ঢাকা, রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ | ০৯ : ১৯ মিনিট

August 11th, 2016

Ahamed Rafikভারত বিভাগে (১৯৪৭) যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল না। বরং চল্লিশের দশকের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট রক্ষণশীল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিলের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন ভারতের স্বাধীনতার জন্য। তখন অবশ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। এর মধ্যেই শুরু হয়েছে ১৯৪২ সালের আগস্টে ‘ইংরেজ ভারত ছাড়’ আন্দোলন, যা মূলত রাঢ়বঙ্গ, বিহার, এমনকি উত্তর প্রদেশের অংশবিশেষে এতটাই জোরালো হয়ে উঠে যে এ আন্দোলন গান্ধীর আপত্তির মুখেও জন-আন্দোলনের চরিত্র নিয়ে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। সেনাবাহিনী নামিয়ে, বিমানবাহিনীর বোমা বর্ষণের মাধ্যমে বছর দুয়েক স্থায়ী এ আন্দোলন দমন করতে হয় শাসকদের।

চতুর চার্চিল এ চাপ মোকাবিলায় এক ঢিলে দুই পাখি মারেন। উদারপন্থী রাজনীতিক স্যার স্টাফোর্ড ক্রিপসকে ভারতের আত্মশাসন-সংক্রান্ত এমন এক প্রস্তাবের বাহক করে ভারতে পাঠালেন, যা ভারতীয় রাজনৈতিক নেতাদের গ্রহণযোগ্য হলো না, ক্রিপস দৌত্য ব্যর্থ। ক্রিপসের দ্রুতবর্ধমান রাজনৈতিক ভাবমূর্তি কিছুটা ম্লান হলো, অন্যদিকে ভারতের আত্মশাসন বা স্বাধীনতা কোনোটিই সুফল পেল না। এর পরও রুজভেল্ট চেয়েছিলেন আরেকবার চেষ্টা চলুক।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য ১৯৪৭ সালের আগস্টে ব্রিটিশ রাজশক্তিকে ভারত ছাড়তেই হলো। তবে যাওয়ার আগে চতুর ইংরেজ প্রশাসন ভারতবর্ষকে ভাগ করে চিরশত্রু দুই ডোমিনিয়ন ‘ভারত’ ও ‘পাকিস্তান’ প্রতিষ্ঠা করে গেল এমন পরিস্থিতিতে যাতে এরা কোনো দিন বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী রাষ্ট্রে পরিণত হতে না পারে। তদুপরি তাদের বেঁধে রাখা হয় কমনওয়েলথের গোয়ালে, যাতে কিছু না কিছু শোষণ চালানো যায়, হোক তা পরোক্ষে।

মহাযুদ্ধ শেষে বিজয়ী মিত্রপক্ষের নতুন বিশ্বশক্তি যুক্তরাষ্ট্র নামে গণতন্ত্রী হলেও তার আধিপত্যবাদী চরিত্র প্রকাশ করার ক্ষেত্রে দেরি করেনি। এবার তাদের লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তার। আর সে জন্য নানা সামরিক জোট গঠন। পশ্চিম পাকিস্তানের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব তাদের নজর কাড়ে। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও ভারত নিয়ে মানসিক আতঙ্কগ্রস্ত পাকিস্তান তখন তার সামরিক শক্তি বাড়াতে ভয়ানক রকম আগ্রহী।

সে সুযোগের পুরো সদ্ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র। অর্থ, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ—এ তিনের মাধ্যমে পাকিস্তানকে হাতের মুঠোয় নেয়, ভারতবিরোধী চেতনা জোরদার করে। ভারত তখন মার্কিন তাঁবেদারির বদলে দুই শিবিরের বাইরে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মোন্নয়নে ইচ্ছুক। কিছুকাল পর ঠিকই জোটবহির্ভূত রাষ্ট্রশক্তির ধারণা নিয়ে আবির্ভূত হন রাষ্ট্রনেতা নেহরু, নাসের, সুকর্ন, টিটো প্রমুখ। ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র।

পাকিস্তান আন্দোলনের নায়ক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ যতই মুসলমানদের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলুন না কেন পাকিস্তানে পাঞ্জাবি-সিন্ধি স্বার্থের বাইরে সব জাতিসত্তার প্রতি সুবিচার তাঁর চিন্তায় ছিল না। আর পাখতুনদের প্রতি ছিল তাঁর ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, মূলত পাখতুন নেতা খান আবদুল গফফার খানের প্রতি বিরূপতায়। তেমনি অপ্রসন্নতা বেলুচদের প্রতি। আর বাঙালি-বিরূপতা তো ছিলই।

