর হয়!
যেখানে এখনো ঘটে কালো ইতিহাসের অভ্যুদয়
সেখানে সূর্য্য হাসলেই কি ভোর হয়!
যেখানে মিথ্যারা, সত্যের বলয় ঘিরে রয়
সেখানে হাজারো আলোকরশ্মি
বিচ্ছুরিত হলেই কি ভোর হয়?
যেদিন মানব আকাশে মনুষ্যত্বের সূর্য্য উদিত হবে,
সেদিনই আসবে ঊষা
দেখা দেবে ভোর
রাত পোহাবে তবে

Comments

comments