ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ০৪ : ১৩ মিনিট

sultan 03বাংলাদেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী শেখ মোহাম্মদ সুলতান। যিনি এস এম সুলতান নামে পরিচিত। তাঁর জীবনের মূল সুর-ছন্দ খুঁজে পেয়েছিলেন বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন, কৃষক এবং কৃষিকাজের মধ্যে। আবহমান বাংলার সেই ইতিহাস-ঐতিহ্য, দ্রোহ-প্রতিবাদ, বিপ্লব-সংগ্রাম এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকার ইতিহাস তাঁর শিল্পকর্মকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে। তাঁর ছবিতে গ্রামীণ জীবনের পরিপূর্ণতা, প্রাণপ্রাচুর্যের পাশাপাশি শ্রেণীর দ্বন্দ্ব এবং গ্রামীণ অর্থনীতির হালও অনেকটা ফুটে উঠেছে। তাঁর ছবিগুলোতে বিশ্বসভ্যতার কেন্দ্র হিসেবে গ্রামের মহিমা উঠে এসেছে এবং কৃষককে এই কেন্দ্রের রূপকার হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তিনি ছিলেন একজন সুর সাধক এবং বাঁশিও বাজাতেন। কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৯৮২ সালে তাঁকে এশিয়ার ব্যক্তিত্ব হিসেবে ঘোষণা করে।

জন্ম ও ছেলেবেলা
শিল্পী এস এম সুলতানের জন্ম ১০ আগস্ট ১৯২৩ নড়াইলের মাছিমদিয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে। পারিবারিক ডাক নাম লাল মিয়া। শৈশবে সবাই তাঁকে লাল মিয়া বলেই ডাকত। বাবা শেখ মোহাম্মদ মেছের আলী ধাউড়িয়া, পেশায় একজন প্রান্তিক কৃষক ও কাঠ মিস্ত্রী ছিলেন আর মায়ের নাম মাজু বিবি দরিদ্র পরিবারের গৃহিণী। পরিবারের সবাই এস এম সুলতানকে লাল মিয়া বলে ডাকত। জন্মের অল্পদিনের মধ্যেই লাল মিয়া মা হারা হন। ছোটবেলা থেকেই বাবাকে রাজমিস্ত্রির কাজে সহযোগিতা করার পাশাপাশি ছবি আঁকার প্রতি প্রবল ঝোঁক ছিল তার।

পড়াশোনা
দারিদ্রের শত বাধা থাকা সত্ত্বেও ১৯২৮ সালে তাঁর পিতা তাঁকে নড়াইলের ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। পাঁচ বছর পর থেমে যায় পড়াশোনা। এরপর বাবার সঙ্গে রাজমিস্ত্রির কাজ ধরেন। এখানেই এস.এম সুলতানের শুরু। চলতে থাকে বিভিন্ন দালানে দালানে ছবি আঁকা। দশ বছর বয়সের স্কুল জীবনে, স্কুল পরিদর্শনে আসা ডা. শাম্যপ্রসাদ মুখার্জ্জীর ছবি এঁকে সবার তাক লাগিয়ে দেন। দরিদ্র ঘরের সুলতানের ইচ্ছে ছিল কলকাতা গিয়ে ছবি আঁকা শিখবেন। এ সময় তাঁর প্রতিভায় চমৎকৃত হয়ে এলাকার জমিদার ধীরেন্দ্রনাথ রায় তাঁর সাহায্যে এগিয়ে আসেন। ১৯৩৮ সালে এস.এম সুলতান কলকাতায় চলে আসেন। এ সময় কলকাতায় এসে তিনি ধীরেন্দ্রনাথ রায়ের বাড়িতেই ওঠেন। ইচ্ছে ছিল অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি শিল্প শিক্ষা। এ সময় তিনি কলকাতা আর্ট স্কুলের গভর্নিং বডির সদস্য প্রখ্যাত শিল্পী ও সমালোচক শাহেদ সোহরাওয়ার্দীর সান্নিধ্যে আসেন। সুলতানের শিক্ষার জন্য তিনি তাঁর গ্রন্থাগারের দরজা উন্মুক্ত করে দেন এবং সব ধরণের সাহায্য সহযোগিতা করতে থাকেন। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ১৯৪১ সালে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সহযোগিতায় তিনি কলকাতা আর্ট স্কুলে ভর্তি হন। তিন বছর আর্ট স্কুলে পড়ার পর তিনি ফ্রিল্যান্স শিল্পীর জীবন শুরু করেন। [বাংলাপিডিয়া]