ভারত ভাগের টানাপড়েনের সময় বাঙালি মুসলমান জিন্নাহভক্ত ভেড়া বনে থাকলেও পশ্চিম পাকিস্তানের দুই ভূখণ্ড বেলুচিস্তান ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ তাদের স্বশাসনের জন্য অনেক চেষ্টা করেছে। বহু দেনদরবার ও আলোচনা চলেছে ব্রিটিশ রাজশক্তির সঙ্গে। কিন্তু ভারত বিভাজনের নায়ক লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে কিছুতেই স্বমতে আনতে পারেনি তারা।

ফলে তাদের স্বশাসনের আকাঙ্ক্ষা পরোক্ষে পাকিস্তানবিরোধিতার রাজনীতিতে পরিণত হয়। এদিক থেকে সিন্ধি জাতীয়তাবাদীদের আকাঙ্ক্ষাও ছিল অনুরূপ, যা ‘জিয়ে সিন্দ্’ স্লোগানে প্রকাশ পায়। কিন্তু সিন্ধুর এ চেতনা ছিল আংশিক। তদুপরি ভারত থেকে আগত বিহারিদের সিন্ধুতে পুনর্বাসন সিন্ধি রাজনীতির চরিত্রবদল ঘটায়। সিন্ধি জাতীয়তাবাদ বড় একটা হালে পানি পায়নি। পরবর্তী সময়ে জুলফিকার আলী ভুট্টো ও তাঁর নতুন রাজনৈতিক দল ‘পাকিস্তান পিপলস পার্টি’ (পিপিপি)-এর কল্যাণে সিন্ধি জাতীয়তাবাদের ভরাডুবি ঘটে।

দুই.

আসলে পাকিস্তান বলতে প্রধানত পাঞ্জাবি স্বার্থের প্রাধান্যই ছিল অপ্রিয় বাস্তবতা। সেই সঙ্গে জড়িত সিন্ধুর সামন্ত শক্তির স্বার্থ। পাকিস্তান আমলে পশ্চিমে বেলুচিস্তান ও সীমান্ত প্রদেশ বরাবর অবহেলিত—অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে। তাদের এ অবস্থা দেশ বিভাগ অর্থাৎ পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকেই। তাই থেকে থেকে এ দুই প্রদেশে চলেছে আত্মশাসনের চেষ্টা, আর তা দমাতে পাক সেনাদের হামলা। বেলুচদের আন্দোলন থামাতে হত্যা ও নির্যাতনই নয় শুধু, বেলুচিস্তানে বোমা বর্ষণ করতেও দ্বিধাবোধ করেনি আইয়ুবি শাসন। আর টিক্কা খান তো কুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন বেলুচিস্তানের কসাই নামে—এতটাই ছিল তাঁর নেতৃত্বে পাক সেনাদের অত্যাচার-নিপীড়ন।

সত্যি বলতে কি বেলুচ ও পাখতুন তথা পাঠানরা ছিল ভয়ানক রকম স্বাধীনচেতা। এদের ও সন্নিহিত আফগানদের সমীহ করে চলেছে ভারতীয় ব্রিটিশ শাসন। সে কারণেই কি তারা ভারত ত্যাগ ও ভারত ভাগের সময় এদের প্রতি কোনো প্রকার সহানুভূতি দেখাতে রাজি ছিল না। যেমন দেখায়নি বাঙালিদের প্রতি। যুক্তবঙ্গ যেমন অবাঙালি কংগ্রেসি নেতৃত্ব চায়নি, তেমনি চায়নি ইংরেজ শাসক।

পাখতুন ও বেলুচদের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন সফল হয়নি বহির্দেশীয় রাষ্ট্রশক্তির সহায়তার অভাবে। এদিক থেকে বাংলাদেশ ভাগ্যবান। পশ্চিম তথা কেন্দ্রীয় শাসনস্থানের সঙ্গে সীমান্ত সংযোগ না থাকায় ও বৈদেশিক সহায়তার সুবিধায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন সহজ হয়েছিল, যদিও তা অনেক রক্ত ও নির্যাতনের বিনিময়ে। বেলুচ ও পাখতুনরা এ সুবিধা পায়নি।

তাই ছয় দশক ধরে চলেছে এদের প্রাথমিক পর্যায়ে স্বায়ত্তশাসন, পরে বিচ্ছিন্নতাবাদী স্বাধীনতার লড়াই। পাখতুনদের স্বগোত্রীয় পাঠান তথা আফগানদের প্রত্যক্ষ সাহায্য পায়নি বিচ্ছিন্নতাবাদী সীমান্ত প্রদেশ। আফগানিস্তানে পরাশক্তির আক্রমণ ও পরে তালেবানি শাসন এবং আরো পরে মার্কিন মদদপুষ্ট তাঁবেদারি শাসন আফগানিস্তানের রাষ্ট্রিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। তারা নিজেরাই দিশাহারা, অন্যকে সাহায্য করা দূরের কথা। এ অবস্থায় পাখতুনরা এখন অনেকটাই নিষ্ক্রিয় ও হতাশাগ্রস্ত।

তিন.

