ঢাকা, বৃহষ্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ০৬ : ১৭ মিনিট

Farid-Aliশোক, শ্রদ্ধা আর সর্বস্তরের মানুষের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে চিরবিদায় নিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ আলীকে। আজ মঙ্গলবার আসরের নামাজের আগে বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে এ অভিনেতাকে ।

বনানী কবরস্থানে সমাহিত করার আগে অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ আলীর তিন দফায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দিনের একেবারে শুরুতে পুরান ঢাকার ঠাঁটারী বাজার এলাকায় মরহুমের বাড়ির সামনে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর তাঁর মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকার তেজগাঁওয়ের চ্যানেল আই কার্যালয়ে। সেখানে বাদ জোহর অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশ নেন চ্যানেল আইয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেকে।

চ্যানেল আই কার্যালয়ে থেকে মরদেহ নিয়ে আসা হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে। প্রযোজক পরিবেশক সমিতি ভবনের সামনের খোলা জায়গায় বেশ কিছুক্ষণ ফরিদ আলীর মরদেহ রাখা হয়। এখানে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সংগঠন তার কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এরপর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন  তাঁর পরিবার, বন্ধু, দীর্ঘদিনের সহকর্মী এবং চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের শিল্পীরা।

গতকাল সোমবার বিকেলে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মুক্তিযোদ্ধা ও অভিনেতা ফরিদ আলী। অনেক দিন ধরেই শারীরীকভাবে অসুস্থ ছিলেন।  মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

একাডেমিক শিক্ষায় তেমন অগ্রসর না হয়েও তিনি অভিনয় জগতে দেখিয়েছেন পারদর্শিতা। কৌতুক অভিনয়ে তিনি দর্শক মনে এখনো দাগ কেটে রয়েছেন। বিশেষ করে ‘টাকা দেন দুবাই যাব,বাংলাদেশে থাকব না’ এই সংলাপটির সঙ্গে যারা পরিচিত তারা এক বাক্যেই উচ্চারণ করবেন অভিনেতা ফরিদ আলীর নাম। শুধু অভিনয় নয়, নাটক লেখা ও নির্দেশনায়ও সিদ্ধ হস্ত ছিলেন এই শিল্পী।

১৯৬২ সালে শহীদুল আমীনের লেখা ‘কনে দেখা’ নাটকে একটি মাত্র নারী চরিত্রে মাধ্যমে অভিনয় যাত্রা শুরু করেন ফরিদ আলী। অসংখ্য মঞ্চ নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন। প্রফেসর মুনীর চৌধুরীর লেখা ‘একতলা দোতলা’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে ১৯৬৪ সালে তিনি প্রথম টিভিতে দৃশ্যমান হন।  তার নিজের লেখা প্রথম টিভি নাটক ‘নবজন্ম’। অভিনেতা ফরিদ আলীর চলচ্চিত্রে পদার্পন ১৯৬৬ সালে আমজাদ হোসেনের ‘ধারাপাত’ সিনেমার মাধ্যমে। তখন থেকে একাধারে বহু সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য- জীবন তৃষ্ণা, শ্লোগান, চান্দা, দাগ, অধিকার প্রভৃতি।

মুক্তিযোদ্ধা ও বর্ষীয়ান অভিনেতা ফরিদ আলী ১৯৪৫ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন ।

আরও পড়ুন :

Comments

comments