sultan 01জীবনসংগ্রাম
১৯৪৩ সালে তিনি খাকসার আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। তারপর দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় তিনি বেড়িয়ে পড়েন উপমহাদেশের পথে পথে। ছোট বড় শহরগুলিতে ইংরেজ ও আমেরিকান সৈন্যদের ছবি আঁকতেন। ছবি প্রদর্শনী ও ছবি বিক্রি করে চলত তাঁর জীবন। শিল্পী হিসেবে তিনি তখন কিছুটা পরিচিতি লাভ করেছিলেন। কিন্তু জাগতিক বিষয়ের প্রতি ছিল তাঁর প্রচণ্ড অনাগ্রহ। শিকড় ছড়াবার আগেই তিনি ছুটে বেড়িয়েছেন। আর তাই তখনকার আঁকা তাঁর ছবির নমুনা, এমনকি ফটোগ্রাফও এখন আর নেই। তবে সে সময় তিনি নৈসর্গিক দৃশ্য ও প্রতিকৃতির ছবি আঁকতেন। কাশ্মীরে কিছুদিন থেকে তিনি প্রচুর ছবি এঁকেছিলেন। সিমলায় ১৯৪৬ সালে তাঁর আঁকা ছবির প্রথম প্রদর্শনী হয়। তিনি কখনও এক স্থানে বেশি দিন থাকতেন না। তিনি বলেন:

একেক জায়গায় এভাবে পড়ে আছে সব। শ্রীনগরে গেলাম। সেখানকার কাজও নেই। শ্রীনগরে থাকাকালীন পাকিস্তান হয়ে গেলো। ‘৪৮-এ সেখান থেকে ফিরে এলাম। কোনো জিনিসই তো সেখান থেকে আনতে পারিনি। একটা কনভয় এনে বর্ডারে ছেড়ে দিয়ে গেলো। পাকিস্তান বর্ডারে। আমার সমস্ত কাজগুলোই সেখানে রয়ে গেলো। দেশে দেশে ঘুরেছি। সেখানে এঁকেছি। আর সেখানেই রেখে চলে এসেছি।

দেশ বিভাগের পর কিছু দিনের জন্য সুলতান দেশে ফেরেন। কিন্তু এর পরই ১৯৫১ সালে তিনি করাচি চলে যান। সেখানে পারসি স্কুলে দু’বছর শিক্ষকতা করেন। সে সময় চুঘতাই ও শাকের আলীর মত শিল্পীদের সাথে তাঁর পরিচয় হয়। এর আগে ১৯৫০ সালে তিনি আমেরিকায় চিত্রশিল্পীদের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেন। এবং নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন, শিকাগো, বোস্টন ও পড়ে লন্ডনে তাঁর ছবির প্রদর্শনী করেন।

শিশুদের নিয়ে সুলতানের বহু স্বপ্ন ছিল। ১৯৫৩ সালে তিনি নড়াইলে ফিরে আসেন এবং শিশু শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন। নড়াইলে তিনি নন্দন কানন নামের একটি প্রাইমারী ও একটি হাই স্কুল এবং একটি আর্ট স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুদের জন্য কিছু করার আগ্রহ থেকে তাঁর শেষ বয়সে তিনি ‘শিশুস্বর্গ’ ও ‘চারুপীঠ’ প্রতিষ্ঠা করেন।