তবে বেলুচিন্তান শত নিপীড়ন সত্ত্বেও তাদের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন জারি রেখেছে। আর কেন্দ্রীয় পাক শাসন তাদের প্রতি চরম দমননীতি বহাল রেখেছে হত্যা ও পীড়নের মাধ্যমে। বেলুচ নেতা নওয়াব আকবর খান বুখতি হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা আকছারই ঘটছে পাকিস্তান-শাসিত বেলুচিস্তানে। একবার এক বেলুচ নেতা আক্ষেপ করে বলেছিলেন, বাংলাদেশের মতো সীমান্তব্যবস্থা থাকলে বেলুচিস্তান বাংলাদেশের আগেই স্বাধীন হয়ে যেত।

অভাবিত দুর্দশা ও দুরবস্থার মধ্যেও বেলুচিস্তান তার স্বশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা বাতিল করেনি। এখনো নির্বাসিত কোনো কোনো বেলুচ নেতা দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলেছেন। বেলুচিস্তানের ব্যাপারে ভারতের আগ্রহ থাকলেও বাস্তব অবস্থা তাদের পক্ষে নয়। সীমান্ত প্রদেশের তুলনায় বেলুচিস্তানের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব অপেক্ষাকৃত অধিক এবং তা মূলত ভূখণ্ডটি আরব সাগরের সন্নিহিত বলে।

একই কারণে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন সবারই এদিকে নজর রয়েছে। কিছুকাল আগে বেলুচিস্তানে গঠিত স্বাধীনতাকামী ‘বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি’র পেছনে রুশ সমর্থন রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলের কারো কারো ধারণা। হতে পারে আফগানিস্তান ট্র্যাজেডির জ্বালা তাদের জুড়ায়নি দেশের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন সত্ত্বেও।

চীনারা অবশ্য এ ব্যাপারে চুপচাপ, পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য ও রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত থাকার কারণে। কিন্তু বেলুচিস্তানের ঘটনাবলির প্রতি তাদের সতর্ক দৃষ্টি ঠিকই রয়েছে। পাকিস্তানি শাসকদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিবিড় সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র বেলুচিস্তানকে হাতের মুঠোয় আনতে আগ্রহী। তাতে একাধিক ফ্রন্টে সুবিধা। ভারতের সঙ্গে এখন তাদের ভালো সম্পর্ক। কিন্তু চীন? তাকে প্রতি ফ্রন্টে রুখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যুক্তরাষ্ট্র।

এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বেলুচিস্তানের সঙ্গে একাধিক রাষ্ট্রের সীমান্তরেখা। এই সীমান্ত সংযোগ ও সমুদ্রপথ নিয়ে আগ্রহ যেমন চীনের, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের। কেন্দ্রবিন্দুতে গাওদার সমুদ্রবন্দর। আরব সাগর সংলগ্ন এ বন্দরটি তৈরির দায়িত্বে রয়েছে চীন সরকার। চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের নিকট সম্পর্ক অনেক দিনের—সিল্করুট, কারাকোরাম গিরিপথ, আইয়ুব-ভুট্টোদের নিয়ে নানা কার্যকারণে। এখানে চীনের জাতীয় স্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

গাওদার বন্দর থেকে খুব কাছেই ইরান সীমান্ত। এমনি একাধিক কারণে হয়তো ওয়াশিংটনের নজর বেলুচিস্তানের দিকে। আমার ধারণা, বেলুচিস্তান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের বড় কারণ সম্ভবত চীনের চেয়েও ইরান। কারণ ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জাতশত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ইরানিদের শায়েস্তা করার কোনো সুযোগ ওয়াশিংটন হাতছাড়া করতে চাইবে না।

বেলুচিস্তানে কোনোভাবে ঘাঁটি গাড়তে পারলে নিকটবর্তী ইরানের সিস্তান প্রদেশের বেলুচভাষী জাতিসত্তাকে স্বাধীনতার জন্য উসকে দেওয়ার কাজ সহজ হবে। এ কাজটি সিআইএ বরাবর করে এসেছে তাদের শত্রু বিবেচিত স্থিতিশীল রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা অস্থিতিশীল করতে, সামরিক বাহিনীতে বা জন-অসন্তোষে বিদ্রোহের উসকানি দিতে। দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা বা মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে এমন অঘটন ঘটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা। লিবিয়া, সিরিয়া সর্বশেষ উদাহরণ।

