ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮ | ০৪ : ১৫ মিনিট

Santhal rebellionসাঁওতাল বিদ্রো বা সান্তাল হুল। ৩০ জুন ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। সাঁওতাল বিদ্রোহ হচ্ছে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ও তার এদেশীয় দোসর, শোষক, সুদখোর মহাজনদের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র গণসংগ্রাম।

ভারতের ভাগলপুর, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূম জেলার প্রায় দেড় হাজার বর্গমাইল এলাকা দামিন-ই-কোহ্ বা ‘পাহাড়ের ওড়না’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। ভাগলপুরের ভগনা ডিহি গ্রামের সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব এই চার ভাইয়ের নেতৃত্বে দামিন-ই-কোহ্ অঞ্চলে সংঘটিত হয় সাঁওতাল বিদ্রোহ। ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন ভগনা ডিহি গ্রামে ৪০০ গ্রামের প্রতিনিধি প্রায় ৫০ হাজার সাঁওতাল কৃষকের বিরাট জমায়েত হয়। এই জমায়েতে সিধু-কানু ভাষণ দেন। বিদ্রোহে ওই এলাকার দরিদ্র বাঙালি ও হিন্দু মুসলমান কৃষকেরাও অংশ নেন।

এই সভায় সিদ্ধান্ত হয়, অত্যাচারী শোষকদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সবাইকে এক হয়ে লড়তে হবে। এখন থেকে কেউ জমির কোনো খাজনা দেবে না এবং প্রত্যেকেরই যত খুশি জমি চাষ করার স্বাধীনতা থাকবে। আর সাঁওতালদের সব ঋণ এখন বাতিল হবে। তাঁরা মুলুক দখল করে নিজেদের সরকার কায়েম করবে। প্রায় ৫০ হাজার সাঁওতাল কৃষক সেদিন শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার শপথ নিয়েছিলেন। ভগনা ডিহি গ্রামের ওই সভার শপথ ছিল বিদ্রোহের শপথ। বিদ্রোহের মূল দাবি ছিল, ‘জমি চাই, মুক্তি চাই।’

ব্রিটিশ বাহিনীর কামান-বন্দুক ও গোলাবারুদের বিরুদ্ধে সাঁওতালদের তীর-ধনুক, বল্লম-টাঙ্গির অসম যুদ্ধ খুব বেশি দিন স্থায়ী না হলেও এই বিদ্রোহ ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুক্তিকামী মানুষের মনে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে কাজ করেছে।
সাঁওতাল বিদ্রোহ সংঘটিত হয় ১৮১১, ১৮২০, ১৮৩১ এবং ১৮৫৫, ১৮৫৬ সালে। এরপর ১৮৭১, ১৮৭৪, ১৮৭৫ এবং ১৮৮০, ১৮৮১ সালেও সংঘটিত হয়। বিভিন্ন সময়ের বিদ্রোহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ১৮৫৫ এবং ১৮৫৬ সালের বিদ্রোহ।

সাঁওতাল বিদ্রোহে তখন কেঁপে উঠেছিল ইংরেজদের ভীত। লর্ড ডালহৌসি মার্শাল ল জারি করেও এ বিদ্রোহ দমন করতে পারিনি। প্রায় ৫০ হাজার সাঁওতাল বিদ্রোহী তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করেছিল। বিহার, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ অঞ্চল সাওতাল বিদ্রোহের ফলে ইংরেজদের শাসন শূন্য হয়ে পড়েছিল। সাঁওতালদের বিষাক্ত তীরের অঘাতে অনেক সৈন্য হতাহত হয়েছিল। সাঁওতাল বিদ্রোহের তীব্রতা সম্পর্কে ভাগলপুরের কমিশনার লিখেছেন, বিদ্রোহীরা নির্ভকচিত্তে প্রাণপণ যুদ্ধ করছিল। তাদের যুদ্ধস্ত্র কেবল তীর-ধনুক আর একপ্রকারের টাঙ্গি।

বাংলা, বিহার উড়িষ্যায় সাঁওতালরা বড় উপজাতি হিসেবে পরিচিত ছিল। উনবিংশ শতকের প্রথম দিকে সাঁওতালরা দামনে কোহ (রাজমহল পাহাড়তলী) এলাকায় জীবন জীবিকার তাগিদে আসে। সেখানকার উর্বর পাহাড়ি জমি চাষাবাদে ছিল তাদের যথেষ্ট দক্ষতা। ফসল উৎপাদনের জন্য জমিদাররা তাদের উৎসাহ দিত। এ সময় ২৫ বছরের মধ্যে প্রায় এক লাখ সাঁওতাল পাঁচ লাখ বিঘা জমি চাষাবাদের উপযোগি করে তোলে।