শিল্পীজীবন

আমি আমার বিশ্বাসের কথা বলছি। আমার সকল চিন্তা, সবটুকু মেধা, সবটুকু শ্রম দিয়ে যা কিছু নির্মাণ করি তা কেবল মানুষের জন্য, জীবনের জন্য, সুন্দর থেকে সুন্দরতম অবস্থায় এগিয়ে যাবার জন্য। আমার ছবির মানুষেরা, এরা তো মাটির মানুষ, মাটির সঙ্গে স্ট্রাগল করেই এরা বেঁচে থাকে। এদের শরীর যদি শুকনো থাকে, মনটা রোগা হয়, তাহলে এই যে কোটি কোটি টন মানুষের জীবনের প্রয়োজনীয় বস্তু সকল আসে কোত্থেকে? ওদের হাতেই তো এসবের জন্ম৷ শুকনো, শক্তিহীন শরীর হলে মাটির নিচে লাঙলটাই দাববে না এক ইঞ্চি। আসলে, মূল ব্যাপারটা হচ্ছে এনার্জি, সেটাই তো দরকার। ঐ যে কৃষক, ওদের শরীরের অ্যানাটমি আর আমাদের ফিগারের অ্যানাটমি, দুটো দুই রকম। ওদের মাসল যদি অতো শক্তিশালী না হয় তাহলে দেশটা দাঁড়িয়ে আছে কার উপর? ওই পেশীর ওপরেই তো আজকের টোটাল সভ্যতা।’

কথাগুলো ছবিপ্রাণ মানুষ এস এম সুলতানের। তাঁর শিল্পচেতনায় ছিল স্বদেশ-ঐতিহ্য, প্রকৃতি-পরিবেশ ও মানুষ। মানুষ যে শক্তিময়তার দিক থেকে অনেক বড়- এ সত্যের পরিচয় মেলে সুলতানের সৃষ্টি করা ক্যানভাসে চোখ রাখলেই। তাঁর ছবিতে কখনো কৃশকায় মানুষ দেখা যায় না, দেখা যায় পেশীবহুল স্বাস্থ্যবান অবয়ব। প্রগাঢ় সাহসী জীবনবোধের এক নিবিষ্ট চিত্রকর এস এম সুলতান । জীবনের শুরুতেই যাঁকে সবকিছু বাদ দিয়ে পেশীতে নির্ভর করে নির্বাহ করতে হয়েছে জীবিকা। লড়াই করতে হয়েছে দৈনন্দিন দারিদ্র্যের সঙ্গে। এ লড়াইয়ের জন্য কোমল পেশীতে সঞ্চার করতে হয়েছে শক্তি ও সাহস। পরবর্তী সময়ে তিনি যে মানুষকে শক্তিমান ও মহীয়ান করে চিত্রিত করেছেন তা নিছক শিল্প নয়, ঘনিষ্ট জীবনবোধ ও সমাজ বাস্তবতারও বহিঃপ্রকাশ।

sultan 02মিসেস হাডসন নামে কানাডীয় এক মহিলার উদ্যোগে ১৯৪৫ সালে ভারতের সিমলাতে সুলতানের প্রথম চিত্র প্রদর্শনী হয়। সেখানকার মহারাজা প্রদর্শনীটির উদ্বোধন করেন। প্রদর্শনীতে বেশিরভাগই ছিল বাংলা ও কাশ্মীরের নয়নাভিরাম ল্যান্ডস্কেপ। এরপর সুলতান চলে যান পশ্চিম পাকিস্তানে। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের করাচিতে এবং ১৯৪৯ সালে লাহোর ও করাচিতে সুলতানের চিত্র প্রদর্শনী হয়। ১৯৫১ সালে চিত্রশিল্পীদের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিতে তিনি আমেরিকায় যান। এরপর সুলতান আবার নড়াইলের মাটিতে ফিরে আসেন। কিন্তু পৈত্রিক ভিটেয় তাঁর ঠাঁই মিলল না। পৈত্রিক ভিটেয় ঠাঁই না পেয়ে সুলতান ঢাকায় থাকতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ঢাকায় সে সময় খ্যাতিমান শিল্পীদের পাশে তিনি কোনো স্থান পেলেন না। আবার ফিরে গেলেন পশ্চিম পাকিস্তানের করাচিতে। সেখানে তিনি একটি আর্ট স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করলেন। আর পাশাপাশি চলছিল তাঁর ছবি আঁকা।

