ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮ | ০৮ : ৩১ মিনিট

Shirin-Banu

শোক, শ্রদ্ধা আর সর্বস্তরের মানুষের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে চিরবিদায় নিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শিরীন বানু মিতিল। সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরে মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ রাখা হয়। এ সময় শ্রদ্ধা জানান রাজনীতিক, কবি, সাহিত্যিক, মুক্তিযোদ্ধা, সহকর্মী এবং সহযোদ্ধারা। শ্রদ্ধা জানাতে এসে অনেকেই স্মৃতিচারণ করেন।

শিরিন বানু মিতিলস্কুল জীবনেই ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেওয়া শিরিন বানু মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ১৯৭০-৭৩ সাল পর্যন্ত পাবনা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভানেত্রী ও কিছু সময়ের জন্য পাবনা জেলা মহিলা পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের কেন্দ্রীয় নারী কমিটির সভানেত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫১ সালের ২ সেপ্টেম্বর পাবনায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

১৯৭১ সালে মাত্র একুশ বছর বয়সে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী শিরিন বানু মিতিল অংশ নিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। তিনিই একমাত্র নারী মুক্তিযোদ্ধা যিনি পুরুষের ছদ্মবেশে মুক্তিযুদ্ধের অংশ নিয়েছিলেন রণাঙ্গণে। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকার কথা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

২১ জুলাই বুধবার মধ্যরাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে রাত সাড়ে ১১টায় তিনি হঠাৎ করে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বয়স ছিল ৬৫ বছর।  আজ শুক্রবার সকাল দশটায় তাঁর মরদেহ আনা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে গার্ড অব অনার দেয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানানো হয় তাকে।

পরে এই বীরমুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল,সংগঠনও মুক্তিযোদ্ধারা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে। সেখানে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পরে দুপুরে কুমিল্লার কাটাবিল এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

আরও পড়ুন:

Comments

comments