ঢাকা, রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১২ : ২০ মিনিট

অলংকরণ: মাসুক হেলাল

অলংকরণ: মাসুক হেলাল

নির্বঘ্নে-নিশ্চিন্তে চলমান বালিকার জীবনে রুয়ানোর মতো হঠাৎ করেই এলো একটা ফোনকল। বালিকার একটু একটু করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসায় ঘটলো আকস্মিক ছন্দ পতন।  ঠিক একমাস আট দিন আগে যে একটা নাম্বার থেকে আসা ফোন কলের জন্য অপেক্ষায় অবলিলায় ভাসিয়ে দিত ঘন্টার পর ঘন্টা আর যে একটা ফোন কল হয়ে দাঁড়িয়েছিল তার সমস্ত আনন্দের কেন্দ্র। আজ সেই একই নাম্বার থেকে আসা ফোনকলই যেন তছনছ করে দেয় বালিকার নতুনভাবে বাঁচার চাওয়ার সমস্ত প্রচেষ্টা।

হ্যাঁ! বালক ফিরে এসেছে অবশেষে। নাহ!  ঠিক ফিরে আসা নয়। বালক ফিরে আসতে চায়। আগের মতো করে নয়, আগের করা সমস্ত ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করে নতুন ভাবে, নতুন রূপে। সব ভুল বুঝতে পেরে, বালক আবার তার বালিকার হাসিমুখ ফেরত পেতে চায় নিঃশর্তে।

কি করবে বালিকা! নিজেও জানেনা। মুখে যতই বলুক সবই আজ অতীত কিন্তু স্বপ্ন কি কখনো অতীত হয়! একেকটা দিন যে মানুষকে ঘিরে বালিকা বুনেছিল জীবনের রংগীন নকশীকঁথা সে মানুষই অকারণে সূতোর একেকটা ফোঁড় ছিঁড়ে দিয়েছিল এক টানেই। যেন মুহূর্তের মধ্যে অর্ধবুনিত একটা রঙিন কাঁথা হয়ে দাঁড়ায় নিছক ক্ষতবিক্ষত একটা সাদা কাপড়।

কেবল বালকের সঙ্গেই পথ চলার এক অন্ধ প্রত্যাশায় নিজের ইচ্ছা,পছন্দ,ভালোবাসা, জীবন ধারন হাসিমুখে এক নিমিশেই বদলে ফেলেছিল বালিকা। জীবনের একমাত্র লক্ষ্যই যেন হয়ে গিয়েছিল বালক কি চায়,বালকের কি পছন্দ, তার কিসে আনন্দ ইত্যাদি ইত্যাদি। সবকিছুর পরেও বালকের অকারণ চলে যাওয়া পেছন থেকে নিশ্চুপ দেখেছে একা দাঁড়িয়ে।  পেছন থেকে ডাকতেই পারতো কিন্তু গুরুজনেরা বলেন ‘পিছু ডাকতে নেই,তাহলে অমঙ্গল হয়।’ তাই আর বালকের পিছু ডাকা হয়ে উঠেনি বালিকার, পাছে বালকের ভালো থাকায় ছেঁদ ঘটে।

আজ বালিকা একা পথ চলতে শিখে গেছে, শিখে গেছে কি করে বালকের শুভ সকাল না শুনেও সকাল শুরু করতে হয়,কি করে বালক দুপুরে খাবার কথা না বললেও খেতে হয় আর রাতে তার কন্ঠে সুইট ড্রিমস না শুনেও কি করে ঘুমাতে হয়। বালিকা বাস্তবতার কবরে সব মাটি চাঁপা দিয়ে নিজেকে ভালোবাসতে শিখে গেছে, শিখে গেছে কি করে কেবল নিজেকেই ভালোবাসতে হয়, ভালো রাখতে হয়। আর বালিকা তার “বালিকার” গন্ডি পেরিয়ে মূর্ত হয়েছে এক “মানবী” রূপে।

বালক বালিকাকে আজ আবারও ভুল বুঝল। দৃঢ় ভাবে প্রশ্ন করে-‘তোমার সব কিছু তবে এতোই ঠুনকো ছিল!’

বালিকা আজও উত্তরহীন। কী করে বালিকা দেখবে তার প্রতিটা দিনের অপেক্ষা। একটু একটু ভেঙ্গে যাওয়া, সেখান থেকে একটু একটু করে আবার বেঁচে উঠতে চাওয়া। বালিকা সে নিজেও তো একটা মানুষ। আত্মসম্মান থেকে আবেগকে কি করে বেশি প্রশ্রয় দিতো সে।

রাতদুপুরে যে বালক তাকে বিনা দোষে  মাঝপথে একা রেখে চলে যেতে পারে, তার হাতে কোন বিশ্বাসে আবার নিজেকে তুলে দিতো সে! বিশ্বাসের দরজায় কুঠারাঘাত করে ভালোবাসা সে পথে কি করে আসে! তাই বারবার বালিকার হৃদপিন্ডের সাইরেন এ বালকের জন্য মুহুর্মুহু বেজে উঠা ‘ভালোবাসি’ শব্দটি না বলে বলতে হলো ‘ভুলে যেও আমাকে।’

‘জন্মান্তর যদি মিথ্যে হয়, তবে ওই জেনো শেষ দেখা।
ভালোবাসি কেনো তোমায়, হবে না কখনো বোঝা’

আরও পড়ুন:
চৈত্র সংক্রান্তির গল্প-১

Comments

comments