sultan 04পঞ্চাশের দশকেই সুলতান যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচটি ও লন্ডনে চারটি প্রদর্শনী করেন। এর মধ্যে পাবলো পিকাসো, সালভাদর দালি, মাতিস, ব্রাক ও ক্লীর মতো বিশ্বনন্দিত শিল্পীদের সঙ্গে ছিল শেখ মোহম্মদ সুলতানের চিত্রকর্মের যৌথ প্রদর্শনী। ১৯৪৬ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে তাঁর মোট বিশটি একক প্রদর্শনী হয়। এসব একক ও সম্মিলিত প্রদর্শনীর মাধ্যমে সুলতান প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের চিত্রকলার জগতে আলোড়ন তুলেছিলেন। শুরু থেকে এস এম সুলতানের ছবির মূল বিষয় ছিল নিসর্গ। পঞ্চাশের দশকের শেষদিকে তাঁর শিল্পবোধে পরিবর্তন আসে। ল্যান্ডস্কেপে আসে ফসলের জমি, বাংলার কৃষি জীবন ও মানুষ। ষাটের দশকের শেষ দিকে এসে তাঁর চিত্রকর্মে উপজীব্য হয়ে উঠল মানুষের দেহাবয়ব। ল্যান্ডস্কেপের পরিবর্তে মানুষই হয়ে উঠল তাঁর ছবির অধিপতি।

১৯৫৩ সালে আজীবন ভবঘুরে সুলতান বিশ্ব ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরে আসেন। বসতি গড়েন জন্মভূমি নড়াইলে। তবে সেটা তাঁর বাবার ভিটেয় নয়, নড়াইলের জমিদার বাড়ির পরিত্যক্ত শিবমন্দিরে। এই মন্দিরের চারদিকে ঘন জঙ্গল, আর বটগাছের শেকড় অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে রেখেছে শিবমন্দিরটিকে। গোটা মন্দিরকেই যেন গিলে খাচ্ছে সেই বটগাছ। চুন, সুড়কির গাঁথুনি খসে পড়ছে। ফাঁক-ফোঁকরে বাস করে বিষাক্ত সাপ। সুলতান সাপের ভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যাননি। পরম মমতায় এসব সাপকে লালন পালন করছেন, রোজ এদের দুধ কলা খাওয়ান। এ যেন এক অন্য সুলতান। একজন অসম্ভব প্রাণীপ্রেমী মানুষ। জীব-জন্তু নিয়েই যেন তাঁর জীবন। লম্বা ছিপছিপে গড়ন, পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ছাই রংয়ের পাঞ্জাবি আর কাঁধ পর্যন্ত লম্বা চুল। কোলে সব সময়ই কোনো না কোনো প্রাণী থাকে। সারাদিন এখানে ওখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আড্ডা দিচ্ছেন, না হয় কোথাও বসে বাঁশি বাজাচ্ছেন। তিন কুলে তাঁর তখন কেউই নেই, বিয়েও করেননি। দিনে যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়াতেন, বাঁশি বাজাতেন আর রাত হলে শিবমন্দিরে ঘুমাতেন।

sultan 05এর কিছুদিন পর শিবমন্দির ত্যাগ করে সুলতান এসে উঠলেন মাছিমদিয়া গ্রামে জমিদারদের আরেকটি পরিত্যক্ত দু’তলা বাড়িতে। এখানে এসে তিনি আরো সংসারী হয়ে উঠলেন। দিন দিন সুলতানের সংসারে সদস্য সংখ্যা বাড়তে থাকল। তাঁর সংসারে সদস্য হচ্ছে কয়েক ডজন গিনিপিগ, ইঁদুর, বিড়াল, কুকুর, বাঁদর ও নানারকম পাখি। এরা তাঁর সন্তানের মতো৷। রোজ এদের খাবারের জন্য প্রয়োজন হয় পাঁচ সের দুধ, কয়েক ডজন কলা, মাছ, মাংস- আরো কত কী। সেই দিনগুলোতে এদের আহার জোগাড় করতে গিয়ে অর্থকষ্টে দিনযাপন করেছেন তিনি। কখনো কারো বাড়িতে আশ্রিত হয়ে থেকেছেন। আবার কখনো দশজনের সহযোগিতায় চলেছেন। শুধু জীবজন্তু নয়, সখ্যতা গড়ে উঠেছিল গ্রামের সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষ ও শিশুদের সাথেও। সুলতান ছিলেন শিশুদের অকৃত্রিম বন্ধু। এদের নিয়ে এমনি করেই সুলতানের কেটে গেল দেড় যুগ। এই দীর্ঘ সময়ে তুলিতে কখনো রং লাগাননি সুলতান।