বিদ্রোহী এ অঞ্চল ছিল তখনকার ভাগলপুর, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলার মধ্যে। দামনে কোহের আয়তন ছিল ১৩৬৩ বর্গ মাইল। তার মধ্যে ৫০০ বর্গ মাইলে পাহাড় ছিল না। ১৮৫০ সালে এই ৫০০ বর্গ মাইল এলাকার প্রায় অর্ধেক অংশে জঙ্গল ছিল, বাকি অর্ধেক চাষাবাদের উপযোগী করেছিল সাঁওতাররা এসে। ১৮৩৬ সালে পর্যন্ত সেখানে সাঁওতাল ও ভূঁইয়ারা, প্রধানত সাঁওতালরা, ৪২৭টি গ্রাম প্রতিষ্ঠা করেছিল বলে জানা যায়। তারপর তাদের সংখ্যা বেড়ে যায় এবং ১৮৬১ সালে নাগাদ প্রায় ১৫০০টি গ্রামে তাদের সংখ্যা ছিল ৮৩ হাজার।

দামনে কোহ এলাকায় এসে চাষ বাস করে সাঁওতালরা প্রথমে অনেকটা নিশ্চিন্ত বোধ করেছিল। কিন্তু অল্পকালের মধ্যেই তাদের এ বিশ্বাসে চির ধরে। অনেক বাঙালি, ভোজপুরী ও ভাটিয়া বেপারী ও মহাজন দামনে কোহ এলাকায় এসে তাদের কারবার শুরু করে।

সাঁওতালদের মধ্যে আধুনিক মুদ্রা অর্থনীতির প্রচলন বিশেষ হয়নি, টাকা-পয়সার লেনদেন তেমন ছিল না। তাদের সমাজে স্বাভাবিক অর্থ ব্যবস্থার প্রভাবই ছিল বেশি। তারা জমি চাষ করতো, তারা এসব নিজেরা ভোগ করবে বলে এবং কিছু বিনিময় করে কাপড়-চোপড়, তেল-নুন ইত্যাদির প্রয়োজন মেটাবে বলে।
ব্যাপারীরা এসে কেনা বেচার কারবার শুরু করে। তারা সরল চিত্ত সাঁওতাল কৃষকদের ফসল মাটির দরে কিনে নিয়ে বাইরে চালান করে আর সেই সঙ্গে বাইরে থেকে আমদানি করা লবণ ও অন্যান্য পণ্য চড়া দরে তাদের মধ্যে বিক্রি করে অনেক মহাজনও এ কারবার করত। দর কম বা বেশি ছাড়া তাদের আরও ঠকিয়ে কিনবা ও বেচবার জন্য তারা দুরকম বাচখারা বা পাথর রাখত। কিনবার সময় ব্যবহার করত বড় বাটকারা, তার নাম ছিল কেনারাম বা বড়বৌ। আর বেচবার সময় ব্যবহার করত ছোট বাচকারা, তার নাম ছিল বেচারম বা ছোট বৌ।
ব্যাপারীরা তাদের ফসল কিনে ও অন্যান্য পণ্য তাদের কাছে বিক্রি করে অত্যাধিক মুনাফা লটত। সেই মুনাফাকে আরও ফাঁপিয়ে তুলত সুদের কারবার করে। কোন সাঁওতাল কৃষক পরিবার নতুন এসে জমি হাসিল করার সময় খোরাকির জন্য ব্যাপারীর কাছে কিছু ধান চাইলে সে ধার দিত, কিন্তু জমি হাসিল করার ও ফসল বোনা হলেই সেই জমি দখল করত।
বেপারীদের জুলুম সহ্য করতে না পেরে কোন সাঁওতাল যদি জঙ্গলে চলে যেতে চাইত তাহলে বেপারী আদালতে ঘুষ দিয়ে তার উপর ডিক্রি জারি করাত। তার বাড়ির গরুমোস, তৈজসপত্র, হাঁড়ি-থালা পর্যন্ত নিলাম হয়ে যায়। স্ত্রীর সন্মানের চিহ্ন যে সামান্য লোহার বালাটুকু তাও বাদ যেত না, ছিনিয়ে নেয়া হত।

