ঢাকা, সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ | ১১ : ১১ মিনিট

with-genপাকিস্তানি কোনো লেখক,সামরিক বা বেসামরিক,আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লিখবে,মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশংসা করবে-আশা করা যায় না। পশুর কাছে যেমন মানবিক আচরণ কামনা করা অনুচিত। নিয়াজি, রাও ফরমান আলী, হাসান জহীর, গুল হাসান, কামাল মতিনউদ্দিন, সাদউল্লাহ তাদের বইতে সেই একাত্তরের মনোবৃত্তিরই পুন:প্রকাশ করেছে।কিন্তু সত্যিই পরিতাপের বিষয়, সামরিক বা বেসামরিক, কোনো ভারতীয় লেখকও তা করেননি ।

নয় মাসের মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধকে আমলেই নেননি তারা কেউ । মুক্তিবাহিনীর সামগ্রীক অর্জন ও কার্যকরী সহায়তার কারণেই মুখ্যত ভারতীয় বাহিনীর পক্ষে সম্ভব হয়েছে মাত্র ৭ ডিভিশন সৈন্য দিয়ে পাকিস্তানের ৩টি পূর্ণ এবং ২টি এ্যাডহক ডিভিশনকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়া এবং তাও মাত্র ১৩ দিন সময়ে। অথচ প্রচলিত যুদ্ধের নিয়ম অনুযায়ী ৪ ডিভিশন শত্রু সৈন্যে বিপরীতে ভারতীয়দের যুদ্ধে মোতায়েন করার কথা ১২ডিভিশন সৈন্য (আক্রমনের ক্ষেত্রে ১:৩ প্রচলিত আনুপাতিক হার অনুযায়ী)।

ভারতীয় সেনানায়করা কোথাও তাদের বইতে লিখলেন না-মুক্তিবাহিনী কীভাবে শত্রুকে ‘অন্ধ ও বধীর’ করে ফেলেছিল (১৯৯৭ সালে ২৭ মার্চ লে.জে. জগজিৎ সিং অরোরা সেগুন বাগিচায় মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধান অতিথি হিসেবে আসলে আমার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন)। লিখলেন না, তাদের উভচর ট্যাংক পিটি-৭৬ মেঘনা নদী সাতরিয়ে পার হতে পারছিল না যখন (আধা ঘন্টা পানিতে চললে রাশিয়ায় নির্মিত এ ট্যাংকর ইন্জিন গরম হয়ে ইন্জিন সীজ হবার উপক্রম হয়) তখন গ্রামবাসী কী করে দেশী নৌকা দিয়ে টেনে এগুলোকে নদী পার করে। (অন্যথায় সবগুলি ট্যাংক মেঘনায় তলিয়ে যেতো), কদার রাস্তায় আশুগন্জ-ভৈরবের যুদ্ধে কীভাবে তাদের ভারী মর্টার,ভারী সরন্জাম গ্রামের লোক বয়ে নিয়ে গেছে তাদের জন্য, রংপুরের বদরগন্জে হারিকেন হাতে আমাদের ছেলেরা ট্যাংকের সামনে হেঁটে হেঁটে ওদের পথ দেখিয়েছে। অথচ তারা লিখলেন কী করে ১.৮:১ আনুপাতিক সৈন্যের হারে তারা যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন।

পাকিস্তানী এবং ভারতীয়দের একটি বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি অভিন্ন-বাংলাদেশীদের তারা কেউ প্রশংসা করেননি। বস্তুত,তাদের বাহ্যিক ও আপাতগোপন আচরণে বারবার মনে হয়েছে তারা বাংলাদেশকে ভালোবাসে,বাংলাদেশীদের নয়।

মেজর (অব) কামরুল হাসান ভূঁইয়া : মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক

Comments

comments