১৯৫১ থেকে ১৯৭৬ এর মাঝে সুলতানের কোনো প্রদর্শনী হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বরে শিল্পকলা একাডেমির গ্যালারিতে পঁচাত্তরটিরও বেশি চিত্রকর্ম নিয়ে সুলতানের প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী হয়। ততদিনে বাংলাদেশে সুলতানের ছবির সমঝদার অনেক বেড়েছে। সুলতান সে সময় ভাঙা বাড়ির সংসার রেখে ঢাকায় চলে এসেছিলেন। কিন্তু থাকতে পারেননি। নাগরিক জীবনের সাথে একেবারেই মানাতে পারেননি নিজেকে। চিত্রার পাড়ের গুল্মঘেরা পরিত্যক্ত বাড়িতেই ফিরে গেলেন আবার। পাখি, মানুষ আর শিশুদের নিয়ে সারা দিন ঘুরে বেড়ান, শিশুদের ছবি আঁকা শেখান, আড্ডা দেন। এমনি করেই কাটান কয়েক বছর। [গুণীজন]

চিত্রকর্ম
জমি কর্ষণ-১, জমি কর্ষণ-২ (তেল রং ১৯৮৬, ১৯৮৭), হত্যাযজ্ঞ (তেল রং ১৯৮৭), মাছ কাটা (তেল রং ১৯৮৭), জমি কর্ষণে যাত্রা-১ এবং ২ (তেল রং ১৯৮৭, ১৯৮৯), যাত্রা (তেল রং ১৯৮৭), ধান মাড়াই (তেল রং ১৯৯২), গাঁতায় কৃষক (তেল রং ১৯৭৫), প্রথম বৃক্ষ রোপন (তেল রং ১৯৭৬ ), চর দখল (তেল রং ১৯৭৬) পৃথিবীর মানচিত্র (তেল রং) উল্লেখযোগ্য ।

sultan00পুরস্কার ও সম্মাননা

তিনি ১৯৮০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের কাছ থেকে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫১ সালে নিউইয়র্কে, ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারে সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন৷ এছাড়াও ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে আন্তর্জাতিক জুরী কমিটির অন্যতম সদস্য মনোনীত হোন। তিনি ১৯৮২ সালে একুশে পদক লাভ করেন। ১৯৮৪ সালে শিল্পকলা একাডেমি তাঁকে আবাসিক শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ শিল্পী এস এম সুলতানকে সম্মাননা প্রদান করে। ১৯৯৪ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর সর্ম্পকে

সুলতানের বাল্যবয়সের চরিত্র-গঠন সম্পর্কে আহমদ ছফা লিখেছেন: ‘কোনো কোনো মানুষ জন্মায়, জন্মের সীমানা যাদের ধরে রাখতে পারে না। অথচ যাদের সবাইকে ক্ষণজন্মাও বলা যাবে না। এরকম অদ্ভুত প্রকৃতির শিশু অনেক জন্মগ্রহণ করে জগতে, জন্মের বন্ধন ছিন্ন করার জন্য যাদের রয়েছে এক স্বভাবিক আকুতি। …শেখ মুহাম্মদ সুলতান সে সৌভাগ্যের বরে ভাগ্যবান, আবার সে দূর্ভাগ্যের বরে অভিশপ্তও।’

মৃত্যু
১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে বিকেল ৪ টা ৩৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সূত্র : বাংলাপিডিয়া, গুনীজন ডটকম, ্উইকিপিডিয়া, যুগান্তর, নড়াইল জেলা,এস. এম. সুলতান স্মারক গ্রন্থ ২০০৫, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। ভিডিও তারেক মাসুদের আদমসুরত প্রামাণ্যচিত্র এবং ছবি ও চিত্রকর্ম সংগৃহিত

গ্রন্থনা : আবু সাঈদ

Comments

comments