ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১২ : ২৭ মিনিট

ছায়ানটরে রবীন্দ্র উৎসব শুরু হয় নৃত্যগীত দিয়ে। ছবি:  ছায়ানটের সৌজন্যে

ছায়ানটরে রবীন্দ্র উৎসব শুরু হয় নৃত্যগীত দিয়ে। ছবি: ছায়ানটের সৌজন্যে

‘বিপুল তরঙ্গ রে, সব গগন উদ্বেলিয়া-মগন করি অতীত অনাগত’ নৃত্যগীত দিয়ে দুই দিনের রবীন্দ্র উৎসবের আজ শেষ হলো। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের পছন্দের কিছু গান শোনায় ছায়ানটের রবীন্দ্রসংগীতশিল্পীরা।

রোববার উৎসবের শেষ দিনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘আমার রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক পর্বটি। যেখানে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের কথা এবং সঙ্গে তাঁর প্রিয় গানের পরিবেশনা। রবীন্দ্রনাথের গান কেন ভালো লাগে? এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, হিন্দুস্তানি সংগীতের সঙ্গে বাংলা গানের প্রধান পার্থক্য হিন্দুস্তানি গান সুরপ্রধান আর বাংলা গান বাণীপ্রধান। রবীন্দ্রনাথ এই বাংলা গানকে চরম উৎকর্ষে পৌঁছে দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ নিজেই বলেছেন, ‘আমি ধ্রুপদি গানের খাঁচাটা ভেঙেছি, বাসাটা রেখেছি।’ বাংলার বাউল, ভাটিয়ালি গানের স্পর্শ রয়েছে রবীন্দ্রনাথের গানে।

তাঁর কথার পরে একে একে প্রিয় মানুষের প্রিয় গান গেয়ে শোনান দেশের জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীতশিল্পীরা। এ টি এম জাহাঙ্গীর শোনান ‘ও আমার দেশের মাটি’। লাইসা আহমদ লিসা শোনান ‘তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা’, সত্যম কুমার দেবনাথ শোনান ‘জগতে আনন্দযজ্ঞে আমার নিমন্ত্রণ’। এ গানগুলো শেষ হলে আবারও আনিসুজ্জামানের কথার পরে ইলোরা আহমেদ গেয়ে শোনান ‘হৃদয়ে নন্দন বনে’, সুতপা সাহা শোনান ‘শাওন গগনে ঘোর ঘনঘটা’, সেঁজুতি বড়ুয়া ‘পুষ্প বনে পুষ্প নাই আছে অন্তরে’, সেমন্তী মঞ্জুরি ‘অধরা মাধুরী ধরেছি’, মহিউজ্জামান চৌধুরী গেয়ে শোনান ‘যেতে যেতে একলা পথে’। এ গানের মধ্য দিয়েই শেষ হয় এই পর্ব।
এ ছাড়া ছয়টি সম্মেলক গানের সঙ্গে ছিল ছায়ানটের নির্বাচিত শিল্পীদের নৃত্য। অতিথি দল হিসেবে দুটি সম্মেলক গানের জন্য উৎসবের দ্বিতীয় দিন যোগ দিয়েছে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখা। এর আগে দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানের সংগীত পর্ব শুরু হয় ছায়ানটের শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে ‘ধ্বনিল আহ্বান মধুর গম্ভীর’ এ গানের মধ্য দিয়ে। ‘তোমার আনন্দ ওই এল দ্বারে’ সম্মেলক কণ্ঠে এ গানে নৃত্য পরিবেশন করে শিল্পীরা। একক কণ্ঠে গান গেয়ে শোনান সৈকত মুখার্জি, মমি মঞ্জরি চৌধুরী, দীপ্তি দাশ, শিমু দে, অভয়া দত্ত, ঝুমা খন্দকার, সুমনা বিশ্বাস প্রমুখ। রাম বসুর কবিতা ‘ভাষণ’ আবৃত্তি করেন জহিরুল হক খান। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।
শনিবার ‘শুভ কর্মপথে ধর নির্ভয় গান’ আহ্বান নিয়ে শুরু হয়েছিল ছায়ানটের রবীন্দ্র উৎসব।

Comments

comments