ঢাকা, সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮ | ১১ : ৩৯ মিনিট

jessore-road-1971 Swapno71

Allen Ginsberg [অ্যালেন গিন্সবার্গ একজন মার্কিন কবি, লেখক, গীতিকার। তিনি আজকের দিন ৩ জুন ১৯২৬ সালে নিউ জার্সির প্যাটারসনের একটি ইহুদী পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। ১৯৫০-এর দশকের বিট প্রজন্ম এবং বিপরীত সংস্কৃতি আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। তিনি সামরিকতন্ত্র, অর্থনৈতিক বস্তুবাদ এবং যৌন নিপীড়ন বিষয়ের জোরালোভাবে বিরোধিতা করেন। শুরুতে গিন্সবার্গ তার “হাউল” (১৯৫৬) মহাকাব্যের জন্য সর্বাধিক পরিচিত হন; যেখানে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাদের ধ্বংসাত্মক শক্তিকে নিন্দা করেন। এই কবিতাটি লিখেছিলেন তারবিট প্রজন্মের বন্ধুদের বরণ করে নিয়ে এবং বস্তুবাদের ধ্বংসাত্মক শক্তিকে আক্রমণ করে।
গিন্সবার্গ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশী শরণার্থী শিবিরগুলোতে ঘুরে বেরিয়েছিলেন। এসময় যশোরের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি কবিতা লিখেন যার নাম সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গিয়ে তার বন্ধু বব ডিলান ও অন্যদের সহায়তায় এই কবিতাটিকে তিনি গানে রূপ দিয়েছিলেন। কনসার্টে এই গান গেয়ে তারা বাংলাদেশী শরণার্থীদের সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯৯৭ সালে  ৫ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।]

‌‌’সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ কবিতাটি মাধ্যমে তিনি আমাদের মাঝে অমর হয়ে আছেন। কবিতাটি হলো:

শত শত চোখ আকাশটা দেখে,
শত শত শত মানুষের দল,
যশোর রোডের দুধারে বসত
বাঁশের ছাউনি কাদামাটি জল।

কাদামাটি মাখা মানুষের দল,
গাদাগাদি করে আকাশটা দেখে,
আকাশে বসত মরা ঈশ্বর,
নালিশ জানাবে ওরা বল কাকে।

ঘরহীন ওরা ঘুম নেই চোখে,
যুদ্ধে ছিন্ন ঘরবাড়ি দেশ,
মাথার ভিতরে বোমারু বিমান,
এই কালো রাত কবে হবে শেষ।

শত শত মুখ হায় একাত্তর
যশোর রোড যে কত কথা বলে,
এত মরা মুখ আধ মরা পায়ে
পূর্ব বাংলা কোলকাতা চলে।

সময় চলেছে রাজপথ ধরে
যশোর রোডেতে মানুষ মিছিল,
সেপ্টেম্বর হায় একাত্তর,
গরুগাড়ি কাদা রাস্তা পিচ্ছিল।

লক্ষ মানুষ ভাত চেয়ে মরে,
লক্ষ মানুষ শোকে ভেসে যায়,
ঘরহীন ভাসে শত শত লোক
লক্ষ জননী পাগলের প্রায়।

রিফিউজি ঘরে খিদে পাওয়া শিশু,
পেটগুলো সব ফুলে ফেঁপে ওঠে
এইটুকু শিশু এত বড় চোখ
দিশেহারা মা কার কাছে ছোটে।

সেপ্টেম্বর হায় একাত্তর,
এত এত শুধু মানুষের মুখ,
যুদ্ধ মৃত্যু তবুও স্বপ্ন
ফসলের মাঠে ফেলে আসা সুখ।

কারকাছে বলি ভাতরুটির কথা,
কাকে বলি কর কর কর ত্রাণ,
কাকে বলি ওগো মৃত্যু থামাও,
মরে যাওয়া বুকে এনে দাও প্রাণ।

কাঁদো কাঁদো তুমি মানুষের দল,
তোমার শরীর ক্ষত দিয়ে ঢাকা,
জননীর কোলে আধপেটা শিশু
এ কেমন বাঁচা, বেঁচে মরে থাকা।

ছোট ছোট তুমি মানুষের দল,
তোমার ঘরেও মৃত্যুর ছায়া,
গুলিতে ছিন্ন দেহ-মন-মাটি
ঘর ছেড়েছোতো মাটি মিছে মায়া।

সেপ্টেম্বর হায় একাত্তর,
ঘর ভেঙে গেছে যুদ্ধের ঝড়ে,
যশোর রোডের দু’ধারে মানুষ
এত এত লোক শুধু কেন মরে।

শত শত চোখ আকাশটা দেখে,
শত শত শত শিশু মরে গেল,
যশোর রোডের যুদ্ধক্ষেত্রে
ছেঁড়া সংসার সব এলোমেলো।

কাদামাটি মাখা মানুষের দল,
গাদাগাদি করে আকাশটা দেখে,
আকাশে বসত মরা ঈশ্বর,
নালিশ জানাবে ওরা বল কাকে।

ঘরহীন ওরা ঘুম নেই চোখে,
যুদ্ধে ছিন্ন ঘর-বাড়ি-দেশ,
মাথার ভিতরে বোমারু বিমান,
এই কালো রাত কবে হবে শেষ।

শত শত মুখ হায় একাত্তর
যশোর রোড যে কত কথা বলে,
এত মরা মুখ আধ মরা পায়ে,
পূর্ব বাংলা কোলকাতা চলে,

এত মরা মুখ আধমরা পায়ে
পূর্ব বাংলা কোলকাতা চলে॥

* স্বপ্ন ‘৭১ এর উদ্বোধনী সংখ্যায় (২০১২) পূর্নমুদ্রণ করা হয়েছিল।

Comments

comments