এই এলাকার জন্য যে ইংরেজ জজ নিযুক্ত হয়েছিল, সে সরকারের রাজস্ব আদায় নিয়েই ব্যস্ত থাকত, জনগণেল ছোটখাট নালিশ শোনার তাদের সময় ছিল না। অধস্তন দেশি কর্মচারিরা প্রত্যেকেই অত্যাচারীদের পয়সা খেত, পুলিশও তার শরিক ছিল। এ সবের খবর গর্ভর্মেন রাখা দরকার মনে করত না। একজন মাত্র ইংরেজ অফিসারকে পাঠানো হয়েছিল সাঁওতালদের দেখাশোনা করতে। দেখাশোনা কিছু হত না, কিন্তু কোন অত্যাচর না হলেও সেই অফিসারের ব্যবস্থাপনায় চাষের ক্ষেত বাড়ানো হত তাতে রাজস্বও বাড়ত, রাজস্ব বেড়ে হয়েছিল ১৮৩৮ সনে ৬৬৮ পাউন্ড থেকে ১৮৫৪ সালে ৬৮০৩ পাউন্ড।

মহাজনদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ১৮৪৮ সালে তিনটি এলাকার সমস্ত সাঁওতাল বাসিন্দরা জমি-জায়গা ফেলে হতাশ হয়ে জঙ্গলে চলে চলে যায়। তামাম এলাকার অধিকাংশ লোক পেটের দায়ে মহাজনের দাস হয়ে থাকতেই বাধ্য হয়।

অনেক সাঁওতাল কৃষকের সামান্য দেনার জন্যও বাঁধা দেবার মত জমি বা ফসল কিছুই থাকত না। এই ধরনের লোকদের মধ্যে কারও বাপ মারা গেলে সৎকারের জন্য দু-চার টাকা ধার করতে তাকে মহাজনের দুয়ারে যেতে হত। সেজন্য বন্ধক রাখার কিছু না থাকায় সৎকারের পর থেকে দেনা শোধ না হওয়া পর্যন্ত তাকে সপরিবারে মহাজনের গোলামি করতে হত। মজাজন অবশ্য চাইত না এ দেনা শোধ হোক। তাই অন্য জায়গায় কাজ করে যাতে সে শোধ দিতে না পারে, সেজন্য তাকে দিনরাত নিজের কাজে খাটিয়ে আটকে রাখত। এই সাঁওতাল মরে গেল ছেলেদের জন্য কেবল দেনার বোঝাই রেখে যেত। দেনা ও তার আনুষঙ্গিক গোলামি চলত পুরুষানুক্রমে। দেনা প্রথমে সামান্য দু-চার টাকা হলেও অল্পকালের মধ্যেই শতকরা ৫০০ টাকা হারেও সুদ আদায়ের সংবাদ পাওয়া যায়। মহাজন সাঁওতাল চাষের ও ফসল মৌসুমে সকল সময় কাজে নিযুক্ত রাখত। তা অসহ্য হলে সাঁওতাল যদি কাজ করতে না চাইত, মহাজন তার খাবার বন্ধ করে দিত সে যদি অপরের কাজ করতে যেত, মহাজন আদালতের ডিক্রি আনিয়ে এবং জেলের ভয় দেখিয়ে তাকে ঠাণ্ডা করত।

১৮৫৪ সালে এক সরকারী মুখপত্রেই স্বীকার করা হয়েছিল যে, জমিদার, নায়েব, গোমস্তা, পেয়াদা, পুলিশ, আমলা, এমনকি ম্যাজিস্ট্রেট পর্যন্ত সবাই মিলে নিরীহ গরিব সাঁওতাল কৃষকদের উপর নির্মম অত্যাচার চালায়। বার্ষিক শতকরা ৫০ থেকে ৫০০ টাকা হারে সুদ আদায়, বেআইনী আদায়, জোর করে জমি দখল, মারধর-তাদের উপার সবই চলে।
১৮৫৪ সালে প্রথম দিকে লক্ষ্মীপুরে সাসানের পরগনাইত বীর সিং- এর নেতৃত্বে একটা বড় দল তৈরি হয়। এ দলের নেতাদের মধ্যে ছিলেন বোরিও-র বীর সিং মাঝি, সিন্দ্রির কাওলা পারামানিক এবংহাতবাঁধার ডোমন মাঝি।

১৮৫৫ সালের গোড়ার দিকে বীরভূমি, বাঁকুড়া, ছোটনাগপুর ও হাজারিবাগ থেকে ছ-সাত হাজার সাঁওতাল এসে দামনে কোহে জমায়েত হয়। একই সালের ৩০ জুন রাতে ভগনাডিহি গ্রামে ৪০০ গ্রামের প্রতিনিধি ১০ হাজার সাঁওতাল কৃষকের বিরাট জামায়েত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, কেউ জমির খাজনা দেবে না, প্রত্যেকে যতখুশি চাষ করবে, সাঁওতালদের সকল ঋণ এখন থেকে বাতিল হবে।

