ঢাকা, সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮ | ১১ : ৩৮ মিনিট

Pahartali-European-Clubআমাদের সমাজ ব্যবস্থায় মেয়েরা ঘরে কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক মনে করা হয়। মেয়েরাও যে সমাজে বিরাট ভুমিকা রাখতে পারে। এটাই দেখিয়েছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রথম বিপ্লবী নারী নেত্রী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ।

তিনি প্রীতিলতা ওয়াদ্দের নামেও পরিচিত। প্রীতিলতাও ছিলেন অন্যান্য মেয়েদের মত অন্তর্মুখী, লাজুক এবং মুখচোরা স্বভাবের। তিনি ছেলেবেলায় ঘর গোছানো, বাঁটি ধোওয়া, বাসন মাজা ইত্যাদি কাজে মাকে সাহায্য করতেন। সে সময় কিছু বিপ্লবী তরুণ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে জড়িত হয়ে ছিল। প্রীতিলতার দাদা পূর্ণেন্দু দস্তিদার ছিলেন তাদের মধ্যে একজন।

তৎকালিন সময়ে সরকার কিছু বই বাজেয়াপ্ত করেছিল। দেশের কথা, বাঘা যতীন, ক্ষুদিরাম, কানাইলাল এই বইগুলো প্রীতিলতা সংরক্ষণ করে গোপনে পড়েছিলেন। ওই সমস্ত বই পড়ে তিনি বিপ্লবী আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। তারপর তার দাদার কাছে বিপ্লবী সংগঠনে যোগ দেওয়ার গভীর ইচ্ছা পোষণ করেন। সে সময় কোনো নারী সদস্য বিপ্লবী দলে অংশগ্রহণ করাটা ছিল খুবেই কঠিন। এমনকি নিকট আত্মীয় ছাড়া অন্য কোনো মেয়েদের সাথে মেলামেশা করাও বিপ্লবীদের জন্য নিষেধ ছিলো।

যখন তিনি ঢাকায় পড়তে আসেন তখন “শ্রীসংঘ’’ নামে একটি বিপ্লবী সংগঠন করে ছিলেন। এই শ্রীসংঘের “দীপালি সংঘ’’ নামে মহিলা শাখা ছিল। সংগঠনটি নারী শিক্ষা প্রসারে কাজ করত। গোপনে তাঁরা মেয়েদেরকে বিপ্লবী হওয়ার জন্য কাজও করত। পরবর্তীকালে তিনি লিখেছিলেন,  ‘আই এ পড়ার সময় আমি নিজেকে মাষ্টারদার উপযুক্ত কমরেড হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়েছি।’

বানারসী ঘোষ স্ট্রীটের হোস্টেলের ছাদে কলেজের মেয়েদেরকে বাঁশী শুনিয়ে মুগ্ধ করতেন। তিনি যখন সেচ্ছাআত্মহুতি দেন তাঁর আগে মাযের কাছে লিখেছিলেন, ‘ মাগো অমন করে কেঁদো না, আমি যে সত্যের জন্য, স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতে এসেছি, তুমি কি তাতে আনন্দ পাও না? কী করব মা? দেশ যে পরাধীন! দেশবাসী বিদেশীর অত্যাচারে জর্জরিত! দেশমাতৃকা যে শৃঙ্খলভাবে অবনতা, লাঞ্ছিতা, অবমানিতা! তুমি কি সবই নীরবে সহ্য করবে মা? একটি সন্তানকেও কি তুমি মুক্তির জন্য উৎসর্গ করতে পারবে না? তুমি কি কেবলই কাঁদবে?’’

তিনি ১৯৩২ খিষ্টাব্দে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব দখলের সময় তিনি ১৫ জনের একটি বিপ্লবী দল পরিচালনা করেন। এই ক্লাবটিতে একটি সাইনবোর্ড লাগানো ছিলো “কুকুর এবং ভারতীয়দেও প্রবেশ নিষেধ’’ প্রীতিলতার দলটি ক্লাবটি আক্রমণ করে এবং পরবর্তীতে পুলিশ তাঁদের আটক করে। পুলিশের হাতে আটক এড়াতে প্রীতিলতা সায়ানাইড গলধঃকরণ করে আত্মহত্যা করে। তিনি হয়তো আজ আমাদের মাঝে নাই । কিন্তু তার বিপ্লবী চেতনা সমস্ত নারীকে সবসময় উজ্জীবিত করে এবং করবেই।

অনিক সাহা : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

Comments

comments