ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ০৭ : ৪৬ মিনিট

mithor

শিরোনাম দেখে হয়তো ভ্রু কুচকে গেল। মনে হতে পারে সে আবার কি! বাড়ি থেকে পালিয়ে গেল কোটিপতি হওয়া যায়। হ্যাঁ, পূর্ব-ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের ধানবাদের সাধারণ পরিবারের ছেলে অম্বরীশ মিত্র পরীক্ষার ফলাফল অকৃতকার্য করে বাড়ি থেকে পালিয়ে দিল্লিতে চলে যান। সেখানে শুরু করেন আরেক জীবন। যে জীবন তাঁকে ধন্য করেন।

পালিয়ে যাওয়া অম্বরীশ মিত্রের সংগ্রামী জীবনটা খুব সহজ ছিল না। দুর্মর পথ দিয়ে হেঁটেছেন তিনি। রাতে ঘুমাতেন দিল্লির এক বস্তির ঘরে। সেখানে আরাম করে ঘুমানো কোনো সুযোগ ছিল না। মাটিতে শুয়ে রাত কাটায়েছেন। তাঁর সঙ্গে তাঁর মতো আর ছয়জনকে নিয়ে।

কষ্টসষ্ট করে দুইটি কাজ যোগার করেছিলেন তিনি। সকালে খবরের কাগজ বিক্রি। বিক্রির পরে রেস্টুরেন্টে বয়গিরি। পত্রিকার বিক্রি করতে করতে একদিন তাঁর চোখ আটকে যায় পত্রিকার একটি বিজ্ঞাপনে। সেখানে লেখা ছিল ব্যবসার নতুন আইডিয়া নিয়ে প্রতিযোগিতা। বিজয়ী পাবে ১০,০০০ ডলার সমপরিমাণ অর্থ।

ambarish_mitra১৬ বছর বয়সী অম্বরীশ মিত্র একটু দেরি করলেন না। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে উঠে পড়ে লেগে গেলেন। আইডিয়া দিলেন ‘স্বল্প আয়ের নারীদের জন্য বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়া।’ ব্যস। আইডিয়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হলেন তিনি। পুরস্কারের টাকা দিয়েই শুরু করেন সেই ব্যবসা। নাম দেন উইমেন ইনফোলাইন। ব্যবসা সফল হল। ১২৫জন কর্মচারিকে চাকরি দিলেন সেই প্রতিষ্ঠানে।

মাথায় আরও বুদ্ধি এল। এই ব্যবসাটি বিক্রি করে লণ্ডনে পাড়ি দিবেন। ঠিক তাই হল। কিন্তু ব্রিটেনে ব্যবসা দাঁড় করানো সহজ ছিল না তাঁর। নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে এক সময় তাঁর সঙ্গে দেখা হল ওমর তায়েবের। দুজনে মিলে শুরু করলেন নতুন এক মোবাইল ফোন অ্যাপ, যার নাম ব্লিপার।

তারপর অম্বরীশ মিত্রকে আর পিছু হঠতে হয়নি। ব্লিপারের ব্যবসা দিনে দিন উচ্চতর মাত্রা পৌঁছাতে লাগে। যার এখন অর্থ পরিমাণ দাঁড়িয়ে দেড়শা কোটি ডলারেরও বেশি। লন্ডন, নিউইয়র্ক, স্যানফ্রান্সিসকো, সিঙ্গাপুর, দিল্লিসহ ১২টি শহরে ব্লিপারের অফিস রয়েছে। তাঁর ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন ৩০০ জনেরও বেশি কর্মচারি। সারা বিশ্বে ৬৭,০০০ স্কুলে ব্লিপারের অ্যাপ ব্যবহৃত হচ্ছে। সূত্রধর : বিবিসি।

Comments

comments