ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ০৭ : ২৮ মিনিট

অলংকরণ : তুলি

অলংকরণ : তুলি

কান পরিস্কারের ক্ষেত্রে আমরা সচরাচর কি করে? যখন দেখি কানের চুলকানোর যন্ত্রণায় থাকতে পারা যাচ্ছে না। তখনেই কাছে যাই পাই তা দিয়ে চুলকায়। হতে পারে দেশলাই কাঠি, চুলের ক্লিপকান, চাবি দিয়ে, সেফটিপিন, কলম থেকে কটন বাডসহ নানা কিছু । চুলকানোর পর মনে হয় কী শান্তি! আসলে কি আমরা শান্তি পাই?

সেই সময় হতো চুলকানির যন্ত্রণা থেকে কিছুটা মুক্তি মেলে কিন্তু এই চুলকানি যে কী ভয়কর হতে পারে!

বিশেষ করে আর্দ্রতার কারণে কটন বাডের প্যাকেট খুলে রাখলে সেখানে ছত্রাক জন্মাবে। সেটি ব্যবহার করলে কানে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে৷ কান পরিস্কার করতে গেলে কোনো কারণে আঘাত লাগতে পারে। এমন কি কানের পর্দা ছিঁড়ে যেতে পারে৷ কানের কোনও অসুখের জন্য কান চুলকায়, তবে কটন বাডের ব্যবহার অসুখের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

তাহলে কী উপায়?
* প্রাকৃতিকভাবেই কানের নিজস্ব কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে, যার মাধ্যমে কান পরিষ্কার হয়৷ তাই কোনো কারণে কানে কোনো সমস্যা হলেও কটন বাড দিয়ে কান পরিষ্কার করার কোনো প্রয়োজন নেই৷
কটন বাড ব্যবহারে কী সমস্যা হতে পারে?
*  যাঁরা কটন বাডের মাধ্যমে কান পরিষ্কার করে থাকেন, তাঁদের প্রাকৃতিকভাবে কান পরিষ্কার হওয়ার পদ্ধতিটি বাধাগ্রস্ত হয়৷
*  কয়েক দিন আগে খুলে রাখা প্যাকেট থেকে কটন বাড বের করে নিয়ে ব্যবহার করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ৷ আমাদের দেশে আর্দ্রতার প্রভাবে প্যাকেট খুলে রাখা কটন বাডে ছত্রাক জন্মায়, সেটি কানে ব্যবহার করলে কানে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে৷
*  কান পরিষ্কার করার সময় কোনো কারণে হঠাৎ চমকে উঠলে অসতর্কতাবশত কানে কটন বাডের আঘাত লাগতে পারে৷
* কটন বাড দিয়ে কান অহেতুক খোঁচাখুঁচির ফলে কানে আঘাত লাগতে পারে নিজের অজান্তেই, এমনকি ছিঁড়ে যেতে পারে কানের পর্দাও৷
* যদি কানের কোনো অসুখের কারণে কান চুলকায়, তাহলে কটন বাড ব্যবহারের কারণে অসুখের মাত্রা বেড়েও যেতে পারে৷

যা করা উচিত, উচিত না

* প্রথমত কোনে কারণ ছাড়াই কান পরিষ্কার করা উচিত নয়।
* প্রাকৃতিকভাবেই কানের নিজস্ব কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে, যার মাধ্যমে কান পরিষ্কার হয়৷
* ত্বকের মৃত কোষ ও বাইরের ধুলোময়লা মিলে তৈরি হয় কানের খোল বা ওয়াক্স। খোল পরিস্কার করা উচিত হয়।এটা প্রকৃতিভাবে পরিস্কার হয়ে যাই।
* তেলের ব্যবহার করা যেতে পারে।
* হেড ফোন শেয়ার না করা উচিত নয়।
* ধূমপান করা উচিত নয়।
* কানে কোনো সমস্যা দেখা গেলে কানের চিকিৎসকের পরামর্ নেওয়া।

Comments

comments