ঢাকা, বৃহষ্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ০৭ : ০৯ মিনিট

 শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ির ভেতরের ভবন। ছবি: সংগৃহিত


শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ির ভেতরের ভবন। ছবি: সংগৃহিত

ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া শহরের সাথে জড়িয়ে আছে রবীন্দ্রনাথের ইতিহাসের অনেক কালময় স্মৃতি। যার অনন্য নিদর্শন রবীন্দ্র স্মৃতি বিজড়িত শিলাইদহের কুঠিবাড়ি। আর এই কুঠিবাড়িই হতে পারে আপনার আনন্দের অনন্য এক স্থান।

কবি নেই, কিন্তু রয়ে গেছে তার স্মৃতি। যার আঙিনায় কান পাতলে আজও শোনা যায় কবিগুরুর পায়ের আওয়াজ। বৃষ্টির তালে তালে গাইতে ইচ্ছে করে, আজি ঝড় ঝড় মুখরও বাদলও দিনের গান। পড়ন্ত বিকেলটাকে সাক্ষী করে রবীন্দ্রনাথের উত্তরসূরী হওয়ার স্বপ্ন দেখে গোঁটা বাঙালী। তাইতো এতো রবীন্দ্র ভক্তদের আনাগোনা এই কুঠিবাড়ি চত্তরে।

 শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ি। ছবি: সংগৃহিত


শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ি। ছবি: সংগৃহিত

বংশানুক্রমে জমিদারী পাবার পর রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহ আসেন ১৮৮৯ সালে। তিনি জমিদারী দেখার ফাঁকে ফাঁকে পদ্মার বুকে ভেঁসে বেড়াতেন তাঁর বজরা নিয়ে। পদ্মার ঢেউ খেলানো বাউন্ডারী প্রাচীরে ঘেরা কুঠিবাড়ির ছাদে বসে সূর্যোদয়, সূর্য্যা ও জ্যোৎস্না প্লাবিত প্রকৃতির শোভায় মুগ্ধ হতেন কবি। যা এখনো মুগ্ধ করবে আপনাকে। জমিদারী, গল্প, কবিতা, গান এর অনেকটা সময় কেটেছে এই শিলাইদহতে। গীতাঞ্জলি কাব্যের বেশির ভাগ কবিতাও কবি রচনা করেছিলেন এই শিলাইদহ বসে।
এছাড়া কুঠিবাড়িতে রয়েছে কবির নানা বয়সের সব ছবি। বাল্যকাল থেকে শুরু করে মৃত্যু শয্যার ছবি পর্যন্ত সংরক্ষিত রয়েছে এখানে। আছে কবির নিজ হাতের লেখা কবিতা, নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির ছবি ও সনদপত্র। কবির শয়ন কক্ষের পালঙ্ক, টেবিল, কাঠের আলনা, আলমারী, কবির ব্যবহৃত চঞ্চল ও চপলা নামের দুটো স্পিডবোট। এছাড়া রবীন্দ্রনাথের নিজের হাতে আঁকা বিভিন্ন ছবি ও কবিতা লেখা আর রবীন্দ্র মঞ্চ। যা আপনাকে পৌঁছে দিবে অন্যরকম এক স্বাপ্নিক জগতে।

 কুঠিবাড়ির পুকুরে রবীন্দ্রনাথের সময়ের আদলে তৈরি করা নৌকা ভাসিয়ে রাখা হয়েছে। ছবি: সংগৃহিত


কুঠিবাড়ির পুকুরে রবীন্দ্রনাথের সময়ের আদলে তৈরি করা নৌকা ভাসিয়ে রাখা হয়েছে। ছবি: সংগৃহিত

4যেভাবে যাবেন শিলাইদহ
কুষ্টিয়া শহর থেকে কুঠিবাড়ীর দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। গড়াই নদী পার হয়ে শিলাইদহ যেতে হবে কুঠিবাড়ী ভ্রমনে। স্থানীয় যাতায়াত ব্যাবস্থা হচ্ছে ভ্যান এবং রিক্সা। এছাড়াও শহর থেকে ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা বা আন্য যানবাহন ভাড়া করে নিয়ে যেতে পারেন। তবে নদী পার হয়ে ভ্যানে গেলে গ্রাম্য নয়ন ভরা মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন আপনি।

থাকা এবং খাওয়া:
থাকার জন্য শহরেই মানসম্মত অনেক হোটেল পাবেন আপনি। এর মধ্যে হোটেল রিভার ভিউ, গোল্ড ষ্টার, রাতুল, সানমুন, পালকী অন্যতম। আর খাওয়ার জন্য রয়েছে অসংখ্য রেস্টুরেন্ট। তার মধ্যে জাহাঙ্গীর হোটেল, শিল্পী হোটেল, শফি হোটেল, হোটেল খাওয়া-দাওয়া, মৌবন রেস্টুরেন্টসহ ৩টি ভাল মানের চাইনিজ রেস্টুরেন্ট।

লালন তীর্থভূমি ও অনান্য দর্শনীয় স্থান
কুষ্টিয়াতে এসে ঘুরে যাবেন অথচ জীবন দর্শনের প্রাণ পুরুষ ফকির লালন সাঁইয়ের মাজারে যাবেন না, তা তো হতে পারে না। এখানে আরও রয়েছে লালন একাডেমি, লালন মিউজিয়ামসহ লালন ভক্তদের গানের আসর। এরপর যেতে পারেন লাহিনীতে অবস্থিত মীর মশাররফ হোসেনের বাড়ি। কুঠিবাড়ি যেতেই অবশ্য পথিমধ্যে পড়বে এটি। একটু গেলেই দেখে আসতে পারেন কুমারাখালী শহরের অবস্থিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কাঙাল হরিণাতের বা¯Íভিটা ও এমএন প্রেস। ঘুরে দেখতে পারেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাসে যেতে হবে শহরের চৌড়হাস বা টার্মিনাল থেকে। রেইনউইক বাঁধ হচ্ছে কুষ্টিয়ার সকল শ্রেণি পেশার মানুষদের সবচেয়ে পছন্দের জায়গা। বিকেল হতে না হতেই শতশত মানুষ ভীড় জমায় এখানে। গড়াই নদীর অপরূপ দৃশ্য আসলেই মন কাড়ে সকলের। এছাড়াও শহরের ১০ তলা মার্কেট লাভলী টাওয়ার থেকে সেরে নিতে পারেন আপনার পছন্দের টুকিটাকি কেনাকাটা। মিরপুরে জাপানিদের ভগবানতুল্য জাস্টিস ড. রাধা বিনোদ পাল এবং বাংলার নীল বিদ্রোহের অন্যতম নারী প্যারী সুন্দরীর বাড়িতে।

ইমাম মেহেদী, কুষ্টিয়া

Comments

comments