ঢাকা, সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮ | ১১ : ৩৬ মিনিট

April 8th, 2016

123গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় গুলশানের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে  অণিমা মুক্তি গোমেজের একক লোকসংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভাওয়াইয়া ও ভাটিয়ালীর পাশাপাশি লালন সাঁই, হাসন রাজা, রাধারমণ দত্ত, বিজয় সরকার, জসীমউদ্‌দীন, শাহ আবদুল করিম প্রমুখের গান পরিবেশন করে উপস্থিত সবাইকে মাতিয়েছেন তিনি।

লালনের ‘বাড়ির কাছে আরশিনগর’ ও ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ দিয়ে গানের ঝাঁপি খোলেন শিল্পী। একে একে শোনান ‘ভেঙে মোর ঘরের চাবি’, ‘দেখেছি রূপসাগরে’, ‘পদ্মার ঢেউরে’, ‘কেন পিরিতি বাড়াইলা রে বন্ধু’, ‘আমার হাড় কালা করলাম রে’, ‘আমায় এত রাতে কেন ডাক দিলি’, ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’সহ বেশ কিছু গান।

বাংলাদেশ লোকসংগীত পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অণিমা মুক্তি গোমেজের জন্ম ঢাকার নবাবগঞ্জে। শৈশব থেকেই সংগীতের সঙ্গে বিশেষ করে পল্লীগীতির সঙ্গে অণিমার যুক্ত ছিলেন। সংগীতে তিনি প্রথম তালিম নেন নিজ গ্রামের শিল্পী মাংনা গাঙ্গুলির কাছে। এরপর নীনা হামিদ, কৃষ্ণকান্ত আচার্য, ইন্দ্রমোহন রাজবংশীর মতো শিল্পীর কাছে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএসএস, শিক্ষায় এমএড ডিগ্রি ছাড়াও সঙ্গীতে এমমিউজ ডিগ্রি করেছেন তিনি।

বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, বাংলাদেশ লোকসঙ্গীত পরিষদ, তারা মিউজিক অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে যুক্ত অণিমা। এ ছাড়া ‘বাস্তব’ নামের এনজিওর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। সংগীতে অবদানের জন্য অর্জন করেছেন বেশকিছু পুরস্কার। এর মধ্যে রয়েছে মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ঢাকা কালচারাল রিপোর্টার্স ইউনিটি ও ত্রিপুরা ফোক একাডেমির স্বীকৃতি।

অণিমা মুক্তি বিদেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উৎসবে বাংলাদেশের হয়ে অংশ নিয়েছেন। উজবেকিস্তানের ‘সেভেনথ ইন্টারন্যাশনাল মিউজিকেল ফেস্টিভ্যাল’-এ ৭০টি দেশের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন তিনি। এছাড়া মিলানের ‘এক্সপো ২০১৫’, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফোবানা ২০১৫’, কলকাতার ‘আব্বাস মেলা’ এবং অনুপ ঘোষালের সঙ্গে নিউইয়র্কের ‘বাংলাদেশ-ইন্দোকালচারাল ইভিনিং’-এ অংশ নেন। এছাড়া তিনি ভারত, নেপাল, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, পোল্যান্ড, আরব আমিরাত প্রভৃতি দেশে আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে সংগীত পরিবেশন করেছেন।

 

 

Comments

comments