বেলুচিস্তানের প্রতি আকর্ষণের আরেকটি কারণ এ প্রদেশের মাটির নিচে সঞ্চিত বিপুল পরিমাণ গ্যাস ও খনিজসম্পদ। এদিকে ভারতেরও রয়েছে যথেষ্ট নজর। এখন তো ‘ভারত-যুক্তরাষ্ট্র ভাই ভাই’ যেমন একদা ছিল ‘হিন্দি-চীনা ভাই ভাই’ মূলত নেহরু-মেননদের আদর্শিক কারণে। সে ভ্রাতৃত্ববোধ টেকেনি সীমান্ত স্বার্থের কারণে। এ সংঘাতের দায় কার বেশি কার কম তা নিয়ে ষাটের দশক থেকে চলছে বিতর্ক। ‘ম্যাকমোহন লাইন’ সে বিতর্কের একটি বড় উৎস। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের একসময়ের বিশ্বজোড়া চাতুর্য তো প্রবাদপ্রতিম। উল্লেখ্য, ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্য কিংবা আফ্রিকা।

সে চাতুর্যের বড় তরফ এখন যুক্তরাষ্ট্র। তাদের গোয়েন্দা সংস্থা তো দক্ষিণ আমেরিকার প্রগতিমুখী রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে, এখনো চেষ্টা চালাচ্ছে। চিলি থেকে ভেনিজুয়েলা, কোথায় নয়। এখন তাদের দৃষ্টি মূলত তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য ও রাজনৈতিক বিচারে গুরুত্বপূর্ণ এশীয় দেশের দিকে। মিয়ানমারে অর্জিত সাফল্য তাদের উৎসাহিত করবে অন্যত্র হাত বাড়াতে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য ভারত-মার্কিন সখ্য, সেখানে ইসরায়েল আরেক বন্ধু। চুলোয় যাক ফিলিস্তিনি স্বার্থ।

চার.

কে বলতে পারে ইরানকে শায়েস্তা করতে বেলুচিস্তানকে হাতের মুঠোয় আনতে চাইবে না ওয়াশিংটন। বেলুচিস্তানকে কবজা করতে ভারতের সমর্থন পাবে যুক্তরাষ্ট্র। বেলুচিস্তানের সঙ্গে ভারতের রয়েছে সুসম্পর্ক।

অবস্থা বিবেচনায় স্বশাসনের বিনিময়ে বেলুচ জাতীয়তাবাদী নেতারা ওয়াশিংটনের কাছে আত্মবিক্রি করতেও পারেন। আর ইরান সন্নিহিত আরব সাগরে ঘাঁটি তৈরির মূল্যে ওয়াশিংটন পাকিস্তানকে বেচে দিতে দ্বিধা করবে না। অর্থাৎ পাকিস্তানের সম্মতি নিয়ে বেলুচিস্তানের সমুদ্রবন্দরে মার্কিন ঘাঁটি নির্মাণ। আর পাকিস্তানের অসম্মতিতে স্বাধীনতাকামী বেলুচদের গোপনে বিদ্রোহে উসকানি দেওয়া, জ্বালানি যোগ করা ওয়াশিংটনের পক্ষে অসম্ভব কিছু নয়।

প্রসঙ্গত আরো একটি কথা। একসময় কাবুলকে বলা হতো বিশ্বের যত গোয়েন্দাচরের লীলাভূমি। এখন অবশ্য সেখানে ভিন্ন অবস্থা। মেক্সিকোও এদিক থেকে অনুরূপ মর্যাদার অধিকারী। শোনা যায় বেলুচিস্তানেও সিআইএসহ একই রকম গোয়েন্দা বিচরণ চলছে। সবচেয়ে বড় খবর ইসরায়েলের তুখোড় গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদও নাকি সেখানে সক্রিয়। সম্প্রতি ঢাকায়ও মোসাদ-কানেকশন প্রকাশ পেয়েছে। ভারত তো এখন ভোল পাল্টে ইসরায়েলের নিকটজন।

আমাদের রাজনীতিমনস্ক তরুণসমাজ হয়তো ভবিষ্যতে পাকিস্তানের আরেক ভাঙন প্রত্যক্ষ করতে পারে, যেমন বেলুচিস্তানকে কেন্দ্র করে, তেমনি বেলুচ-পাখতুনদের জোটবদ্ধ অবস্থানে। এমন সম্ভাবনা অসম্ভব কিছু নয়। ভাঙন তো নবসৃষ্টির প্রয়োজনে। প্রকৃতির ক্ষেত্রে তা যেমন সত্য, তেমনি তা হতে পারে রাষ্ট্র-রাজনীতির ক্ষেত্রেও। পাকিস্তান অবশ্য আপ্রাণ চেষ্টা করবে সম্ভাব্য ভাঙন ঠেকাতে।

লেখক : কবি, গবেষক ও ভাষাসংগ্রামী

Comments

comments