সভার সিদ্ধান্ত জানাতে কির্তা, ভাদু সন্নো ও সিধু গর্ভমেন্টকে, কমিশনারকে, ভাগলপুরের ও বীরভূমের কালেকটার ও ম্যাজিস্ট্রেটদের, দিঘি ও রাজমহল থানার দারোগারেদ এবং কয়েকজন জমিদারকে ও অন্যাকে চিঠি লিখলেন। জমিদারদের নামের চিঠিগুলো ছিল চরমপত্র। তাতে লেখা হল ১৫ দিনের মধ্যে জবাব চাই। কিন্তু কেউ চিছির উত্তর দেয়া দরকার মনে করেনি। (এ চিঠি সরকারি নথীতে পাওয়া যায়নি বলে প্রকাশ)

৭ জুলাই থেকে শুরু হয় প্রথম রক্তের হোলি খেলা। মহাজন, চৌকিদার, বরকন্দাজদের বেঁধে দারোগা সহ মোট ১৯ জনের মাথা কেটে ফেলা হয়। পাঁচকেঠিয়া বাজারেও পাঁচজন অত্যাচারী মহাজনকে হত্যা করা হয়।
বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। গোচ্চো কয়েক হাজার লোক নিয়ে কাঁপুর বাহাদুরপুরের দিকে যায় সিধু, কানু ও তাঁদের অন্য দুভাই বিশাল বিদ্রোহী বাহিনী নিয়ে সুলতানাবাদ দখলের জন্য মহেশপুরের দিকে অগ্রসর হন।

বিদ্রোহীদের এই শক্তি দেখে জমিদার, মহাজন, ঠকবাজ সবাই পালাতে থাকে। বিদ্রোহীর খুব কম সময়ের মধ্যে বোরিও থেকে কোহলগাঁও পর্যন্ত নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়। বন্ধ হয়ে রেল ডাক।
বিদ্রোহ দমন করতে সরকার নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করে । বিভিন্ন গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়। হত্যা করা হয় সাঁওতালদের। এক অরাজতা সৃষ্টি হয় চারদিকে। ১০ নভেম্বরের দিকে সামারিক আইন জারি করে প্রায় ১০ হাজার সাঁওতাল বিদ্রোহীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সিধুকে ভগনাডিহি গ্রামে গুলি করে হত্য করা হয়।কানুর বিচার হল আদালতে। ৫২টি গ্রামের ২৫১ জনের বিচার হয়। তাদের মধ্যে সাঁওতাল ১৯১, ন্যাস ৩৪, ডেম ৫, ধাঙ্গড় ৬, কোল ৭, গোয়ালা ১, ভূঁইয়া ৬ ও রাজোয়ার ১।

২৫১ জনের মধ্যে তিনজনকে ছেড়ে দেয়া হয়। বাকি ২৪৮ জনের লটের অভিযোগে দোষী করা হয়। তাদরে মধ্যে ৪৬ জন ছিল ৯-১০ বছরের বালক। তাদের বেত মেরে ছেড়ে দেয়া হয়। অন্যদের ৭ থেকে ১৪ বছরের মেয়াদে সাজা দেয়া হয়।

বিদ্রোহের নেতৃত্ব ও লিপিকার

  • সিধু মাঝি ছিলেন সাঁওতাল বিদ্রোহের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা। কিছু লোকের বিশ্বাসঘাতকতার ফলে তিনি গ্রেপ্তার হন। পরে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
  • কানু মাঝি ছিলেন সাঁওতাল বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান নায়ক। প্রধানতম নায়ক সিধু মাঝি তাঁর অগ্রজ এবং অপর বীরদ্বয় চাঁদ ও ভৈরব তাঁর অনুজ। বীরভূম জেলারওপারে সশস্ত্র পুলিসবাহিনীর গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়। ভৈরব ও চাঁদ ভাগলপুরের কাছে এক ভয়ংকর যুদ্ধে প্রাণ বিসর্জন করেন।
  • কলিয়ান হরাম ছিলেন সাঁওতাল বিদ্রোহের ইতিহাসের লিপিকার এবং সাঁওতালদের গুরু। তিনি তাঁর “হরকোরেন মারে হাপরাম্বো রিয়াক কথা” শীর্ষক একটি রচনায় সাঁওতাল বিদ্রোহের ইতিবৃত্ত রেখে গেছেন। এই ইতিবৃত্তে সাঁওতাল বিদ্রোহের নায়ক সিধু ও কানুর সংগ্রাম-ধ্বনি, যথাঃ “রাজা-মহারাজাদের খতম করো”, “দিকুদের (বাঙালি মহাজনদের) গঙ্গা পার করে দাও”, “আমাদের নিজেদের হাতে শাসন চাই” প্রভৃতি লিপিবদ্ধ আছে।

তথ্যসূত্র :
* উইকিপিডিয়া
* প্রথম আলো

 

Comments

comments