ঢাকা, বৃহষ্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ০৭ : ৩৬ মিনিট

naz-5দ্রোহ ও প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর বন্ধু আলী আকবর খানের সঙ্গে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে আসেন। আলী আকবর খানের দ্বিতল বাড়িটি ছিল সুনিপুণ কারুকাজে শোভিত সুন্দর।সেখানকার সবুজ-শ্যামল পরিবেশ, ওই বাড়ির প্রতি কবির দারুণভাবে আকৃষ্ট হন।  সেখানে পরিচিত হন কবির বন্ধুর বোনের মেয়ে সৈয়দা খাতুনের সঙ্গে। কবি তাকে ভালোবেসে নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘নার্গিস আসার খানম’। ওই পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁদের মধ্যে প্রেম হয়। একই বছরের ১৭ জুন তাঁদের বিয়ে হয় (বাংলা ৩ আষাঢ়, ১৩২৭)। বিয়ের রাতেই নজরুল কাউকে কিছু না বলে বাসর ঘর ছেড়ে কুমিল্লা শহরে চলে আসেন। এরপর আর কখনো নার্গিসের সঙ্গে কবির দেখা হয়নি কিংবা কবি দেখা করেননি। ওই বিয়ের তিন বছরের মধ্যে কবি ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ এপ্রিল কুমিল্লা শহরের প্রমীলা দেবীকে বিয়ে করেন।

naz-3ওই বাড়ির পুকুরঘাটের আমগাছের নিচে বসে প্রেয়সী ও পত্নী নার্গিসকে নিয়ে তিনি লিখেছেন-

‘রেশমী চুরির ঝিঞ্জিনীতে
রিমঝিমিয়ে মরম কথা
পথের মাঝে চমকে কে গো
থমকে যায় ঐ শরম লতা।
কত চুমা তার কলসী ঠোঁটে।
উল্লাসে জল-উলসী উঠে।’

যতদিন কবি এই দৌলতপুরের খাঁ বাড়িতে ছিলেন ততদিন তিনি এই স্নিগ্ধ ও শান্ত পরিবেশে রচনা করেছেন অসংখ্য কবিতা, গান ও ছড়া।

বর্তমান অবস্থা
১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ঘরটির আটচালা ছিল। পরে বর্তমান অবস্থায় রুপান্তরিত (চৌচালা) হলেও আয়তন ও ভিটির কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। ওই ঘরে রয়েছে নার্গিসের ব্যবহার করা কাঠের তৈরি সিন্দুক। একসময় ওই ঘরে বাসর খাটটি ছিল। এখন সেটি পাশের একটি সেমিপাকা ঘরে রাখা হয়েছে। ওই ঘরের লাগোয়া স্থানে আছে স্মৃতিফলক। পুকুরপাড়ের আমগাছটি এখনো আছে। কবরস্থান ঘেরা আমগাছের সাইনবোর্ডে লেখা ‘দৌলতপুরে নজরুল’ । এখানে কবি দুপুরে শীতল পাটিতে বসে গান ও কবিতা লিখতেন। খাঁ বাড়ির ছেলেমেয়েদের নাচ, গান ও বাদ্যযন্ত্র শেখাতেন। পুকুরের পানিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাঁতার কাটতেন। শখ করে পুকুরে জাল আর পলো দিয়ে মাছ ধরতেন। কলের গান গাইতেন। কবির ওই স্মৃতিচিহ্ন চিরস্মরণীয় রাখার জন্য দৌলতপুরে বানানো হয়েছে ‘নজরুল মঞ্চ’। ওই গ্রামে অবস্থিত নার্গিস-নজরুল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে। একই গ্রামের দৌলতপুর পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের পূর্ব পাশে নার্গিস-নজরুল সংগীত নিকেতন সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে।

Comments

comments