ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ০৭ : ২৭ মিনিট

49475-1einsteinএকশো বছর আগে যার অস্তিত্ব কথা অনুমান করেছিলেন আলবার্ট আইনস্টাইন। সেই মহাকর্ষ তরঙ্গ। যা দ্বিতীয়বারের মতো শনাক্ত হলো। আজ সান দিয়েগো-য় ‘আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি’-র সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

মহাকর্ষ তরঙ্গ প্রথম শনাক্ত হয়েছিল গত বছর ১৪ সেপ্টেম্বর। পৃথিবী থেকে ১৩০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে দু’টো ব্ল্যাক হোলের মরণ আলিঙ্গনের সঙ্কেত ধরা পড়েছিল আমেরিকায় ‘লেসার ইন্টারফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ অবজারভেটরি’ (লাইগো)-র দুই যন্ত্রে। যাদের ঠিকানা লুইজিয়ানা-র লিভিংস্টোন এবং ওয়াশিংটনের হ্যানফোর্ড। সে তথ্য গত ১১ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত হয়েছিল ওয়াশিংটনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে। সাড়া পড়ে গিয়েছিল বিজ্ঞানের দুনিয়ায়।

১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে আইনস্টাইন ওই তরঙ্গের অস্তিত্ব অনুমান করলেও, গত একশো বছরে তা শনাক্ত হয়নি। কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরে ঘটুক যত ধুন্ধুমার ঘটনা, তার রেশ তরঙ্গাকারে যখন পৃথিবীতে এসে পৌঁছয়, তখন তা এতই ক্ষীণ, যে তাকে শনাক্ত করতে প্রয়োজন অতি-সংবেদনশীল যন্ত্র। লাইগো-র তেমন যন্ত্রেই গত বছর প্রথম শনাক্ত হয় মহাকর্ষ তরঙ্গ। তাতে শুধু যে আইনস্টাইন নির্ভুল প্রতিপন্ন হন, তা-ই নয়। যে সব ধুন্ধুমার ঘটনার কথা বলা হয়েছে, সে সব থেকে আলো তো কোন ছাড়, কোনও রকম সঙ্কেতই ছড়ায় না। ও-সব ঘটনার খবর পেতে মহাকর্ষ তরঙ্গ একমাত্র ভরসা। সে তরঙ্গের অস্তিত্ব প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞানের জগতে আনন্দের ঢল নেমেছিল এই কারণে যে, বিশ্বে খুলবে এক নতুন জানালা।

বিজ্ঞানীদের স্বপ্ন সার্থক। গত ২৬ ডিসেম্বর তাঁরা পেয়েছেন, বড়দিনের উপহার। দ্বিতীয় বার শনাক্ত করেছেন মহাকর্ষ তরঙ্গ। গত বছর ১৪ সেপ্টেম্বর লাইগো-র যন্ত্রে ধরা পড়েছিল যে সঙ্কেত, তার উৎস সূর্যের ছত্রিশ এবং উনত্রিশ গুণ ভারী দুই ব্ল্যাক হোলের মরণ আলিঙ্গন। আর দ্বিতীয় বার শনাক্ত হয়েছে যে তরঙ্গ, তার মূলে দুই ব্ল্যাক হোল ছিল সূর্যের চোদ্দো এবং আট গুণ ভারী। [আনন্দবাজার]

 

Comments

comments